Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Friday
June 05, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
FRIDAY, JUNE 05, 2026
নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা ও যুদ্ধের খরচ জোগাতে ইরানকে যেভাবে সাহায্য করছে চীন

আন্তর্জাতিক

দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল
07 April, 2026, 11:30 am
Last modified: 07 April, 2026, 11:38 am

Related News

  • এখনও মোজতবার সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য হয়নি, তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই: ট্রাম্প
  • আমি না থাকলে এখন ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প
  • ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভর্তুকির চাহিদা বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা
  • ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ভোট: কতটা কার্যকর হবে এই পদক্ষেপ?
  • ‘বাঙ্কার বাস্টার বোমার নাগালেরও বাইরে’: কোথায় আছে ইরানের অতি-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম?

নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা ও যুদ্ধের খরচ জোগাতে ইরানকে যেভাবে সাহায্য করছে চীন

এক দশক আগে চীন ইরানের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় ৩০ শতাংশ কিনত, কিন্তু এখন তারা প্রায় সবটুকু তেলই কিনে নিচ্ছে।
দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল
07 April, 2026, 11:30 am
Last modified: 07 April, 2026, 11:38 am
চীনের ঝৌশান বন্দরে ইরান থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলবাহী একটি তেল ট্যাংকারকে টাগবোট দিয়ে নোঙর করানো হচ্ছে। ছবি: ইয়াও ফেং/এপি

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করেছিল, যাতে বিশ্ববাজার থেকে দেশটির তেল সরিয়ে দেওয়া যায় এবং তেহরানের আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ করা যায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ইরান বর্তমানে প্রতি মাসে কয়েক বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রি করছে। এর জন্য তারা একটি দেশের কাছে বিশেষভাবে ঋণী, আর সেটি হলো চীন।

নিষেধাজ্ঞা যত কঠোর হয়েছে, তেহরানের এই এশীয় অংশীদার ইরান থেকে তেল কেনার পরিমাণ ততই বাড়িয়েছে। এক দশক আগে চীন ইরানের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় ৩০ শতাংশ কিনত, কিন্তু এখন তারা প্রায় সবটুকু তেলই কিনে নিচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তা ও গবেষকদের মতে, এই ক্রয়-বিক্রয় সম্ভব করতে চীনা ক্রেতারা ইরানের সঙ্গে মিলে বিশ্বের অন্যতম বড় একটি 'নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার নেটওয়ার্ক' গড়ে তুলেছে। তেলের মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে চীনের ছোট ছোট ব্যাংকগুলোকে ব্যবহার করা হয়, যাদের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম সীমিত। ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লেও তাদের খুব একটা হারানোর ভয় থাকে না এবং তাদের কার্যক্রম থামানোও কঠিন হয়ে পড়ে।

হংকং এবং অন্যান্য স্থানে ইরানের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন 'ফ্রন্ট কোম্পানি' (কাগুজে প্রতিষ্ঠান) এই অর্থ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে।

ওয়াশিংটনের রোষানলে পড়ার ভয়ে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি জায়ান্টগুলো বাজার ছেড়ে দেওয়ার পর, দেশটির 'টিপট' নামে পরিচিত ছোট ও বেসরকারি শোধনাগারগুলো ইরানি অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা হয়ে উঠেছে। এই বাণিজ্য গোপন রাখতে প্রায়ই ভুয়া রসিদ ব্যবহার করা হয় এবং তেলের উৎস সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিংকট্যাঙ্ক 'ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্র্যাসিস'-এর বিশেষজ্ঞ ম্যাক্স মেইজলিশ বলেন, নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে চীন হলো ইরানের 'প্রধান অংশীদার'। তিনি মনে করেন, চীনের বছরের পর বছর দেওয়া এই সমর্থন ছাড়া ইরানের পক্ষে বর্তমান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো না।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক লিখিত জবাবে জানিয়েছে, তারা 'অবৈধ্য ও অযৌক্তিক একতরফা নিষেধাজ্ঞার' তীব্র বিরোধী। বেইজিং এর আগেও বলেছে, নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। তবে পর্দার আড়ালে বেইজিং সবসময় সতর্ক ছিল যাতে তাদের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী হিসেবে দেখা না হয়, কারণ এতে ওয়াশিংটনের ক্ষোভের মুখে পড়ার এবং উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তা সত্ত্বেও অন্যান্য দেশের তুলনায় চীন ইরানের তেলের আকর্ষণ এড়াতে পারেনি। নিজেদের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সস্তায় তেল পাওয়ার সুযোগ থাকায় চীন এই বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্যগুলোও বাধার মুখে পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র এই বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা ও নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়েছে। তবে চীনকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অস্থিতিশীল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেও এই নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার ব্যবস্থাটি সচল রয়েছে, যদিও তেহরান পশ্চিমা জাহাজ চলাচলের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। ইরান এই জলপথে মাইন বসিয়েছে এবং মার্কিন মিত্রদের তেলবাহী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, দেশটির নিজস্ব পণ্যবাহী ট্যাংকারগুলো এখনো নিয়মিতভাবে চীনের বন্দরের দিকে যাত্রা করছে।

