যন্তর মন্তরে প্রবেশের ‘অপরাধে’ দুই শীর্ষ নেতার ৫ দিনের কারাদণ্ড; ‘কাপুরুষোচিত কৌশল’, বললেন ককরোচ পার্টির প্রধান দীপকে
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস মঙ্গলবার বর্তমানে সাধারণ বিক্ষোভের জন্য নিষিদ্ধ যন্তর মন্তর এলাকায় অনুমতি ছাড়াই প্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন, তাদের ৫ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। তাদের তিহার জেলে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তারের আওতায় আনার পর দিল্লি পুলিশ বুধবার সকালে তাদের মন্দির মার্গের স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে পেশ করে।
প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার পুলিশকে কোনো জামিনঅযোগ্য অপরাধ বা শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ রোধ করার লক্ষ্যে বিনা পরোয়ানায় কোনো ব্যক্তিকে আটক করার ক্ষমতা দেয়।
আশুতোষ ও সৌরভের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া সিজেপি নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে বলেন, 'আপনারা হয়তো জানেন আশুতোষ, 'সৌরভ দাস এবং আমি, সিজেপি-র স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যন্তর মন্তরে গিয়েছিলাম। আমরা কেবল ভারতের জাতীয় পতাকা নেড়েছিলাম এবং 'ভারত মাতা কি জয়' স্লোগান দিয়েছিলাম। এই অপরাধেই একনায়কতান্ত্রিক মোদী-শাহ সরকার সৌরভ ও আশুতোষকে পাঁচ দিনের জন্য জেলে পাঠিয়েছে। আজ আশুতোষের জন্মদিন ছিল, আর তার জন্মদিনের দিনই 'ভারত মাতা কি জয়' স্লোগান দেওয়া এবং তেরঙ্গা পতাকা নাড়ার অপরাধে তাকে জেলে পাঠানো হলো।'
শান্তি ভঙ্গ হতে পারে এমন কোনো কার্যকলাপে এক বছর অংশ না নেওয়ার শর্তে ৫ হাজার রুপির বন্ডের বিনিময়ে শিন্ডেকে মুক্তি দেওয়া হয়। সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন: 'আশু এবং সৌরভকে ৫ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের অপরাধ কী? যন্তর মন্তরে পতাকা উত্তোলন করা। কিছু তো সাহস দেখান, নরেন্দ্র মোদি। আপনারা যদি ভিন্নমত দমনে এতটাই বদ্ধপরিকর হন, তবে এই কাপুরুষোচিত কৌশলের আড়ালে লুকিয়ে না থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার সাহস দেখান।'
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি এবং নির্বাচনী সংস্কারের আহ্বানে সিজেপি এবং বিরোধী দলগুলো পুরো ভারতজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ পরিচালনা করছে। তারা জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে থাকা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ন করা এবং ভোটার তথ্যের সুরক্ষা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলোকে উপেক্ষা করার অভিযোগ এনেছে।
ঘটনাস্থলে প্রবেশের পথ বের করার জন্য সিজেপি সদস্যরা সোমবার রাতে এলাকাটিতে আগে থেকে একটি পর্যবেক্ষণ চালিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। যন্তর মন্তর রোডের উভয় পাশেই পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। তবে সূত্র জানায়, জনপথ লেনের সঙ্গে যুক্ত সংকীর্ণ গলিটিতে মূল প্রবেশপথগুলোর তুলনায় নিরাপত্তা কিছুটা শিথিল ছিল।
মঙ্গলবার সকালে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস এবং অজিঙ্ক শিন্ডেসহ ১৪ জনের একটি দল যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর জন্য উক্ত গলিটি ব্যবহার করে জেডি-ইউ কার্যালয় প্রাঙ্গণে যায় এবং এর তালাবদ্ধ লোহার গেট টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ উঠে। সেখানে আটক হওয়ার আগে তারা জাতীয় পতাকা উন্মোচন করে এবং স্লোগান দেয়।
সৌরভ, রাঙ্কা এবং শিন্ডেসহ সিজেপি-র ১৪ জন সদস্যকেই আটক করে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে জাফরাবাদ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সিজেপি জানিয়েছে তাদের ফোনগুলো কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
এর আগে ১০ অক্টোবর এক আন্দোলনে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান থেকেই সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের সঙ্গে রাঙ্কা ও দাসকে আটক করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপির জামানত ও বন্ড এবং আগামী এক বছর জনপ্রশান্তি বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হওয়ার শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়।
