আইআরজিসির সঙ্গে দ্বন্দ্বে কি পদত্যাগ করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান? যা বলছে তেহরান
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রতিবাদে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন—এমন একটি খবর সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই খবরটিকে সম্পূর্ণ 'গুজব' ও 'ভিত্তিহীন' বলে নাকচ করে দিয়েছে তেহরান।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল' প্রথম এক প্রতিবেদনে দাবি করে, আইআরজিসি-র কারণে নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আইআরজিসি-র কট্টরপন্থীরা দেশের শাসনভার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। এর প্রতিবাদে পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই তা নাকচ করে দেয় ইরানি কর্তৃপক্ষ। আইআরজিসি-র সঙ্গে যুক্ত সংবাদ সংস্থা 'তাসনিম নিউজ' সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করেননি এবং তিনি স্বাভাবিকভাবেই তার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
একই সাথে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগ ও তথ্য বিভাগের উপপ্রধান সৈয়দ মেহেদি তাবাতাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই প্রতিবেদনটিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তাবাতাবেই তাঁর পোস্টে লিখেন, 'এই কুখ্যাত বিদেশি নেটওয়ার্কের গুজব ছড়ানো মূলত অতীতের হাস্যকর মিডিয়া গেমেরই ধারাবাহিকতা। তারা বাস্তবতার জায়গায় নিজেদের কাল্পনিক ইচ্ছাকে প্রকাশ করেছে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জনগণের সেবা থেকে পিছু হটবেন না, ঠিক যেভাবে ইরানি জাতি সংহতি ও প্রতিরোধের পথ থেকে পিছিয়ে যাবে না। ইরানি জাতির ঐক্য বিনষ্ট করার তাদের এই আকাঙ্ক্ষা তারা কবরে নিয়ে যাবে।'
ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছিল, পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন—সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইআরজিসি-র একচেটিয়া আধিপত্যের কারণে তিনি সরকার পরিচালনা করতে এবং নিজের আইনি দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না, তাই তিনি অবিলম্বে পদত্যাগ করতে চান।
এই খবরটি মূলত ইরানের নির্বাচিত সরকার এবং সামরিক-নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে চলা মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো মূলত সাবেক ও বর্তমান আইআরজিসি কমান্ডারদের নিয়ে গঠিত একটি ছোট এলিট গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, 'জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তারা মনে করেন সব প্রধান বিষয় মূলত ৫৬ বছর বয়সী উত্তরাধিকারী (মুজতবা খামেনি) দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া কেবল একজন মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।'
এতে আরও বলা হয়, একটি 'কঠোর ও অভিজ্ঞ ভ্রাতৃত্বপূর্ণ গোষ্ঠী' এই প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে, ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ইরান-ইরাক যুদ্ধের আট বছরের নৃশংস লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাঁদের মূল সামরিক অভিজ্ঞতার তৈরি হয়েছিল।