দাপ্তরিকভাবে চীনের শুল্ক কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সাল থেকে ইরান থেকে কোনো অপরিশোধিত তেল আমদানির তথ্য নথিবদ্ধ করেনি। গবেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমিয়ে রাখতেই বেইজিং উদ্দেশ্যমূলকভাবে এমনটি করছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'কেপলার'-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীন ইরান থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল তেল কিনেছে।

এটি গত বছর ইরানের মোট তেল বিক্রির ৮০ শতাংশেরও বেশি। ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগের নীতি শুরু হওয়ার আগে চীন প্রতিদিন যে পরিমাণ (প্রায় সাড়ে ৬ লাখ ব্যারেল) তেল কিনত, বর্তমান হার তার দ্বিগুণেরও বেশি।

সর্বোচ্চ চাপ

অনেক বছর আগে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা যখন এখনকার মতো কঠোর ছিল না, তখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোও ইরান থেকে প্রকাশ্যেই অপরিশোধিত তেল কিনত।

সাবেক ওবামা প্রশাসন পরে নিয়মকানুন কঠোর করলে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ২০১৫ সালে তেহরানের সাথে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর পর তারা সেই নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল করেছিল। তখন ভারত, ইতালি ও গ্রিসের মতো অনেক দেশ ইরান থেকে তেল কেনার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর পুরো দৃশ্যপট বদলে যায়। তিনি ওবামা আমলের পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেন এবং 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করে এযাবৎকালের কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ইরান থেকে তেল কেনা বা এই বাণিজ্যে অর্থায়নকারী যে কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির হুমকি দেয় ওয়াশিংটন।

বাজার পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান 'কেপলার'-এর তথ্যমতে, ২০১৮ সালের মে মাসে যেখানে ইরানের তেল রপ্তানি ছিল দৈনিক প্রায় ২৮ লাখ ব্যারেল, ২০১৯ সালের আগস্টে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়ায় মাত্র ২ লাখে।

তবে দমে না গিয়ে চীনের সহায়তায় ইরান খুব দ্রুতই পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মার্কিন কর্মকর্তা ও গবেষকদের মতে, তেহরান তখন গোপনে একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। তারা 'সাহারা থান্ডার' ও 'সেপেহর এনার্জি'র মতো অখ্যাত নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খোলে এবং ইরানের তেলকে ওমান বা মালয়েশিয়ার তেল হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া রসিদ তৈরি করতে থাকে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করেছিল, যাতে বিশ্ববাজার থেকে দেশটির তেল সরিয়ে দেওয়া যায় এবং তেহরানের আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ করা যায়। ছবি: রয়টার্স

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিঃসন্দেহে তেহরানের জন্য তেল বিক্রির খরচ বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তাদের আয় কমিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তেহরান ধারাবাহিকভাবে তেল বিক্রির পথ বের করতে সক্ষম হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাদের তেল বাণিজ্যের প্রায় পুরোটাই চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেষ নাগাদ ইরানের তেল রপ্তানি দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে যায়, যার সিংহভাগই চীনে পাঠানো হয়।

মার্কিন কর্মকর্তা ও গবেষকরা বলছেন, এই গোপন বাণিজ্য সচল রাখার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে 'শ্যাডো ফ্লিট'-এর (গোপন ট্যাংকার বহর) বিস্তার। মধ্যপ্রাচ্য ও চীন ভিত্তিক ট্যাংকার অপারেটররা নানা ধরণের ছদ্মবেশ ধারণ করত। তারা মাঝেমধ্যেই জাহাজের নাম পরিবর্তন করত, নিজেদের অবস্থান শনাক্তকারী ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখত এবং মাঝসমুদ্রে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করত যাতে তেলের প্রকৃত উৎস আড়াল করা যায়।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'সি৪এডিএস'-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত চীনভিত্তিক একটি ট্যাংকার নেটওয়ার্কে অন্তত ৫৬টি জাহাজ রয়েছে, যারা এ পর্যন্ত ইরানের ৪০ কোটিরও বেশি ব্যারেল নিষিদ্ধ তেল পাচার করতে সহায়তা করেছে।

