শান্তিবৈঠক শুরুর আগে লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ের দাবি ইরানের; সংলাপ ব্যর্থ হলে নতুন হামলার হুমকি ট্রাম্পের
ইরান শুক্রবার বলেছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও ইরানের জব্দকৃত সম্পদের ছাড় না দেওয়া পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসবে না।
এই শর্ত জুড়ে দেওয়ায় আগামীকাল শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় শান্তি আলোচনা নিয়ে শেষ মুহূর্তে এসে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, এই দুটি বিষয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মত হয়েছিল।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই শর্তগুলো পূরণ না হলে আলোচনা শুরু হবে না।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইসলামাবাদে সংলাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করার আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানান, তারা এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, ইরান যদি 'সৎ উদ্দেশ্য' নিয়ে আলোচনায় অংশ নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক সাড়া দেবে। তবে তারা যদি 'প্রতারণার চেষ্টা করে', তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাতে সাড়া দেবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার বিষয়ে তাকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান ভ্যান্স।
সূত্র: রয়টার্স
পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি ট্রাম্পের
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠেয় শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনায় যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তাহলে ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজগুলো নতুন করে অস্ত্রে সজ্জিত করা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, 'আমরা নতুনভাবে শুরু করছি। আমরা জাহাজগুলোতে সবচেয়ে ভালো গোলাবারুদ, সবচেয়ে উন্নত অস্ত্র তুলছি—যেগুলো আগের চেয়েও ভালো। যেগুলো আগেও আমরা ব্যবহার করেছিলাম এবং তাদের উড়িয়ে দিয়েছিলাম।'
'আর যদি কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে আমরা এসব ব্যবহার করব এবং খুব কার্যকরভাবে ব্যবহার করব, বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সূত্র: আল জাজিরা
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পাকিস্তানের রাজধানী; বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে স্কুল-অফিস
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক আলোচনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ বর্তমানে কঠোর লকডাউনের (অবরুদ্ধ) মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, পুরো শহরজুড়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং স্পেশাল সার্ভিস কমান্ডোসহ প্রায় ১০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজধানীকে বর্তমানে একটি বহুমাত্রিক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের স্কুল ও অফিস-আদালতে একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বর্তমানে ইসলামাবাদের প্রশাসনিক এলাকা বা 'রেড জোন'-এর চিত্র অত্যন্ত থমথমে। ওই এলাকায় প্রবেশের প্রতিটি রাস্তা পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
লেবাননে ইসরায়েলি হামলা যেন যুদ্ধবিরতিকে ব্যাহত না করে সেই তৎপরতা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে যাতে বাধাগ্রস্ত না করে, সেজন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হামলার তীব্রতা কমানোর অনুরোধ করেছেন। কারণ, এসব হামলা একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপের পর ইসরায়েল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা লেবাননের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, এই ফোনালাপ ছিল তাদের নিয়মিত আলোচনার তুলনায় সংক্ষিপ্ত।
লেবাননের কর্মকর্তারা বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদী শান্তিপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে এমন আলোচনায় আগ্রহী তারা। তবে প্রথমে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে হবে।
এর আগে, গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েল।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ফোনালাপের আগ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান বন্ধ বা এর তীব্রতা কমানোর আহ্বান জানায়নি।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এটা ভেবে উদ্বিগ্ন যে লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
একইসঙ্গে ইরান এবং যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান বলছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার প্রয়োজন তিনি বোঝেন। তবে লেবাননে হামলা কমিয়ে যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করা উচিত বলেও মত দেন তিনি।
স্টিমসন সেন্টার থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক র্যান্ডা স্লিম বলেন, 'এই পর্যায়ে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা কমানো কার্যত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সূচনার পূর্বশর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।'
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল লেবাননে তাদের অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, সেনাবাহিনী লিটানি নদীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে—যা ইসরায়েল-লেবানন সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে একটি কৌশলগত এলাকা। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহকে উত্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন, এ অভিযানগুলো বন্ধ হবে না। কিন্তু ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন বলেছেন, ট্রাম্পের অনুরোধ অনুযায়ী লেবাননে হামলা সীমিত করবে ইসরায়েল।
