‘ভারতের লজ্জা মোদি’: এক বছর শান্তিভঙ্গ না করার ‘প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে মুক্তির পরই প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনায় ‘ককরোচ’-প্রধান দীপকে
প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকারের সমালোচনা করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি 'ভারতের লজ্জা'।
মোদির মতো 'কাপুরুষ' ও 'জুলুমবাজ' দেশ আগে কখনও দেখেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার সকালে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে মুক্তি পান দীপকে। এর কিছুক্ষণ পরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ তিনি লেখেন, 'প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি গোটা ভারতের জন্য লজ্জা। এই দেশ আগে কখনও এমন কাপুরুষ ও জুলুমবাজ দেখেনি।''
শনিবার দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ।
এ ঘটনার পর রোববারও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ডাক দিয়েছে সিজেপি। দুপুর ২টায় দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে দলটি।
শনিবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতেই দীপকে ও সিজেপির দুই সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। রোববার প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা পর একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন।
মুক্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন দীপকে। তবে সিজেপির আইন বিষয়ক জানান, 'আগামী এক বছর শান্তিভঙ্গ করতে পারবেন না'—এমন শর্তে আদালত তাদের মুক্তি দিয়েছে।
শনিবার দিল্লিতে উড়োজাহাজ অবতরণের কয়েক মিনিটের মধ্যে উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই আটক করা হয় এই তিনজনকে।
এদিকে রোববারও মধ্য দিল্লি পুরোপুরি সিল করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তর বন্ধ রয়েছে, দিল্লির সীমান্তজুড়ে দেওয়া হয়েছে দুর্ভেদ্য ব্যারিকেড। এছাড়া অন্তত ৩০টি পয়েন্টে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে যান চলাচল। শনিবার প্রায় ৭ হাজার মানুষকে আটকের পরও সিজেপি ফের রাস্তায় নামার ঘোষণা দেওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।
অভিজিৎ দিপকে আটক হওয়ার পর আন্দোলনের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল সিজেপি নেতা অজিঙ্কা শিন্দের হাতে। তিনি বলেছেন, আন্দোলন থামবে না। রোববার তারা আবার যন্তর মন্তরে পৌঁছনোর চেষ্টা চালাবেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সড়বেন না।
শিন্দে বলেন, 'সরকার ভেবেছিল অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস আর আশুতোষ রানকাকে আটকে রাখলেই আমরা পিছিয়ে যাব। কিন্তু ভুল ভাবছে। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের লড়াই থামবে না।'
