জরুরি সেবায় আসা গাড়ি কক্সবাজারে প্রবেশকালেই জীবাণুমুক্ত করে দিচ্ছে সেনাবাহিনী
বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো মাঠে আছে সেনাবাহিনী। এরই অংশ হিসেবে মার্চের শেষ সময় থেকে বেসমারিক প্রশাসনকে সহায়তায় কক্সবাজারের মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছে সেনাবাহিনী রামু ১০ পদাতিক ডিভিশন। কক্সবাজারের পাশাপাশি চট্টগ্রামের ৪টি উপজেলায়ও একইভাবে কাজ করছেন সেনাসদস্যরা।
৮ এপ্রিল থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। লকডাউনের পর থেকে সেনাসদস্যরা দিন-রাত খাটছেন। ইতোমধ্যে কক্সবাজার সরকারি মেডিকেল কলেজে স্থাপিত ল্যাবে শুরু হয়েছে করোনাভাইরাস পরীক্ষা। গত ২১ দিনে প্রায় ৫০০ লোকের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গেল তিন সপ্তাহের পরীক্ষায় ৫ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি মিলেছে। এরপর থেকে কক্সবাজারের বাইরের লোকজনের প্রবেশ ঠেকাতে কঠোরভাবে কাজ করছে প্রশাসন।
কক্সবাজারে প্রবেশমুখ লোহাগাড়া-চকরিয়া সীমানায় সেনাসদস্যরা অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কিন্তু জরুরি মালামাল নিয়ে আসা যানবাহনগুলো বাধ্য হয়ে প্রবেশ করাতে হচ্ছে জেলায়। এসব গাড়ির গায়ে লেগে যেন করোনাভাইরাস জেলায় প্রবেশ না করতে পারে, সেকারণে গাড়িগুলোকে জীবাণুমুক্ত করে দিচ্ছে সেনাবাহিনী। এ লক্ষ্যে সীমান্ত প্রবেশদ্বারে বিশেষায়িত একটি বুথ নির্মাণ করেছেন তারা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বুথের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী। এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ উদ্ধর্তন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ সঙ্গে ছিলেন।
নিরাপত্তার এ বলয় সৃষ্টির পাশাপাশি কক্সবাজার এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অসহায় মানুষদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি।
সেনাদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে দেশের ক্রান্তিলগ্নে সেনাসদস্যদের নিরলস কাজের প্রশংসা এবং কঠিন এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনগণকে আশ্বস্থ করা ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোতে টহলরত সেনাদের বিশেষ নির্দেশনা দেন তিনি।
সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় 'আপনার সুস্থতাই আমাদের কাম্য'- এ প্রতিপাদ্যে সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের জন্য নির্ধারিত রেশনসামগ্রীর একাংশ বাঁচিয়ে খেটে খাওয়া, হতদরিদ্র, কর্মহীন মানুষের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম করা হয়েছে। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ ও আটা। লকডাউন পরিস্থিতিতে ঘরবন্দি মানুষের সংকট দূর করতেই সেনাবাহিনী এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানায় ওই সূত্র।
