জামায়াতের এমপিকে মাইক্রোওয়েভ দেওয়ার প্রস্তাব পার্থের, আপত্তি বিরোধী দলীয় নেতার
সংসদ সদস্যদের সরকারি বাসভবনে মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন ও পর্দার ব্যবস্থা করার দাবিকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর একজন সদস্যের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ওই সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রোওভেন দেওয়ার প্রস্তাব দিলে এর প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে আর বিতর্ক না করার আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব জনগণের সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরা। সেখানে একজন সংসদ সদস্যের মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন ও পর্দার মতো বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়া সংসদের মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, 'এ ধরনের বক্তব্য সংসদ ও সংসদ সদস্যদের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।'
পার্থ আরও বলেন, যদি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সত্যিই মাইক্রোওভেনের প্রয়োজন হয়, তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেটি দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ওয়াশিং মেশিনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।
এর আগে গত ১৭ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মু. মিজানুর রহমান সংসদ সদস্যদের সরকারি বাসভবনে মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন ও পর্দার ব্যবস্থা করার দাবি জানান। তিনি বলেন, "এসব সুবিধা সব সংসদ সদস্যের জন্য প্রয়োজন।"
আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য নিজের জন্য কিছু চাননি; তিনি সব সংসদ সদস্যের জন্য বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। কারও সম্মানে আঘাত না করে সংসদে বক্তব্য দেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "মাইক্রোওভেন উনার কাছে কে চেয়েছে যে তিনি দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন?"
দুই নেতার বাদানুবাদের প্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আর বিতর্ক হওয়া উচিত নয়। তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের আবাসনসংক্রান্ত সুবিধা দেখভালের জন্য 'হাউস কমিটি' রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বিষয় সেখানে উত্থাপন করা যেতে পারে।
স্পিকার বলেন, মিজানুর রহমান নিজের জন্য নয়, সংসদের সরকারি বাসভবনে বসবাসকারী সব সদস্যের জন্য বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। এটিকে গুরুতর কোনো অপরাধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, "যদিও সংসদে না বললেই ভালো হতো। এতে জনমনে ভিন্ন ধরনের ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। তবে বিষয়টি সদস্যদের প্রাপ্য সুবিধার মধ্যেও পড়তে পারে।" তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
