কংগ্রেসের পর সমর্থন দিতে চায় এআইএডিএমকে-ও, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাল শপথ নিতে পারেন থালাপতি
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন অভিনেতা থালাপতি বিজয়। তার দল 'তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম' (টিভিকে) একক বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গঠনের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। রাজ্য সরকার গঠনে ইতোমধ্যে তাদের সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস।
তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আগামী ৭ মে শপথ নিতে পারেন থালাপতি। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। বিজয়ের টিভিকে এককভাবে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করেছে, অর্থাৎ তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র ১০টি আসন দূরে। ইতিমধ্যে ৫ জন বিধায়ক থাকা কংগ্রেস 'ধর্মনিরপেক্ষ সরকার' গঠনের লক্ষ্যে বিজয়কে সমর্থন দিয়েছে। ফলে বিজয়ের পক্ষে এখন ১১৩ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে এবং ম্যাজিক ফিগার থেকে তিনি মাত্র ৫ আসন দূরে।
প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে বিজয় কংগ্রেসের পাশাপাশি, পিএমকে , বাম দল (সিপিআই ও সিপিআই-এম) এবং ভিসিকে-র মতো ছোট দলগুলোর সমর্থন নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশীকান্ত সেন্থিল। তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স কমিটি সরকার গঠনে টিভিকে-কে সমর্থন করার জন্য টিএনসিসি-কে (তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি) অনুমোদন দিয়েছে।'
দলটি জানিয়েছে, তামিলনাড়ুর জনাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের পক্ষে এবং তারা কোনোভাবেই এই দক্ষিণী রাজ্যে 'বিজেপি এবং তাদের সহযোগীদের' সরকার চালাতে দিতে চায় না।
হিন্দুস্তান টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে কংগ্রেসের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে বিজয়কে সমর্থনের বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তামিলনাড়ু কংগ্রেসের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স কমিটির ওই জরুরি সভাটি রাত ১০টা ৩০ মিনিটে আহ্বান করেছিল অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি (এআইসিসি)। মূলত সরকার গঠনে বিজয়ের পক্ষ থেকে সমর্থনের অনুরোধ পাওয়ার পরই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস।
২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিজয়ের টিভিকে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে লড়া কংগ্রেস জয় পেয়েছে ৫টি আসনে।
তবে কংগ্রেসের পর বিজয়কে সমর্থন দেওয়া নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের অন্যতম শরিক এআইএডিএমকে-র ভেতরেও তোড়জোড় শুরু হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী এবং বিজয়ের মধ্যে আলোচনার খবর পাওয়া গেছে। এআইএডিএমকে নেতা সিভি শানমুগাম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দলের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআইএডিএমকে-র একটি অংশ বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার পক্ষে।
দলের মুখপাত্র কোভাই সত্যন দুই দলের মধ্যে 'তৎপরতা' তৈরি হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, 'এআইএডিএমকে এবং টিভিকে—উভয় শিবিরের মধ্যে কিছু মোমেন্টাম শুরু হয়েছে। হাইকমান্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। গতকাল রাত থেকেই এই তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে সংখ্যা নিয়ে কথা বলার সময় এখনো আসেনি। হাইকমান্ড খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবে এবং দলের মধ্যে কোনো বিভক্তি বা ফাটল নেই।'
জোট গঠনের উদ্যোগ কে নেবে—এমন প্রশ্নে মুখপাত্র বলেন, 'বল এখন মিস্টার বিজয়ের কোর্টে। হাইকমান্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি যদি তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চান, তবে উদ্যোগটি মিস্টার বিজয়ের পক্ষ থেকেই আসতে হবে।'
তবে বিজয় ইতিমধ্যে বিজেপি-কে তার 'আদর্শিক শত্রু' হিসেবে ঘোষণা করায় এআইএডিএমকে-র সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা রয়ে গেছে।