তবে নেতানিয়াহু বলেছেন, 'লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। আমরা পূর্ণ শক্তিতে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রাখব।'
সূত্র: দি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
ইরান 'চালাকি করার চেষ্টা করলে' যুক্তরাষ্ট্র তাতে সাড়া দেবে না: জেডি ভ্যান্স
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানিরা যদি 'চালাকি করার চেষ্টা করে', তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাতে সাড়া দেবে না। ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পথে এ কথা বলেন ভ্যান্স।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'ইরানিরা যদি সৎভাবে আলোচনা করতে চায়, তাহলে আমরা অবশ্যই খোলা মনে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত—এটা এক বিষয়। কিন্তু যদি তারা আমাদের সঙ্গে কৌশল বা চালাকি করার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা তাতে সাড়া দেব না।'
ভ্যান্স আরও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা কীভাবে শুরু করা হবে সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 'বেশ স্পষ্ট নির্দেশনা' দিয়েছেন এবং তিনি এই আলোচনার জন্য 'উন্মুখ' হয়ে আছেন।
ভ্যান্স বিশ্বাস করেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য এই আলোচনা 'ইতিবাচক' হবে।
সূত্র: আল জাজিরা
লেবাননে বিমান হামলায় ১২ নিরাপত্তাকর্মী নিহত
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাবাতিয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ১২ জন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে একাধিক ভবন। এই ঘটনাকে এনএনএ 'ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড' হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এনএনএর তথ্যমতে, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স কাজ করছে।
সূত্র: আল জাজিরা
উপসাগরীয় দেশগুলোকে 'সঠিক পক্ষে' থাকার আহ্বান খামেনির
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত দেশগুলোর উদ্দেশ্যে এক্সে পোস্ট করার পর এক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ইরান তার উপসাগরীয় আরব প্রতিবেশীদের এই বার্তা দিচ্ছে যে এই অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্যের যুগ শেষ।
বার্তা সংস্থা সিএনএনের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানান বাহরাইনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্য নীতি বিষয়ক সিনিয়র ফেলো হাসান আলহাসান।
খামেনির ওই পোস্টে বলা হয়, 'ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশীদের বলছি, আপনারা এক অলৌকিক ঘটনা দেখছেন।'
আরও বলা হয়, 'তাই বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন, পরিস্থিতি সঠিকভাবে অনুধাবন করুন, সঠিক পক্ষে অবস্থান নিন এবং 'শয়তানদের' মিথ্যা প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।'
ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত চাপের মুখেও তেহরানের টিকে থাকাকেই এখানে 'অলৌকিক' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
আলহাসান বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একের পর এক হামলা সামলে নিয়ে ইরান এখন নিজেকে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে দেখতে পাচ্ছে।
তিনি সিএনএনকে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আক্রমণ প্রতিহত করা, ওয়াশিংটনকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার পর তেহরান এখন আত্মবিশ্বাসী যে তারা এই অঞ্চলে আরও প্রভাবশালী ও নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা পালন করতে পারবে।'
খামেনি তার বার্তায় উল্লেখ করেন, ইরান তার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে এখন একটি 'যথাযথ সাড়া' পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তারা তাদের 'ভ্রাতৃত্ব এবং সদিচ্ছা' প্রদর্শন করতে পারে।
তিনি লিখেছেন, 'এটি ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব হবে না, যতক্ষণ না আপনারা সেই সব 'অহংকারী শক্তিগুলোকে' বর্জন করছেন, যারা আপনাদের অপমান এবং শোষণ করার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করে না।'
তবে আলহাসান মনে করেন, সংঘাত চলাকালে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উপসাগরীয় দেশগুলো খামেনির এই আহ্বানকে যথেষ্ট সন্দেহের চোখেই দেখবে।
আলহাসান আরও বলেন, 'যুদ্ধের চরম মুহূর্তেও আরব উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছিল। ফলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি থাকুক বা না থাকুক, তারা ইরানের খবরদারি বা অভিভাবকত্ব মেনে নেবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম।'
সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব ইসরায়েলের, শিগগিরই ওয়াশিংটন যাচ্ছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম শিগগিরই ওয়াশিংটন ডিসি সফরে যাচ্ছেন। ইসরায়েল লেবাননের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানানোর পর এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে শুক্রবার সিএনএনকে জানিয়েছে লেবানন সরকারের একটি সূত্র।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আপাতত বহাল থাকলেও তা চাপের মুখে রয়েছে।
