কুতুবজোমে ১৩ হাজার কোটি টাকার ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাবে সায় দেয়নি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি
কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়নি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। পরে প্রস্তাবটি বৈঠক থেকে প্রত্যাহার করে নেয় জ্বালানি বিভাগ।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। তবে এটি অনুমোদনের জন্য বিবেচনা করা হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, কুতুবজোমে এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য চীনের প্রতিষ্ঠান 'চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড' দরপত্র জমা দিয়েছিল। প্রকল্পটির ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। আর ২০ বছর মেয়াদে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।
প্রতিষ্ঠানটিকে সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে বিবেচনা করে প্রস্তাবটি কমিটির বৈঠকে তোলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা অনুমোদন পায়নি।
দেশে গ্যাসের সংকট ও চাহিদার ঘাটতি মেটাতে মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। গত ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি জি-টু-জি কাঠামোর আওতায় কুতুবজোমে এফএসআরইউ স্থাপনের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে দরপত্র প্রক্রিয়ায় চীনের প্রতিষ্ঠানটিকে সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন কমে আসা এবং বিদ্যমান টার্মিনালগুলোতে কারিগরি জটিলতার কারণে এলএনজি আমদানি ও গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় সরকার।
তবে ১৩ অক্টোবরের বৈঠকে প্রকল্পটির প্রস্তাব অনুমোদন না দিয়ে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটি পুনর্মূল্যায়ন করে আবার উপস্থাপন করা হবে, নাকি নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে—সে বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
