১০ বছরে ৭ প্রধানমন্ত্রী: ব্রিটেনে কেন এই অস্থিতিশীলতা?
লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বিখ্যাত চকচকে কালো দরজাওয়ালা ভবনটি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে প্রায় ৩০০ বছরের ইতিহাসে বহু রাজনৈতিক নেতার আবাসস্থল হয়েছে।
এই ভবনে উইনস্টন চার্চিল মোট নয় বছর বসবাস করেছিলেন। 'আয়রন লেডি' মার্গারেট থ্যাচার প্রায় ১২ বছর, অর্থাৎ ১৯৮০-এর দশকজুড়ে সেখানে ছিলেন। টনি ব্লেয়ার ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এক দশক ওই বাসভবনে ছিলেন।
কিন্তু গত ১০ বছরে ব্রিটিশ নেতারা যেন বাক্সপত্র গুছিয়ে রাখার আগেই পরবর্তী নেতার জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ২০১৬ সালের পর থেকে সাতজন প্রধানমন্ত্রী এই সরকারি বাসভবনে থেকেছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কীভাবে নির্বাচিত হয়
যুক্তরাজ্যের ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রের মতো সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না। বরং ভোটাররা নিজেদের নির্বাচনি এলাকার প্রতিনিধিত্বের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের সদস্য নির্বাচন করেন। সাধারণত যে দলের নেতা হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়, তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।
রাজনৈতিক দলগুলো অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে যেকোনো সময় তাদের নেতা পরিবর্তন করতে পারে, এমনকি তিনি প্রধানমন্ত্রী হলেও। যদি তিনি দলের পর্যাপ্ত সদস্যের আস্থা হারান, তবে তাকে সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। কোনো দলীয় নেতা পদত্যাগ করলে বা পদচ্যুত হলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদও হারান।
এই ব্যবস্থার ফলে সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে বদলানো সম্ভব। তবে ক্ষমতাসীন দল নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকে। যুক্তরাজ্যের আইনে সর্বোচ্চ প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ক্ষমতাসীন সরকার চাইলে তার আগেও নির্বাচন দিতে পারে।
সাধারণত কোনো সরকার যদি মনে করে সংসদে আরও বেশি আসন জিতে নিজেদের জনসমর্থন বাড়াতে পারবে, অথবা জনসমর্থন কমে যাওয়ার চাপ থেকে আগাম নির্বাচন আয়োজন করা হয়।
গত এক দশকে এমন ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। ফলে এক ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এখন প্রায় স্বাভাবিক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে জটিল বিচ্ছেদ
সবকিছুর শুরু সম্ভবত ব্রেক্সিট থেকে। ২০১৬ সালের বিতর্কিত গণভোটে ব্রিটিশ ভোটাররা অল্প ব্যবধানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন। এর ফলে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস শুরু হয়, যার প্রভাব এখনও অব্যাহত রয়েছে।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বে কনজারভেটিভ পার্টি ছয় বছর ধরে ক্ষমতায় ছিল। ২০১৫ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় ক্যামেরন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পুনর্নির্বাচিত হলে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদ নিয়ে গণভোট আয়োজন করবেন।
কনজারভেটিভরা নির্বাচনে জয়ী হয় এবং ক্যামেরন ডাউনিং স্ট্রিটে থেকে যান। কিন্তু গণভোট তার প্রত্যাশামতো হয়নি। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকার পক্ষে 'রিমেইন' শিবিরে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। নির্বাচনে জয় পেলেও গণভোটে তার সমর্থিত 'রিমেইন' শিবির পরাজিত হয়।গণভোটের ফল প্রকাশের পর ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।
ব্রেক্সিট কনজারভেটিভ পার্টির রাজনৈতিক ভিত্তিতেও বড় পরিবর্তন আনে। দীর্ঘদিনের অনেক সমর্থক ব্যবসাবান্ধব ও ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থী অবস্থান থেকে সরে গিয়ে জনতাবাদী ও ব্রেক্সিটপন্থী রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন।
একই সময়ে কনজারভেটিভদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টির দীর্ঘদিনের অনেক সমর্থক ব্রেক্সিট আন্দোলনকে সমর্থন করেন।
থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস ও ঋষি সুনাকের সময়কাল
'ভোট লিভ' প্রচারণা ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। তাদের বলা হয়েছিল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়লে অভিবাসন কমবে, অর্থনীতির উন্নতি হবে, দেশের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বিপুল অর্থ সহায়তা পাবে এবং ব্রিটেন নতুন জাতীয় দিকনির্দেশনা খুঁজে পাবে।
কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিঃসন্দেহে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলেছিল। কিন্তু ভোটাররা এর বদলে পেয়েছেন বছরের পর বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা।