বিশেষ করে, লেবাননে হামলা এই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার বড় ধরনের হামলায় অন্তত ৩০০ জন নিহত হয়েছেন বলে লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সিএনএন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
সূত্র: সিএনএন
ইরানের হামলার পর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা আমিরাতের
ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাদের বৈশ্বিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করার এবং দেশটির অর্থনৈতিক ও আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠন করার ঘোষণা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ এই তথ্য জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে গারগাশ লেখেন, 'একটি বিশ্বাসঘাতকতামূলক হামলার ওপর বিজয়ীর আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমরা আমাদের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মানচিত্র নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখব। আমাদের মডেলের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থার পুনর্গঠনসহ আমরা নির্ধারণ করব যে, কার ওপর আসলে ভরসা রাখা যায়।'
তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমান বাস্তবতায় জাতীয় অগ্রাধিকারগুলোর যৌক্তিক পর্যালোচনাই হচ্ছে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
হামলায় ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করল সৌদি আরব
সৌদি আরব তাদের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে হামলার সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি। তবে এতে বলা হয়েছে, এ হামলায় এক সৌদি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন।
এসপিএর প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ফলে তেল উৎপাদন ও পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে, যা প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি সরবরাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার ফলে প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল তেলের ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য অবকাঠামোয় হামলার কারণে আরও ৬ লাখ ব্যারেল উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে বলে জানিয়েছে এসপিএ।
ডেটা ইন্টেলিজেন্স ও অ্যানালিটিকস প্ল্যাটফর্ম ক্লেপলারের বিশ্লেষক আমেনা বকর সিএনএনকে বলেন, এতে করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মোট সরবরাহ ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন ১ কোটি ২১ লাখ ব্যারেল।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের হামলায় তেল ও গ্যাস স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে সংযত অবস্থান নিয়েছে।
বকর বলেন, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে যেতে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল প্রবাহে এখনও কোনো উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এর আগে সিএনএন জানায়, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সরবরাহ করা স্যাটেলাইট ছবিতে সৌদি আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ আবকাইক প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনা থেকে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।
বুধবার ইরানের হামলার খবরের পর এ চিত্র ধরা পড়ে। তবে ছবিতে দেখা আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ছবিটি ৮ এপ্রিল স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে (ইস্টার্ন টাইম ভোর ৩টা) ধারণ করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সৌদি আরামকোর আবকাইক স্থাপনাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রুড স্ট্যাবিলাইজেশন প্ল্যান্ট।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৫ শতাংশ জোগান দেয়। এ স্থাপনাটি ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের সূচনা বিন্দু।
১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি উপসাগরীয় অঞ্চলের দুটি পাইপলাইনের একটি, যা হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে গেছে। ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে ওই প্রণালীতে বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সিএনএন সৌদি আরামকোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
সূত্র: সিএনএন
ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন আরাগচি-গালিবাফ, দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের; সংলাপ 'স্থগিত হয়েছে' বলছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এই খবরটি ভিত্তিহীন বলে আলোচনা স্থগিতের কথা জানিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া শান্তি আলোচনার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। এই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের।
অন্যদিকে, তাসনিম নিউজ' এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবরটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সূত্রটি জানিয়েছে, 'কিছু সংবাদমাধ্যমে ইরানি প্রতিনিধি দলের ইসলামাবাদ পৌঁছানোর যে খবর প্রচার হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।'
তাসনিম নিউজ আরও জানিয়েছে যে, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। সূত্রের বরাতে তাসনিম নিউজ বলেছে, 'যতক্ষণ পর্যন্ত আমেরিকা লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করবে এবং ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠী (ইসরায়েল) তাদের হামলা বন্ধ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই আলোচনা স্থগিত থাকবে।'
