চুক্তির আওতায় চার কিস্তিতে ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় করবে যুক্তরাষ্ট্র: হারেৎজ
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার নতুন সমঝোতার আওতায় ইরানের অবরুদ্ধ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার তহবিল চার কিস্তিতে ছাড় করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনা সম্পর্কে অবহগত একটি পাকিস্তানি সূত্র এবং হারেৎজের সঙ্গে কথা বলা অপর একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ছাড় করতে যাওয়া মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার। তবে এ অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত মার্কিন দাবি ইরান কতটা মানছে এবং পরমাণু আলোচনায় কতটা অগ্রগতির হচ্ছে, তার ওপর।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সমঝোতার মূল শর্ত হলো—গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে কোনো রকম ফি ছাড়াই সব জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে আসন্ন পারমাণবিক আলোচনার বোঝাপড়ার সঙ্গেও বিষয়টিকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এই অর্থকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে দেখানো হতে পারে; যার মধ্যে হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত।
এদিকে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনার খবরকে 'ভুয়া' বলে দাবি করেছেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, এ চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকরা আবারও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে নজরদারির সুযোগ পাবেন। তবে একে আংশিক রূপরেখা হিসেবেই বর্ণনা করেছেন তিনি। সিএনএনকে দেওয়া আরেক মন্তব্যে ভ্যান্স বলেন, এই সমঝোতা স্মারকটি 'খুবই সাধারণ একটি দলিল'। তবে আলোচনার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েল শেষপর্যন্ত এতে সমর্থন দেবে বলেই তার বিশ্বাস।
এদিকে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ ট্রাম্প ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ এক ব্রিফিংয়ে বড় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ইরান মার্কিন শর্তগুলো আদৌ পূরণ করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তেহরান হয়তো প্রয়োজনীয় পারমাণবিক পদক্ষেপ শেষপর্যন্ত বাস্তবায়ন করবে না।
হোয়াইট হাউসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইতিমধ্যে সমঝোতা স্মারকে ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছে। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে জেনেভায় আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। সেখানে জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ উপস্থিত থাকবেন।
ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক অবস্থানগুলো থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো কোনো বিষয় এই চুক্তির অংশ নয়।
পাকিস্তানি সূত্রের তথ্যমতে, চুক্তিতে লেবানন নিয়ে একটি আলাদা অংশ রয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়—ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অলিখিত সবুজ সংকেত পাচ্ছে। সূত্রটি বলেছে, 'এই চুক্তিতে সবাই কিছু না কিছু পাচ্ছে, আর ইসরায়েল পাচ্ছে এই সুবিধা।'
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দ্বিতীয় আরেকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, লেবানন-সংক্রান্ত ধারাটির ভাষা 'বেশ অস্পষ্ট'। ইসরায়েলও বিষয়টিকে লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন হিসেবেই ধরে নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের পথ এখন আরও প্রশস্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে; আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সেখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল হওয়া নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে।
পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে, অবরুদ্ধ তহবিল ছাড়ের প্রক্রিয়াটি পারমাণবিক সমঝোতা ও হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল।
