ট্রাম্পের জন্মদিনে চুক্তি না করতে মধ্যরাত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে অপেক্ষায় রেখেছে ইরান
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে স্থানীয় সময় গত রবিবার মধ্যরাত পার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিল ইরান। রবিবার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন। এই ঐতিহাসিক চুক্তির মুহূর্তটি যাতে কোনোভাবেই ট্রাম্পের জন্মদিনের সঙ্গে মিলে না যায়, সে কারণেই তেহরান এই কৌশল অবলম্বন করেছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের দুজন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সাড়ে সাত ঘণ্টার সময়ের ব্যবধান থাকার কারণে উভয় দেশই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার তারিখটি নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী দাবি করার সুযোগ পেয়েছে।
সহজ কথায়, তেহরানের (ইরান) সময় ওয়াশিংটনের (আমেরিকা) চেয়ে সাড়ে সাত ঘণ্টা এগিয়ে। ফলে ইরান যখন তাদের নিজেদের ঘড়িতে রবিবার রাত ১২টা পার করে সোমবারের প্রথম প্রহরে পা দিল, ওয়াশিংটনে তখনো রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টা।
সময়ের এই ব্যবধানের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশই নিজেদের দাবি বজায় রাখতে পেরেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকার সময় অনুযায়ী দাবি করতে পেরেছেন যে চুক্তিটি রবিবারই (তার জন্মদিনে) সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান তাদের সময় অনুযায়ী দাবি করতে পারছে যে চুক্তিটি রবিবারের পরে অর্থাৎ সোমবার সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি শান্তি রূপরেখায় তারা একমত হয়েছেন। এ রূপরেখার আওতায় ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ উঠবে ও ফের খুলে যাবে হরমুজ প্রণালি। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ওই নৌপথ দিয়ে তেল সরবরাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনায় এ প্রাথমিক চুক্তির ঘোষণা আসার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভাগ্য নির্ধারণে আরও আলোচনা হবে।
রোববার ওয়াশিংটন স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যল্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন: 'ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।' মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ঘোষণা করার পরপরই ট্রাম্পের এই পোস্ট করেন।
শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারকে সই করবে দুই দেশ।
চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ জানান, চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো, 'লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযানের অবসান ঘটানো।'
পুরো আলোচনায় অন্যতম জটিল ইস্যু হয়ে ছিল লেবানন। গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প ও অন্যান্য দেশের যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে তোয়াক্কা না করে লেবাননে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল ইসরায়েল।
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা যুক্রাস্ত্র-ইরান আলোচনার অংশ নয়। শান্তি চুক্তির ঘোষণা আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলের তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