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ, টাইমস অব ইসরায়েল
ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর ব্যাপক রকেট হামলা, উত্তর গ্যালিলি ও হাইফায় সতর্ক সংকেত
গত এক ঘণ্টার মধ্যে উত্তর গ্যালিলি অঞ্চলে সাইরেন বাজার খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে ছোড়া রকেটের হাত থেকে স্থানীয়দের সতর্ক করতেই এই সাইরেন বাজানো হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাতভর উত্তর ইসরায়েলে অন্তত ৬০টি রকেট ছোড়া হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যরাতের পর থেকে দূরপাল্লার বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর ইসরায়েল ছাড়িয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমের আশদোদ এবং উত্তরাঞ্চলীয় বন্দর নগরী হাইফাকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে।
হিজবুল্লাহর এই অব্যাহত হামলা ইসরায়েলি প্রশাসনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ইসরায়েলিই আশা করেছিলেন যে সামরিক অভিযানের ফলে হিজবুল্লাহর আক্রমণ করার ক্ষমতা কমে আসবে। কিন্তু সংগঠনটি যেভাবে এখনও দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
যুদ্ধবিরতির মাঝেই কুয়েত ও সৌদিতে হামলা, অভিযোগের আঙুল ইরানের দিকে; ইরানের অস্বীকার
কুয়েত অভিযোগ করেছে যে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীনই ইরান ও তার প্রক্সি বাহিনী বৃহস্পতিবার দেশটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবও জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক হামলায় তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'কুনা' প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে 'কিছু গুরুত্বপূর্ণ কুয়েতি স্থাপনা লক্ষ্য করে' ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত আলোচনার আগে এই ঘটনা যুদ্ধবিরতির ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'এসপিএ' একজন অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক হামলায় তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন' ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করা হয় এবং এটি হরমুজ প্রণালিকে এড়িয়ে চলার প্রধান পথ। উল্লেখ্য, যুদ্ধ চলাকালীন সাময়িক বিরতি থাকলেও হরমুজ প্রণালি বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা তেহরান কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর চাপ তৈরির একটি অংশ হতে পারে, যার উদ্দেশ্য মূলত ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করা।
কুয়েতের এই অভিযোগের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'ইরনা' ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে কোনো ধরনের হামলার কথা অস্বীকার করা হয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, 'মিডিয়ায় প্রকাশিত এসব খবর যদি সত্য হয়, তবে নিঃসন্দেহে এটি ইহুদিবাদী শত্রু অথবা আমেরিকার কাজ।'
তবে বিভিন্ন সময়ে আইআরজিসি নিজেই বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন আলোচনার আগে দায় এড়ানোর জন্য ইরান এসব হামলা চালাতে ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের ব্যবহার করে থাকতে পারে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
'কোনো ফি আদায় করবে না', ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারাপার হওয়া তেলের ট্যাঙ্কারগুলোর কাছ থেকে ইরান যেন কোনো 'ফি' বা মাশুল আদায়ের চেষ্টা না করে।
নিজের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, 'এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে যে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া ট্যাঙ্কারগুলোর কাছ থেকে ফি আদায় করছে। তাদের জন্য ভালো হবে এমনটা না করা, আর যদি তারা তা করে থাকে তবে তাদের এখনই এটি বন্ধ করা উচিত!'
উল্লেখ্য, গত সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ওই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রও টোল আদায়ের কথা ভাবছে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, 'আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে যেখানে আমরা টোল (মাশুল) আদায় করব।'
পরবর্তী এক পোস্টে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, 'হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে ইরান খুব খারাপ কাজ করছে, কেউ কেউ এটাকে 'অসম্মানজনক'ও বলতে পারেন। আমাদের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, এটা তা নয়!'
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা 'লয়েডস লিস্ট'-এর বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ এর আগে জানিয়েছিল, যুদ্ধ চলাকালীন ইরান তাদের উপকূল থেকে কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত লারক দ্বীপকে তেলের ট্যাঙ্কারগুলোর কাছ থেকে টোল আদায়ের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'মেরিন ট্রাফিক'-এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২২টি জাহাজ সফলভাবে এই প্রণালি পার হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত, বৈরুতে ফের উচ্ছেদের নির্দেশ
লেবাননের সিডন, নাবাতিয়া এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলো জুড়ে সন্ধ্যাজুড়ে টানা ইসরায়েলি বিমান হামলা চলেছে। এই হামলার অংশ হিসেবে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে।
