আহসান এইচ মনসুরকে অপমানজনকভাবে অপসারণ করা হয়েছে: জামায়াত
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে ড. আহসান এইচ মনসুরকে অপসারণের প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেভাবে তাকে অপসারণ করা হয়েছে, তা একজন সম্মানিত ব্যক্তির জন্য জনসম্মুখে চরম অপমানজনক।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মো. মোস্তাকুর রহমানকে আগামী চার বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, 'বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও তার উপদেষ্টার মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের এভাবে অপমান করার অধিকার কারো নেই।'
শফিকুর রহমান দাবি করেন, গত বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে, তা বর্তমান সরকার সমর্থিত মব-কালচারের আনুষ্ঠানিক সূচনা। একে তিনি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'এমনিতেই ফ্যাসিবাদের নাগপাশে পড়ে দেশের অর্থনীতিতে চরম দুরবস্থা, সর্বস্তরে দুর্নীতির মহামারি, সাথে রয়েছে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট; তার পাশাপাশি যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তবে দেশের অর্থনীতির অবশিষ্টাংশও ধ্বংস হয়ে যাবে।'
রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও যোগ্য কর্মকর্তাদের নিশানা করা হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে আসা খবরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, এই বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সমাজের সকল স্তর থেকে প্রতিবাদ হওয়া উচিত।'
শফিকুর রহমান অনতিবিলম্বে এসব অপকর্ম বন্ধ করার দাবি জানান। সেই সঙ্গে দলীয় আনুগত্য নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশপ্রেমিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও নতুন গভর্নরের নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এই প্রক্রিয়াকে তিনি 'নির্লজ্জ ও অগণতান্ত্রিক' বলে আখ্যা দিয়েছেন।
গতকাল ঢাকায় এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, 'একজন ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীকে বসানোর উদ্দেশ্যে মব প্রেশার তৈরি করে গভর্নরকে অপসারণ করা হয়েছে। এটি জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।'
