নির্বাচন যত দেরি হবে, বাংলাদেশ তত পিছিয়ে যাবে: মির্জা ফখরুল
নির্বাচন যত দেরি হবে, বাংলাদেশ তত পিছিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, নির্বাচন যত দেরি হবে, বাংলাদেশ তত পিছিয়ে যাবে। বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, উন্নয়ন থমকে যাবে। নির্বাচিত সরকারের চেয়ে শক্তিশালী কোনো সরকার হতে পারে না।
সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে নগরের পাঠানটুলা এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু কামনায় দোয় মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় ফখরুল বলেন, 'আমি পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, এমন অবস্থা চলতে থাকলে মবোক্রেসি আরও বাড়বে। বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। নারীরা নিরাপত্তা হারাবে। এই অবস্থার উন্নতির জন্য প্রয়োজন নির্বাচিত সরকার। যাদের পেছনে জনসমর্থন আছে।'
বিএনপি মহাসচিব গুম হওয়া নেতা ইলিয়াস আলী, সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত অর সাইফুর রহমানসহ গুম হওয়া গত গত ১৭ বছরে হতাহত ও নির্যাতিত নেতাদের স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, 'হাসিনা এমনি এমনি হঠাৎ করে পালায়নি; বহু খুন, বহু কান্না, বহু ত্যাগ স্বীকারে ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছি গণতন্ত্রের জন্য, বাক স্বাধীনতার জন্য। এখন সুন্দর ও গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার জন্য নতুন করে সংগ্রাম শুরু করেছে বিএনপি।'
তিনি আরও বলেন, 'আওয়ামী লীগ বড় বড় কথা বলে কিন্তু শেখ মুজিব বাকশাল করে একদলীয় শাসন কায়েম করেছিল। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেছিল। সেই অবস্থা থেকে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।'
মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা গণতান্ত্রিক দেশ চাই, কর্মসংস্থান, উন্নত রাষ্ট্র গঠনে ৩১ দফা বাস্তবায়ন চায় বিএনপি। ৩১ দফার মধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। বিএনপির নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।'
দেশ গঠন সহজে হবে না, শত্রু অনেক উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'আমাদের বিরুদ্ধে কেউ যেন অপপ্রচার চালাতে না পারে। কেউ যেন বলতে না পারে বিএনপি খারাপ কাজ করে, চাঁদাবাজি করে, জমি দখল করে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।'
জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, 'আমরা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছি, ভোটাধিকারের জন্য আন্দোলন করেছি। ১৭ বছরের আন্দোলনের ফলে সরকারের পতন ঘটেছে। হাসিনা চলে গেছে। কিন্তু হাসিনার দোসররা এখনও দেশ ছাড়ে নাই। তারা এখনও ষড়যন্ত্র করছে।'
তিনি বলেন, 'প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে শেখ হাসিনার লোকেরা এখনও রয়ে গেছে। একেবারে সচিবালয় থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত। তারা চাচ্ছে না বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। চাচ্ছে না দেশে গণতন্ত্র ফিরুক। আর আরেক শ্রেণির লোক আছে, ক্ষমতায় বসে তারা নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছে। নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে।'
ভোটাধিকারের দাবিতে আবার আন্দোলনে নামার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'সরকারের অনেক আমলারা যা বলছে, তাতে নির্বাচন করতে পারবে বলে মনে হয় না। কিন্তু বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন আদায় করে ছাড়বে। বাংলাদেশের জনগণ গত ১৭ বছর যেভাবে আন্দোলন করেছে, প্রয়োজনে ভোটের অধিকারের জন্য আবার আমরা আন্দোলন নামবে।'
পিআর পদ্ধতি কি তা বাংলাদেশের জনগণ বোঝে না তা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, 'এখন একেক রাজনৈতিক দল এখন একেক কথা বলছে। আবার একই দল একেক সময় একেক কথা বলছে। একবার বলছে- নির্বাচন হবে, আবার বলছে- এই অবস্থায় নির্বাচন সম্ভব না। আবার কখনো বলে- পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। এই নাম [পিআর] বাংলাদেশের লোক কখনো শুনে নাই। কাকে পিআর পদ্ধতি বলে তা বাংলাদেশের মানুষ শুনে নাই।'
যারা পিআর পদ্ধতির কথা বলছেন তারা এই বিষয়ে জেনে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের মানুষ যে পদ্ধতিতে নির্বাচনে অভ্যস্ত সেই পদ্ধতিতেই নির্বাচন হবে।'
যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ডা. এজেড জাহিদ হাসান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, তাহসীনা রুশদীর লুনা, সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গৌছ প্রমুখ।