এদিকে, রাজধানী বৈরুতের আকাশে গত রাতের দীর্ঘ সময় ধরে একটি ইসরায়েলি নজরদারি ড্রোনকে চক্কর দিতে দেখা গেছে। পাশাপাশি বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির বাসিন্দাদের এলাকা খালি করার জন্য নতুন করে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, এবার উচ্ছেদের এই নির্দেশের আওতায় আনা হয়েছে জানাহ এলাকাকে। এই এলাকাটিতে এর আগে লেবাননের অন্যান্য প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। ফলে নতুন করে এই নির্দেশে সেখানকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবস্থানে হামলা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, 'কিছুক্ষণ আগে, আইডিএফ (ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস) লেবাননে হিজবুল্লাহর লঞ্চিং সাইটগুলোতে (ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র) আঘাত শুরু করেছে।'
লেবাননের রাষ্ট্রীয় ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননজুড়ে বেশ কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে বিন্ত জবেইল শহরটিও রয়েছে, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হিজবুল্লাহ আগে জানিয়েছিল যে এই এলাকায় তারা ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।
এএফপির একজন প্রতিনিধি দক্ষিণ লেবাননের চৌকাইন গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলার স্থানে উদ্ধারকর্মীদের জীবিতদের সন্ধান করতে দেখেছেন।
ইসরায়েলি হামলার পর উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। হাইফা শহরসহ বেশ কিছু এলাকায় এই সতর্কতা জারি করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং সেনাবাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ড ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: ডন
ইসরায়েলকে 'মানবতার অভিশাপ' বললেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল তেল আবিব
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি নেতৃত্ব। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ইসরায়েলকে 'অশুভ', 'মানবতার জন্য অভিশাপ' এবং 'ক্যানসার' বলে অভিহিত করার পর এই কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে খাজা আসিফ অভিযোগ করেন যে, যখন ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা চলছে, তখন লেবাননে গণহত্যা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, 'যখন ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা চলছে, তখন লেবাননে গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছে। ইসরায়েলের হাতে নিরীহ নাগরিকরা নিহত হচ্ছে; প্রথমে গাজা, তারপর ইরান এবং এখন লেবানন—রক্তপাত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি আশা করি এবং প্রার্থনা করি, যারা ইউরোপীয় ইহুদিদের হাত থেকে মুক্তি পেতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এই ক্যানসারতুল্য রাষ্ট্র তৈরি করেছে, তারা যেন নরকের আগুনে পোড়ে।'
খাজা আসিফের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলেছে, 'ইসরায়েলকে ধ্বংস করার এই আহ্বান অত্যন্ত আপত্তিকর। কোনো সরকারের পক্ষ থেকেই এ ধরনের বক্তব্য সহ্য করা যায় না, বিশেষ করে এমন এক সরকারের কাছ থেকে নয় যারা নিজেকে শান্তির জন্য একটি নিরপেক্ষ সালিসকারী হিসেবে দাবি করে।'
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার-ও খাজা আসিফের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি একে 'শান্তি মধ্যস্থতার দাবি করা একটি সরকারের পক্ষ থেকে আসা চরম বৈরী ও ইহুদি-বিদ্বেষী রক্তপিপাসু অপবাদ' বলে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সুরেই তিনি বলেন, 'ইহুদি রাষ্ট্রকে 'ক্যানসার' বলা কার্যত একে ধ্বংস করার ডাক দেওয়ারই নামান্তর।'
সার আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'যারা ইসরায়েলকে ধ্বংস করার শপথ নেয়, সেই সব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল নিজেকে রক্ষা করবে।'
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
এশীয় বাজারে শুক্রবার শুরুর দিকের লেনদেনে তেলের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিতভাবে জাহাজ চলাচল এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এই দাম বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
গ্রিনিচ মান সময় শুক্রবার রাত ১টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজার সূচক অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ০.৮৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬.৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান 'খুবই খারাপ কাজ' করছে। একই সঙ্গে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহারের জন্য জাহাজের কাছ থেকে ফি বা টোল আদায় না করার বিষয়েও তেহরানকে সতর্ক করে দিয়েছেন।
সৌদি প্রেস এজেন্সি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, সৌদি আরবের তেল উৎপাদন কেন্দ্রে এর আগে হওয়া হামলার প্রভাবে দেশটির দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া দেশটির 'ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন'-এর মাধ্যমে তেলের সরবরাহ দৈনিক আরও ৭ লাখ ব্যারেল কমেছে। এটি বিশ্ববাজারে সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
লেবাননের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার নির্দেশ নেতানিয়াহুর, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে বৈঠক
ইসরায়েল ও লেবানন আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে সরাসরি সংলাপে বসতে যাচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি আলোচনার নির্দেশ দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, 'আমরা নিশ্চিত করছি যে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা এগিয়ে নিতে আমাদের বিভাগ আগামী সপ্তাহে একটি বৈঠকের আয়োজন করবে।' এর মাধ্যমে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ডন
