ইরান যুদ্ধ কোনো ‘চোরাবালি’ নয়: হেগসেথ; পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রক্ষায় অনড় ইরান: খামেনি
ইরান যুদ্ধ কোনো 'চোরাবালি' নয়: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন যে, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ কোনো 'চোরাবালি' বা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নয়। বুধবার হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এক শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের কঠোর সমালোচনার জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম প্রতিরক্ষা দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা কমিটির মুখোমুখি হলেন। আজ বৃহস্পতিবার হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেবেন।
বুধবারের শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং এর শেষ কোথায় তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি জন গারামেন্ডি এই সংঘাতকে একটি 'চোরাবালি' হিসেবে অভিহিত করে একে 'সব স্তরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়' বলে বর্ণনা করেন।
গারামেন্ডির এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান হেগসেথ। তিনি বলেন, 'আপনি একে চোরাবালি বলে আমাদের শত্রুদের হাতে প্রচারণার অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন? এমন মন্তব্যের জন্য আপনার লজ্জা হওয়া উচিত।'
হেগসেথ যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা এবং সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, এই অভিযান মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় পরিচালিত হচ্ছে। তবে বিরোধীরা যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং অনির্দিষ্ট সময়কাল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রক্ষায় অনড় ইরান: মোজতবা খামেনি
ইরানের পরমাণু এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে দেশের 'জাতীয় সম্পদ' হিসেবে অভিহিত করে তা যেকোনো মূল্যে রক্ষার ঘোষণা দিয়েছেন মোজতবা খামেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই সামরিক সক্ষমতাগুলো ধ্বংস করতে চান—এমন বার্তার প্রেক্ষিতেই তিনি এই হুঁশিয়ারি দিলেন।
ইরানি সংবাদ সংস্থা ইরনা-র বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, মোজতবা খামেনি বলেছেন, 'ইরানিরা তাদের পরমাণু এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে দেখে। দেশের জল, স্থল এবং আকাশসীমার মতো এগুলোকেও তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পাহারা দেবে।'
একইসঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে দায়ী করেছেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকানদের অবস্থানই এ অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ। তার মতে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার ফলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার মূলে রয়েছে বিদেশি শক্তির উপস্থিতি।
তিনি আরও বলেন, 'আমেরিকার পুতুল ঘাঁটিগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো সামর্থ্য নেই। সুতরাং যারা মনে করেন আমেরিকা তাদের নিরাপত্তা দেবে, তাদের সেই আশা বৃথা।'
জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, 'আমেরিকার লজ্জাজনক ব্যর্থতার পর পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।'
উল্লেখ্য, ১৬২২ সালে হরমুজ প্রণালী থেকে পর্তুগিজ বাহিনীকে বিতাড়িত করার স্মরণে এই দিবসটি পালন করা হয়।
তিনি দাবি করেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী সাহসিকতা এবং সতর্কতার পরিচয় দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের ভবিষ্যৎ হবে আমেরিকামুক্ত এবং এই অঞ্চলের মানুষের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য নিবেদিত।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে নতুন আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে একটি নতুন আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ তারবার্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গত ২৮ এপ্রিলের ওই বার্তায় বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও 'ম্যারিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট' (এমএফসি) নামের একটি নতুন উদ্যোগ অনুমোদন করেছেন। এটিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের একটি যৌথ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, 'মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত-পরবর্তী সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এমএফসি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ। দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অবকাঠামো রক্ষা এবং প্রধান সমুদ্রপথগুলোতে জাহাজ চলাচলের অধিকার বজায় রাখতে এই কাঠামোটি অপরিহার্য।'
এই উদ্যোগের আওতায় পররাষ্ট্র দপ্তর অংশীদার দেশগুলো এবং শিপিং শিল্পের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে, ফ্লোরিডায় অবস্থিত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সদর দপ্তর থেকে পেন্টাগন সরাসরি জাহাজগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা এবং তাৎক্ষণিক ট্রাফিক সমন্বয়ের কাজ করবে বলে তারবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ট্রাম্পের অবরোধ দীর্ঘায়িত করার খবরে ১২০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অবরোধ আরও দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবরের পর বিশ্ববাজারে বাড়ছে তেলের দাম।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে দাম ১২২ ডলারে ওঠে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।
বিবিসি জানতে পেরেছে, এই সংঘাতের কারণে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর যাতে বেশি প্রভাব না পড়ে, তা নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছেন জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা। তাদের মধ্যে শেভরনের প্রধান নির্বাহী মাইক ওয়ার্থও ছিলেন।
তেল ব্যবসায়ীরা এই বৈঠককে একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের ধারণা, হরমুজ প্রণালি আরও অনেক দিন বন্ধ থাকতে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, ওই বৈঠকে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং নৌ-চলাচল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জ্বালানি খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের নিয়মিত বৈঠকের অংশ হিসেবেই এটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, পারমাণবিক চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ বহালের ঘোষণা ট্রাম্পের
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নিরসনে ইরান সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত চুক্তিতে রাজি হবে না, ততক্ষণ দেশটির ওপর নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর মাধ্যমে ট্রাম্প ইরানের দেওয়া সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিলেন, যেখানে প্রথমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল এবং পারমাণবিক আলোচনা পরবর্তী সময়ের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ওপর 'স্বল্পমেয়াদী কিন্তু শক্তিশালী' এক দফার বিমান হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছে বলে এই বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে। আলোচনার বর্তমান অচলাবস্থা কাটানোর লক্ষ্যেই এই হামলার ছক কষা হয়েছে।
এই পরিকল্পনায় মূলত ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে, যাতে তেহরানকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে এবং নমনীয় হতে বাধ্য করা যায়।
ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, তার কাছে বোমাবর্ষণের চেয়ে অবরোধ অনেক বেশি কার্যকর মনে হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এক্সিওস
ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগন কর্মকর্তা
ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন পেন্টাগনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা। এই সংঘাতের সামরিক ব্যয়ের বিষয়ে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাব।
পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রক (কন্ট্রোলার) পদে দায়িত্ব পালনকারী জুলস হার্স্ট প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটিকে জানান, এই অর্থের বড় অংশই গোলাবারুদ কেনার পেছনে ব্যয় হয়েছে।
তবে এই ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে ঠিক কী কী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটির অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও মেরামতের সম্ভাব্য খরচ এতে ধরা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
২৫ বিলিয়ন ডলারের এই ব্যয় চলতি বছরে নাসার মোট বাজেটের সমান।
তবে পেন্টাগন কীভাবে এই ২৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব নির্ধারণ করেছে, তা স্পষ্ট নয়। কারণ গত মাসে একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় কমপক্ষে ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ইরানের ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি (ক্রিপ্টো সম্পদ) জব্দ করার দাবি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের 'অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি' তেহরান সরকারকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, 'আমরা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ কবজা করতে সক্ষম হয়েছি। এর বাইরে সম্প্রতি আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে। ফলে সব মিলিয়ে আমরা এখন প্রায় ৫০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। এ ছাড়া আমরা সব জায়গায় তাদের ব্যাংক হিসাবগুলোও ফ্রিজ করছি।'
তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছরের মার্চ মাসে এই অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং প্রায় তিন সপ্তাহ আগে এই চাপ আরও বাড়ানোর তাগিদ দেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানিকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে প্রবল চাপ দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