এ কারণেই পতন ঘটে থেরেসা মের। ডেভিড ক্যামেরন সরে দাঁড়ানোর পর ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের দায়িত্ব তার ওপর বর্তায়। কিন্তু ব্রেক্সিট নিয়ে নিজের দলের ভেতরের বিভক্তির কারণে তিনি কার্যত বাধাগ্রস্ত হন। শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে চোখের জল নিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির নেতার পদ ছাড়েন এবং দলের আরেক সদস্যের জন্য জায়গা করে দেন।
বরিস জনসন তার প্রচারণার স্লোগান করেছিলেন 'গেট ব্রেক্সিট ডান' বা 'ব্রেক্সিট সম্পন্ন করো'। এই স্লোগান তাকে কনজারভেটিভদের যথেষ্ট সমর্থন এনে দেয় এবং তিনি দলের নেতৃত্ব লাভ করেন।
তবে ব্রেক্সিটের পর বারবার অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও জনসনের নীতির অধীনে দেশে প্রবেশকারী মানুষের সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়। এতে তার দল এবং সামগ্রিকভাবে ব্রিটিশ রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত জনসনের পতনের কারণ হয় তার নিজের কর্মকাণ্ড। কোভিড-১৯ সময়ে জারি করা নিজের একাধিক বিধিনিষেধ তিনি নিজেই ভঙ্গ করেন। এর মধ্যে লকডাউনের সময় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে একাধিক সামাজিক সমাবেশ আয়োজন ছিল অন্যতম। এই কেলেঙ্কারি দ্রুত 'পার্টিগেট' নামে পরিচিতি পায়।
চূড়ান্ত ধাক্কা আসে যখন জনসন যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এক কনজারভেটিভ রাজনীতিককে পদোন্নতি দেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পদত্যাগ করেন।
তার উত্তরসূরি লিজ ট্রাস ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্পমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়েন।
তার আলোচিত 'মিনি বাজেট'-এ অর্থের উৎস নির্ধারণ ছাড়া বড় ধরনের কর কমানোর প্রস্তাব ছিল। এতে আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং ব্রিটেনে মর্টগেজ ঋণের সুদের হার বেড়ে যায়। মাত্র ৪৫ দিন দায়িত্ব পালন করে ২০২২ সালের অক্টোবরে তিনি পদত্যাগ করেন।
ট্রাসের পর প্রধানমন্ত্রী হন ঋষি সুনাক। তিনি প্রায় দুই বছর দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে তীব্র হওয়া জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলায় তিনি উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে পারেননি। ১৪ বছর ধরে কনজারভেটিভ শাসনের পর ভোটারদের আরও এক মেয়াদের জন্য রাজি করাতে ব্যর্থ হন তিনি।
চাপ বাড়ছিল স্টারমারের ওপর
দীর্ঘদিনের বিরোধী দল লেবার পার্টি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় পায়। দলটির নেতা কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হন। তবে দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তার সরকার নানা চাপে পড়ে।
অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন, নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন এবং স্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছে লেবার সরকার।
স্টারমারের সরকার বিভিন্ন বিতর্কেও জড়িয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে বিতর্ক। দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের বন্ধু ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেন স্টারমার। এ বিষয়ে তিনি কী জানতেন, কখন জানতেন এবং কী জানতেন না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় নির্বাচনের ফলই স্টারমারের নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক স্থানীয় কাউন্সিল ও আঞ্চলিক পার্লামেন্টের আসনের নির্বাচনে লেবার পার্টি খারাপ ফল করেছে। জনমতের সূচক হিসেবে বিবেচিত এসব নির্বাচন অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মতো।
লেবার পার্টির সাম্প্রতিক খারাপ নির্বাচনি ফলের কারণে দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক পদত্যাগ করেছেন এবং কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
শুরুতে স্টারমার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তবে লেবার পার্টির অন্তত দুজন প্রভাবশালী প্রতিদ্বন্দ্বী স্পষ্ট করে জানান, তারা দলীয় নেতৃত্বের জন্য তাকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন। আর পার্লামেন্টে যে দলের আসন সবচেয়ে বেশি থাকবে, সেই দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হবেন। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত লেবার পার্টিই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে থাকবে।
এদিকে ব্রেক্সিটের অন্যতম রূপকার এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদর্শিক মিত্র নাইজেল ফারাজ এই রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়েছেন।
