এশীয় বাজারের জন্য জুন মাসের তেলের দাম কমাতে পারে সৌদি আরব
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা স্তিমিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। রয়টার্সের এক জরিপ অনুযায়ী, আগামী জুন মাসের জন্য এশীয় বাজারে অপরিশোধিত তেলের অফিশিয়াল সেলিং প্রাইস (ওএসপি) রেকর্ড পরিমাণ কমাতে পারে সৌদি আরব। মূলত স্পট প্রিমিয়াম কমে আসা এবং ইরান যুদ্ধের কারণে কয়েক সপ্তাহের সরবরাহ বিপর্যয়ের পর তেলের চাহিদা হ্রাস পাওয়ায়, এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে দেশটি।
শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে করা এই জরিপে দেখা গেছে, সৌদির ফ্ল্যাগশিপ 'আরব লাইট' গ্রেডের তেলের দাম আগামী জুন মাসে দুবাই ও ওমান কোটেশনের গড় দামের চেয়ে ব্যারেল প্রতি ৭.৫০ থেকে ১৪.৫০ ডলার প্রিমিয়ামে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ মে মাসের তুলনায় জুনে দাম ব্যারেল প্রতি ৫ থেকে ১২ ডলার পর্যন্ত কমতে পারে।
জরিপে অংশ নেওয়া সূত্রগুলো জানায়, এই পূর্বাভাসের বড় পরিসরটি এশীয় ক্রেতাদের মধ্যে বিদ্যমান অনিশ্চয়তাকে প্রতিফলিত করছে। যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই অঞ্চলের দেশগুলোর তেলের যোগান এবং দাম নিয়ে প্রত্যাশায় ব্যাপক ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।
গত মার্চের শেষ দিক থেকে স্পট মার্কেটে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে যুদ্ধের শুরুতে সরবরাহ সংকটের কারণে নগদ অর্থে দুবাই তেলের প্রিমিয়াম রেকর্ড ৬০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও— সোমবার (২৭ এপ্রিল) তা ৯.১৭ ডলারে নেমে এসেছে। এপ্রিল মাসে দুবাই প্রিমিয়ামের গড় দাঁড়িয়েছে ১৫.২২ ডলারে, যা মার্চের গড় ৩৮.৩০ ডলারের অর্ধেকেরও কম।
যদিও ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই, তবে যুদ্ধের শুরুতে যে 'প্যানিক বায়িং' বা আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনার হিড়িক পড়েছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। ফলে বাজারে তেলের প্রকৃত সরবরাহ ও চাহিদা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এ ছাড়া এপ্রিলের শেষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে বিকল্প তেলের চালান আসার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শোধনাগারগুলো মার্কিন ছাড়ের আওতায় রুশ তেলের আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছে।
সৌদি তেলের শীর্ষ আমদানিকারক চীনের শোধনাগারগুলো লোকসানের মুখে পড়েছে। কারণ ফিডস্টক বা অপরিশোধিত তেলের তারা চড়া দামে কিনলেও, সে তুলনায় দেশটিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সেভাবে বাড়েনি। এর ওপর বেইজিং পরিশোধিত তেল রপ্তানিতেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। মে মাসের জন্য চীনা শোধনাগারগুলো সৌদি আরব থেকে মাত্র ২ কোটি ব্যারেল তেল কেনার পরিকল্পনা করেছে, যা এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে যুদ্ধজনিত ব্যাঘাতের কারণে সৌদি আরামকো বর্তমানে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে 'আরব লাইট' তেল রপ্তানি করছে।
জরিপে অংশ নেওয়া জ্বালানি শিল্পের প্রতিনিধিরা আশা করছেন, অন্যান্য গ্রেডের সৌদি তেলের দামও ব্যারেল প্রতি ৫ থেকে ১২ ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। সাধারণত প্রতি মাসের ৫ তারিখের দিকে সৌদি আরামকো তাদের ওএসপি বা আনুষ্ঠানিক বিক্রয়মূল্য ঘোষণা করে। তবে নীতিগত কারণে দাম নির্ধারণের বিষয়ে আগে থেকে কোনো মন্তব্য করে না প্রতিষ্ঠানটি।
