চলতি বছর ব্রিটেনে প্রতিদিন গড়ে দুটি পাব বন্ধ হচ্ছে
ব্রিটেনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুটি করে পাব বা পানশালা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ বিয়ার অ্যান্ড পাব অ্যাসোসিয়েশনের (বিবিপিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে ১৬১টি পাব বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন।
এর আগে করকাঠামো পরিবর্তনের কারণে অনেক পাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের সতর্কবার্তার পর চলতি বছরের শুরুতে পাবগুলোর জন্য ব্যবসায়িক কর সহায়তার ঘোষণা দেয় সরকার। গত মাস থেকে পাব এবং মিউজিক ভেন্যুগুলোর জন্য ১৫ শতাংশ কর ছাড় কার্যকর হয়েছে।
তবে বিবিপিএ বলছে, পাব বন্ধের এই সবশেষ পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে এই খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন দরকার। আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) খাতের করকাঠামো পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর দাবিও জানিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেও ব্রিটেনে ৩৩৬টি পাব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
বিবিপিএর প্রধান নির্বাহী এমা ম্যাকক্লার্কিন বলেন, 'পাবগুলো কিন্তু ভালোই ব্যবসা করছে। কিন্তু অসম করের বোঝা এবং বিপুল খরচের কারণে তাদের কোনো লাভ থাকছে না। চাইলেই কিন্তু এত পাব বন্ধ হওয়াটা ঠেকানো যায়।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা সরকারের সঙ্গে মিলে একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করতে চাই। এর মাধ্যমে এই ব্যবসার খরচ কমবে, একটি ন্যায্য ব্যবস্থা তৈরি হবে এবং শেষ পর্যন্ত মূল্যবান এই খাতটি রক্ষা পাবে।'
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যজুড়েই পাব এবং হসপিটালিটি ভেন্যুগুলো বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে। এর পেছনে মূলত শ্রমিকের বাড়তি মজুরি, ব্যবসায়িক কর বৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের অভ্যাসের পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে।
গ্রেট ব্রিটেনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কেবল ওয়েলস অঞ্চলেই পাবের সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্কটল্যান্ড। সেখানে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে সেখানে ৪১টি পাব বন্ধ হয়ে গেছে।
সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ব্রিটেনের পাবগুলোকে সহায়তায় চেষ্টা করছেন। এপ্রিলে ব্যবসায়িক করে ১৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং আগামী দুই বছর এই কর আর বাড়ানো হবে না। এ ছাড়া বিশ্বকাপের সময় পাব খোলা রাখার সময় বাড়ানো এবং ব্যবসা বাড়াতে হসপিটালিটি সাপোর্ট ফান্ড বাড়িয়ে ১০ মিলিয়ন পাউন্ড করার কথাও জানান তিনি।
ওই মুখপাত্র আরও বলেন, 'করপোরেশন ট্যাক্স নির্দিষ্ট করে দেওয়া, খোলা বিয়ারের ক্ষেত্রে অ্যালকোহল শুল্ক কমানো এবং ছয়বার সুদের হার কমানোর মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এতে ব্রিটেনের প্রতিটি প্রান্তের ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।'
