ইরানের নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছি, তবে ‘গ্রহণযোগ্য’ না-ও হতে পারে: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আসা একটি নতুন প্রস্তাব তিনি পর্যালোচনা করছেন। তবে এই প্রস্তাবটি সফল হবে কি না, তা নিয়ে তিনি সামান্যই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে লেখেন, 'ইরান আমাদের কাছে যে পরিকল্পনাটি পাঠিয়েছে তা আমি শীঘ্রই পর্যালোচনা করব। কিন্তু আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে এটি গ্রহণযোগ্য হবে; কারণ গত ৪৭ বছর ধরে তারা মানবতা ও বিশ্বের প্রতি যা করেছে, তার জন্য তারা এখনও যথেষ্ট বড় কোনো মূল্য দেয়নি।'
পোস্টটি প্রকাশের কিছুক্ষণ আগে, ফ্লোরিডার পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, ইরানের প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করবেন কি না—সে বিষয়ে শীঘ্রই সাংবাদিকদের জানাবেন।
শুক্রবার তিনি বলেছিলেন, প্রস্তাবটি নিয়ে তিনি 'সন্তুষ্ট নন'। তবে শনিবার জানান, তিনি বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবেন।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "তারা আমাকে চুক্তির ধারণা বা কনসেপ্ট সম্পর্কে বলেছে। এখন তারা আমাকে চুক্তির সঠিক শব্দগুলো পাঠাতে যাচ্ছে।"
ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত করে দেবে এবং মার্কিন অবরোধের অবসান চাইবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনা তারা পরবর্তী সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে।
সপ্তাহব্যাপী চলা এই অচলাবস্থার মধ্যে ট্রাম্প কীভাবে এগোবেন তা নিয়ে যখন চিন্তাভাবনা করছেন, ঠিক তখনই তার এই মন্তব্যগুলো এল। বৃহস্পতিবার সামরিক কর্মকর্তারা তাকে হরমুজ প্রণালী এবং ইরানের স্থলভাগের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বিকল্পের বিষয়ে ব্রিফিং করেছেন। ট্রাম্প পুনরায় হামলার সম্ভাবনা এখনও খোলা রেখেছেন।
শুক্রবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা কি সেখানে গিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে চিরতরে শেষ করে দিতে চাই, নাকি আমরা একটি চুক্তি করার চেষ্টা করতে চাই? এগুলোই এখন বিকল্প।"
তিনি আরও বলেন, তিনি পুনরায় হামলা শুরু করার চেয়ে চুক্তি করাকেই বেশি প্রাধান্য দেবেন।
উপসাগরীয় এলাকায় কিছু জাহাজের জন্য পথ খুলে দেওয়ার ইরানের এই প্রস্তাবটি এমন সময়ে এল, যখন ইরান গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের জাহাজ ছাড়া বাকি সব জাহাজ চলাচল বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালিতে নিজস্ব অবরোধ কার্যকর করে রেখেছে।
শনিবার ট্রাম্প মার্কিন এই অবরোধকে 'বন্ধুসুলভ' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "কেউ এমনকি এটিকে চ্যালেঞ্জও করছে না।"
মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের ওপর এই অবরোধ কার্যকর করতে ১০০টিরও বেশি ফাইটার ও নজরদারি বিমান, দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং এক ডজনেরও বেশি জাহাজ ব্যবহার করছে। গত মাসে, একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ এই অবরোধ ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ার জাহাজটি জব্দ করে।
এদিকে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায়, ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে তার কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
তবে ১৯৭৩ সালের 'ওয়ার পাওয়ারস রেজ্যুলিউশন' অনুসারে, কোনো সামরিক অভিযান ৬০ দিন অতিক্রম করলেই প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসের কাছ থেকে যুদ্ধের অনুমোদন নিতে হয়। ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান এই সপ্তাহের শুরুর দিকে সেই সময়সীমা স্পর্শ করেছে।
বৃহস্পতিবার সিনেট ষষ্ঠবারের মতো একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, যা কংগ্রেসের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত ইরানে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল।
ভোটে প্রস্তাবটি ৪৭-৫০ ব্যবধানে বাতিল হয়। সব ডেমোক্র্যাট সিনেটর (পেনসিলভানিয়ার জন ফেটারম্যান ছাড়া) প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স ও র্যান্ড পল দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন।