দুই প্রধান দলই ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করা ভোটারদের সামনে নিজেকে বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করেছেন তিনি। তার দল রিফর্ম ইউকে সাম্প্রতিক নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। এর মাধ্যমে দলটি ব্রিটিশ রাজনীতির প্রান্তিক অবস্থান থেকে মূলধারার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, গত এক দশকে ব্রিটেনে বারবার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের ঘটনা দেশটির ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক আনুগত্য এবং কার্যত দুই-দলীয় ব্যবস্থার দুর্বল হয়ে পড়ার ইঙ্গিত বহন করে। এই পরিস্থিতিতে জনঅসন্তোষকে পুঁজি করে নাইজেল ফারাজ ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতির আরও কেন্দ্রীয় ভূমিকায় উঠে আসতে পারেন।
জনমত গবেষণা প্রতিষ্ঠান মোর ইন কমনের যুক্তরাজ্য পরিচালক লুক ট্রাইল বলেন, '২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকে প্রতিটি নির্বাচন মূলত পরিবর্তনের পক্ষে ভোট ছিল। মানুষ বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামো ও ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কিন্তু প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি। আর এ কারণেই রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।'
কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ
নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের তীব্র চাপের মুখে অবশেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ ও ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে এক বিবৃতিতে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা দেন তিনি।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে স্টারমার বলেন, 'আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি কি না, এখন সেই প্রশ্নই তুলছে আমার দল।'
তিনি আরও বলেন, 'সংসদীয় দলের সেই প্রশ্নের জবাব আমি পেয়েছি এবং সসম্মানে তা মেনেও নিচ্ছি। ক্ষমতায় থাকাকালীন আমার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তের লক্ষ্যই ছিল নিজের ভালোবাসার দেশকে সবার আগে রাখা। সেই কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। আজ সকালেই মহামান্য রাজাকে আমার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছি।'
বক্তব্যের শেষের দিকে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী। সব পরিস্থিতিতে ঢাল হয়ে পাশে থাকার জন্য স্ত্রী লেডি ভিক্টোরিয়া স্টারমারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
ধরা গলায় স্টারমার বলেন, 'দেশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার পর এবার আমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেশি সময় দেব। আমার অসাধারণ স্ত্রী ভিকের জন্য সেরা স্বামী হয়ে ওঠার চেষ্টা করব। সেইসঙ্গে আমার গর্ব ও আনন্দের উৎস—সন্তানদের জন্য আরও ভালো বাবা হয়ে উঠতে চাই।'
স্টারমারের এই ঘোষণার পর সবার মনোযোগ এখন লেবার পার্টির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। দলের পরবর্তী উত্তরসূরি বেছে নিতে অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হবে নাকি কোনো পছন্দের নেতাকে সরাসরি দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিদায়ী ভাষণে কিয়ার স্টারমার বলেন, নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার জন্য তিনি দলকে অনুরোধ করবেন। আগামী ৯ জুলাই থেকে এই পদের জন্য মনোনয়ন জমা নেওয়া শুরু হতে পারে। তার কয়েক সপ্তাহ পরেই গ্রীষ্মকালীন অবকাশের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত হয়ে যাবে।
স্টারমার বলেন, 'ভোটপ্রক্রিয়া শুরু হলে আগামী সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্টের অধিবেশন পুনরায় চালু হওয়ার আগেই নতুন নেতা নির্বাচন পর্ব সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।' পাশাপাশি পরবর্তী নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান দেন স্টারমার।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দিকে। সম্প্রতি মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে বড় জয়ের পর লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম দাবিদার ও দলের 'স্বাভাবিক উত্তরসূরি' হিসেবে তার নাম উঠে আসছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। দলের অন্য কোনো বর্ষীয়ান নেতাও এই দৌড়ে শামিল হতে পারেন।
এই নেতৃত্ব বদলের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে ব্রিটিশ সরকারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বিশেষত জনমত সমীক্ষায় লেবার পার্টি যদি পিছিয়ে থাকে, তবে এই জটিলতা আরও বাড়বে। শেষপর্যন্ত বার্নহ্যামের পক্ষে দলের কতটা সমর্থন একাট্টা হয়, তার উপরেই নির্ভর করছে ক্ষমতার হস্তান্তর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে হবে, নাকি সরাসরি তাকেই দলনেতা বেছে নেওয়া হবে।
