নিষেধাজ্ঞার সাময়িক প্রত্যাহার: এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোতে তেল বিক্রির প্রস্তুতি ইরানের
চীনের বাইরে এশিয়ার অন্যান্য বড় ক্রেতাদের কাছে নিজেদের তেল বিক্রির প্রস্তাব দিতে শুরু করেছে ইরান। এরই মধ্যে দেশটি ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে দুই মাসের জন্য মওকুফ করার পর – এই পদক্ষেপ নিল তেহরান। এই মওকুফের আওতায়, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত মার্কিন ডলারের দিয়েও ইরানের তেল কেনা যাবে।
ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে গত রোববার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিকেল পণ্য ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন, সরবরাহ আর বিক্রির অনুমোদন দেয়, যার মেয়াদ থাকবে ২০২৬ সালের ২১ আগস্ট পর্যন্ত।
এই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি (এনআইওসি) এবং অন্যান্য তেল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের তেল শোধনাগারগুলোর (রিফাইনারি) সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে, এশিয়ার এই বড় তেল আমদানিকারক দেশগুলো গত কয়েক বছর ধরে ইরান থেকে কোনো তেল আমদানি করেনি। এই সময়ে ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল চীন; আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, চীনের শানডং প্রদেশের বেসরকারি তেল শোধনাগারগুলো, যারা মূলত 'টি-পট রিফাইনারি' নামেই পরিচিত।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা মওকুফ এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ইরানের তেল বিক্রির দুয়ার খুলে দিলেও, শোধনাগারগুলো এখনই ইরানি অপরিশোধিত তেল কিনতে খুব একটা তাড়াহুড়ো করছে না বলে ব্লুমবার্গের সূত্রে জানা গেছে।
এর প্রথম কারণ হলো, এই নিষেধাজ্ঞা মওকুফের মেয়াদ মাত্র দুই মাসের জন্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে এই সাধারণ লাইসেন্স বা অনুমতি যেকোনো সময় আকস্মিকভাবে বাতিলও হয়ে যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, এশিয়ার বেশিরভাগ তেল শোধনাগারে ইতিমধ্যেই অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কারণে সৃষ্ট ঘাটতি মেটাতে, গত তিন মাস ধরে এই শোধনাগারগুলো আমেরিকা এবং পশ্চিম আফ্রিকা থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
জ্বালানি-বিষয়ক তথ্য প্রদানকারী 'কেপলার'-এর রিফাইনিং সাপ্লাই অ্যান্ড মডেলিং খাতের প্রধান বিশ্লেষক সুমিত রিতোলিয়া ব্লুমবার্গকে বলেন, "নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মার্কিন নীতিতে যেখানে প্রতিনিয়ত ওঠা-নামা বা পরিবর্তন চলছে এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল, সেখানে এশিয়ার দেশগুলো ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সম্ভাবনা কম।"
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর বাইরে থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার পর—পারস্য উপসাগর থেকে এই জলপথ দিয়ে নিজেদের তেল বাইরে পাঠাতে কোনো সময় নষ্ট করছে না ইরান। একই সময়ে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির রূপরেখা নিয়েও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
