৫ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০% উন্নীত করা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় সংসদে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর জন্য কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০% উন্নীত করা সম্ভব হবে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে এই হার ১৫% উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী সংসদে সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও তার উত্তরটি টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহ তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছর অনুযায়ী বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭.৩% থেকে ৮% মধ্যে, যেখানে নেপালের মতো ছোট অর্থনীতির দেশে এই হার প্রায় ২৩.১%। বাংলাদেশের এই পিছিয়ে থাকা পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, তা তিনি জানতে চান।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি 'মিডিয়াম অ্যান্ড লং-টার্ম রেভিনিউ স্ট্র্যাটেজি' গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তার পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, "রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর বিভাগের 'এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটালাইজেশন' কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া অনলাইনে উৎসে কর কর্তন ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় কর ছাড় ও কর অব্যাহতি কমিয়ে রাজস্ব ব্যয় হ্রাস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করদাতাদের সুবিধার্থে কর আইন সরলীকরণ করা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে কর ফাঁকির ঝুঁকি নির্ধারণ করা হচ্ছে। শিল্পখাতভিত্তিক গড় সূচক ব্যবহার করে ঝুঁকি-ভিত্তিক নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং করদাতার তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার কাজ চলছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করদাতাদের জন্য এআই ভিত্তিক অনলাইন সেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। একই সাথে কর আইন প্রতিপালনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত উত্তরে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল তুলে ধরে জানান, 'ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক ২০২৬' প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর ব্যয় যথা সম্ভব কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, বকেয়া রাজস্ব আদায়, মামলা নিষ্পত্তি, নিলাম কার্যক্রম, ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন এবং ডিফার্ড পেমেন্ট খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ে জোর দেওয়া হয়েছে। একই সাথে 'ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি ২০২৩' এবং 'কাস্টমস স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ২০২৪-২০২৮' পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আশা করি, এ সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে ৫ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০% উন্নীত করা সম্ভব হবে। অধিকন্তু, ২০৩৫ সালের মধ্যে এই অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে 'স্ট্রেনদেনিং ডোমেস্টিক রেভিনিউ মোবিলাইজেশন প্রজেক্ট' বাস্তবায়ন এবং কর অব্যাহতি পর্যায়ক্রমে যৌক্তিকীকরণের মতো বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।"
