চট্টগ্রামে আক্রান্ত একজন, চিকিৎসক ও নার্সসহ ২৩ জন কোয়ারেন্টিনে
চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার আগে ওই রোগী নগরীর বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হয়েছিলেন। এ ঘটনায় ওই হাসপাতালের তিন চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফসহ মোট ২৩ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী। শনিবার সকালে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সিভিল সার্জন জানান, করোনাভাইরাস পজিটিভ হওয়া ওই রোগী এর আগে ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তাই সেখানকার তিনজন চিকিৎসক, নার্সসহ মোট ২৩ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। তবে পুরো হাসপাতাল লকডাউন করার কোনো প্রয়োজন নেই।
ন্যাশনাল হাসপাতালের লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার বাবুল হাসান বলেন, ২০ জন নার্স ও স্টাফ এবং তিনজন চিকিৎসক ওই রোগীকে আইসিইউতে সেবা দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের নির্দেশে তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত চলবে এ কোয়ারেন্টিন। এ সময় তাদের বেতন ভাতা চালু থাকবে।
এর আগে, শুক্রবার চট্টগ্রামের বিআইটিআইডি'তে ৩২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে একজনের শরীরে করোনাভাইরাস রয়েছে বলে শনাক্ত হয়। ষাটোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি হাঁপানি ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই দামপাড়া এলাকায় তার বাড়ি লকডাউন করে কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, ওই রোগী বিদেশ ফেরত নন। তবে তার ছেলে ও ছেলের বউ হজ করতে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। ফিরেছেন ১২ মার্চ। তাদের সংস্পর্শে এসে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রামের আক্রান্ত ব্যক্তিটি জেনারেল হাসপাতাল আসার আগে আরও দুটি ক্লিনিক সেবা নিতে গিয়েছিলেন।
রোগীর আত্মীয়ের বাড়িও লকডাউন
আক্রান্ত ওই ব্যক্তির আত্মীয়ের বাড়িসহ আশেপাশের পরিবারগুলোকেও লকডাউনে রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ও চন্দনাইশ উপজেলার বাড়িগুলো এ লকডাউনের আওতায় রাখা হয়েছে।
সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর এ আলম জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই বাড়িগুলো লকডাউন করে দেওয়া হয়। ওই বাড়ির সব সদস্যকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাড়ির বাইরে না যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, চন্দনাইশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, দামপাড়ার করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির এক আত্মীয়ের বাড়ি চন্দনাইশে। খবর পেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা ওই বাড়িটি লকডাউন করে দিয়েছি।
