যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খসড়া চুক্তি: মুক্ত হচ্ছে ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ তহবিল, দাবি ইরানি গণমাধ্যমের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির একটি খসড়া প্রকাশ করেছে ইরানের মেহর বার্তা সংস্থা। এতে বলা হয়েছে, চুক্তিটি কার্যকর হলে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করা হবে। শুক্রবার এই খসড়ার বিষয়টি সামনে আসে।
ইরানের আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, ৬০ দিনের চূড়ান্ত আলোচনা চলাকালে ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন ডলার তহবিল ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। সংস্থাটি আরও জানায়, এই অর্থের অর্ধেক 'আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ইরানকে দেওয়া হবে।'
মেহরের দাবি, এই সমঝোতা স্মারকে 'লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী ও তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের' কথাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৬০ দিনের এই আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে খসড়া চুক্তির অধীনে তেহরান কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না।
সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ বর্তমান খসড়ার 'রূপরেখা' চূড়ান্ত হচ্ছে উল্লেখ করে জানিয়েছে, 'এই খসড়ায় প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া বা আমেরিকা ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার বিষয়ে ইরান কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।'
এর আগে শুক্রবার তেহরান জানিয়েছিল, চুক্তির বিষয়ে তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তি সই হতে পারে এবং এই কারণে তিনি ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি বাতিল করেছেন।
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলসহ এই অঞ্চলের মিত্ররা চুক্তির সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অনুমোদন করেছে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল যৌথভাবে এই যুদ্ধ শুরু করেছিল।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, তেহরান 'চুক্তির বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।'
তিনি বলেন, 'চুক্তির বেশির ভাগ অংশ চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু সমস্যা তখন শুরু হয়, যখন মার্কিন পক্ষ নতুন দাবি তোলে এবং তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে।'
তাসনিম সংবাদ সংস্থা উল্লেখ করেছে, গত দুই মাসে ট্রাম্প এ নিয়ে ৩৮ বার দাবি করেছেন যে চুক্তি আসন্ন।
সংস্থাটি জানায়, 'যতক্ষণ না ইরান নিজে থেকে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতার কথা ঘোষণা করছে, ততক্ষণ এই বিষয়ে ট্রাম্পের কোনো খবরকে তার আগের বার্তাগুলোর মতোই বিবেচনা করা উচিত।'
এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া, সমৃদ্ধকরণ অবকাঠামো ধ্বংস করা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমিত করা এবং আঞ্চলিক ছায়াগোষ্ঠীগুলোকে (প্রক্সি) সমর্থন দেওয়া বন্ধ করার মতো বিষয়গুলো চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্প যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার প্রশংসা করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত এই সমঝোতা স্মারকে ইসরায়েল কোনো পক্ষ হিসেবে থাকছে না।
