কনটে সিজেপির ‘তিরঙ্গা’ কর্মসূচি কাল, ‘প্রশাসনিক কারণে’ সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ ঘোষণা কর্তৃপক্ষের
ভারতের দিল্লির কনট প্লেসে আগামী ১৬ অক্টোবর 'লেহরা দো তিরঙ্গা' কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এ কর্মসূচি বন্ধের নির্দেশ দিতে রাজি হননি দিল্লি হাইকোর্ট। তবে বিক্ষোভের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে 'সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা' নেওয়া হবে বলে আদালতকে আশ্বস্ত করেছে দিল্লি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে করা একটি আবেদনের শুনানি হয়। বার অ্যান্ড বেঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পালিকা বাজারের লাইসেন্সধারী এক রাস্তার বিক্রেতা অনিল কুমার গুপ্ত আবেদনটি করেন। তার আশঙ্কা, কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে বিক্ষোভ হলে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হতে পারে। এতে ব্যবসায়ী ও সেখানে কাজ করা অন্য ব্যক্তিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
শুনানিতে দিল্লি পুলিশ জানায়, আবেদনকারীর আশঙ্কার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক আগামী ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি)। প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'প্রশাসনিক কারণে ২০২৬ সালের ১৬ ও ১৭ অক্টোবর কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ থাকবে।' এনডিএমসির পরিচালক এ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। দুই দিনের বন্ধ শেষে পার্কটি আবার জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
সদস্যদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তিরঙ্গা মিছিলের ডাক সিজেপির
আগামী ১৬ অক্টোবর দেশজুড়ে 'লেহরা দো তিরঙ্গা' কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জড়ো হতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দলের সদস্য সৌরভ দাস ও অশুতোষ রানকার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।
দীপকে বলেছেন, জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। একই সঙ্গে দেশের অন্য শহরগুলোতেও এ ধরনের সমাবেশ আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। হিন্দুস্তান টাইমসের আগের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার কারণে তাকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দীপকে।
দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এক দিন পর সেখানে প্রবেশের অভিযোগে সৌরভ দাস ও অশুতোষ রানকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠিয়ে তিহার কারাগারে রাখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে সিজেপির কর্মী অজিঙ্কা শিন্দেকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের সময় সিজেপির সদস্যরা স্লোগান দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ হিসেবে পুলিশ অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং শান্তি বজায় রাখার মুচলেকার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে।
১৬ অক্টোবরের বিক্ষোভ বন্ধের দাবিতে করা আবেদনে বলা হয়েছে, সেন্ট্রাল পার্ক সরকারিভাবে নির্ধারিত কোনো বিক্ষোভস্থল নয়। সেখানে সমাবেশ হলে যান চলাচল, মানুষের চলাচল এবং কনট প্লেসের ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে উৎসবের সময়ে এ ধরনের সমাবেশে সমস্যা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেয়। এর পরিবর্তে বিক্ষোভের জন্য রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি ময়দান নির্ধারণ করা হয়।
সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যে নতুন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি।
নির্বাচন কমিশন অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি বলেছে, ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে না। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, এসআইআর প্রক্রিয়ার কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি আপত্তি জানিয়েছিলেন। এরপর এ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়।
বিরোধী দল, সিজেপি, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), বিভিন্ন আন্দোলনকর্মী ও কৃষক সংগঠন এসব বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
নেহা বোরাসহ বিরোধী নেতা ও আন্দোলনকর্মীরা আটক
গত ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে যেতে বিক্ষোভকারীদের বাধা দেয় পুলিশ। পরে মিছিল নিয়ে দিল্লি হাটের দিকে যাওয়ার সময় আইএনএ মার্কেটের কাছে এআইএসএর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করা হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে আরও কয়েকজন পরিচিত বিরোধী নেতা ও আন্দোলনকর্মীকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং আন্দোলনকর্মী যোগেন্দ্র যাদব।
ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও তার বাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই দিন ১০ অক্টোবর দিল্লিতে পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজ থেকেই সিজেপির নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও অশুতোষ রানকাকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযানে দিল্লিজুড়ে হাজারো বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিককে আটক করা হয়।
