অন্যদের থাকলে, ইরানেরও কিছু মিসাইল থাকা উচিত, নইলে ‘একটু অন্যায়’ হয়ে যায়: ট্রাম্প
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে উদীয়মান চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ইরানকে তাদের বিশাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের একটি অংশ রেখে দেওয়ার অনুমতির সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-সেভেন (জি৭) সম্মেলনের এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়—এমন বিষয়গুলো, যার মধ্যে প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে কাজ করবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, তেহরানের কাছে এখনও কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে।
ট্রাম্প বলেন, 'আমি বলতে চাই, তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র থাকতেই হবে, কারণ অন্যদের কাছেও আছে। কিছু তো থাকতেই হবে।'
নাম প্রকাশ না করা উপদেষ্টাদের প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমি এদের কয়েকজনকে পছন্দ করি, কিন্তু আমি মনে করি না তারা খুব বুদ্ধিমান। তারা বলে, "স্যার, তাদের কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই রাখতে দেওয়া উচিত নয়।"'
তিনি আরও বলেন, 'আমি বললাম, "আচ্ছা, আমি কী করব? আমি কি সৌদি আরবকে ক্ষেপণাস্ত্র রাখতে দেব, কিন্তু তাদের রাখতে দেব না?" তারা বলল, "জি স্যার।"'
ট্রাম্প বলেন, 'এভাবে কাজ হয় না, জানেন তো, এভাবে কাজ হয় না। আর ক্ষেপণাস্ত্রই সমস্যার মূল বিষয় নয়।'
তিনি আরও বলেন, 'ক্ষেপণাস্ত্র কোনো একটি ছোট এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, কিন্তু সেগুলো পুরো পৃথিবী ধ্বংস করতে পারে না।'
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা 'কার্যত ধ্বংস' হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে তেহরানের কাছে এখনও ওই ধরনের কিছু অস্ত্রের মজুত রয়েছে।
মার্চের মাঝামাঝি সময়ে হেগসেথ দাবি করেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরি করে—এমন ইরানের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান 'পরাজিত হয়েছে, ধ্বংস হয়ে গেছে'।
হেগসেথ আরও যুক্তি দেন যে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য একটি প্রতিরক্ষামূলক ছাতা তৈরিতে ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ব্যবহার করতে চেয়েছিল। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং উৎপাদন স্থাপনাগুলোকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় ইরান যুক্তি দেয় যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনার বিষয়টি ছিল তাদের অন্যতম 'লাল রেখা' বা আপসহীন অবস্থান। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তারা এই অস্ত্র ব্যবহার করে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
সংবাদ সম্মেলনের পরবর্তী অংশে যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় কেন ইরানকে এই সক্ষমতার কিছু অংশ ধরে রাখতে দেওয়া গ্রহণযোগ্য, তখন ট্রাম্প যুক্তি দেন যে তেহরানের কাছে 'অন্যান্য' দেশের তুলনায় কম ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা তাদের প্রায় ৮৪ থেকে ৮৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছি। বাকি যেগুলো আছে সেগুলো ভূগর্ভে রয়েছে; তারা সেগুলো বেরও করতে পারবে না, জানেন তো।'
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান তাদের মোবাইল উৎক্ষেপণযানের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের প্রায় ৭০ শতাংশ ধরে রেখেছে। এই ভাণ্ডারের মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং অপেক্ষাকৃত ছোট ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে বলে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, 'এই মুহূর্তে তারা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে চায় না। তাদের পুনর্গঠন করতে খুবই কষ্ট হবে।'