'টিপট' শোধনাগারের চাহিদা পূরণ

চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে এই তেলের জন্য ক্রেতার প্রয়োজন ছিল। সাইনোপেক এবং সিএনপিসি-র মতো ইরানের ঐতিহ্যবাহী বড় গ্রাহকদের বিশ্বজুড়ে বড় পরিসরে ব্যবসা রয়েছে। ফলে ইরানি তেল কিনে নিষেধাজ্ঞা ভাঙলে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বাজারে প্রবেশাধিকার হারানোর ঝুঁকি ছিল, যা তারা নিতে চায়নি।

কিন্তু চীনের ছোট ছোট শোধনাগারের একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে, যেগুলোকে 'টিপট' বলা হয়। এগুলো বড় বড় রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের বাইরে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। ধারণা করা হয়, এই কোম্পানিগুলো ডলারের বদলে চীনা মুদ্রা ইউয়ান-এ দাম পরিশোধ করে, যার ফলে তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়ার ঝুঁকি অনেক কম থাকে।

চীনের শানডং প্রদেশের ছিংদাওয়ে একটি তেল শোধনাগার। ছবি: সিএফওটো/ফিউচার পাবলিশিং

বেইজিং ধীরে ধীরে এসব টিপট শোধনাগারের আমদানির সীমা বাড়াতে শুরু করে। আগে রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট কোটার বাইরে তারা বেশি তেল আনতে পারত না। চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বেসরকারি খাতের জন্য অপরিশোধিত তেলের আমদানি কোটা ছিল ১৪ কোটি মেট্রিক টন, যা চলতি বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ৭০ লাখ মেট্রিক টনে।

অর্থের প্রবাহ

তেলের দাম পরিশোধের উপায় খুঁজে বের করাও চীনা ক্রেতাদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা ছিল। কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংকগুলোর জন্য ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা ছিল অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ।

তারা তখন চীনের ছোট ছোট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ে। টিপট শোধনাগারগুলোর মতো এই ব্যাংকগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তু হলেও খুব একটা ক্ষতির আশঙ্কা ছিল না, কারণ চীনের বড় ব্যাংকগুলোর মতো এদের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক স্বার্থ খুব একটা নেই।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এমনই একটি প্রতিষ্ঠান হলো 'ব্যাংক অফ কুনলুন'। এটি কাজাখস্তান সীমান্তের কাছে একটি মরু শহরে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করেছিল, যা পরে ২০০৯ সালে চীনা জ্বালানি জায়ান্ট সিএনপিসি কিনে নেয়।

ব্যাংক অফ কুনলুন। ছবি: রয়টার্স

২০১২ সালে ইরানের ব্যাংকগুলোকে কয়েক শ কোটি ডলারের আর্থিক সেবা দেওয়ার অভিযোগে কুনলুনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এতে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় ব্যাংকটির প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞাই ব্যাংকটিকে চীনের নিজস্ব মুদ্রায় ইরানের সাথে বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধান পছন্দে পরিণত করে।

আর্থিক তথ্যানুযায়ী, এরপর ব্যাংকটির খুব দ্রুত উন্নতি হয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতে, ২০২২ সাল নাগাদ ইরানের তেল বিক্রির আয়ের একটি 'বিশাল অংশ' এই ব্যাংকেই জমা ছিল।

কুনলুন ব্যাংক অবশ্য এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি।

জটিল লেনদেন

মার্কিন ফেডারেল আদালতে দায়ের করা অভিযোগপত্র থেকে চীন-ইরান বাণিজ্যের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে মার্কিন তদন্তকারীদের একটি বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়।

২০২৪ সালের একটি মামলায় মার্কিন কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেছেন, ইরানি অপরিশোধিত তেলের ক্রেতারা অনেক সময় সরাসরি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে লেনদেনে জড়িত হন। 'চায়না অয়েল অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম কোং' নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের (ফ্রন্ট কোম্পানি) মাধ্যমে তারা কয়েক কোটি ডলারের তেলের চুক্তি সম্পন্ন করেন।

অভিযোগপত্রে বর্ণিত একটি ঘটনায় দেখা যায়, পারস্য উপসাগরের সিরি দ্বীপ থেকে 'ওমান প্রাইড' নামের একটি জাহাজ ইরানের অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে। ওই সময় উপসাগরের বাইরে অবস্থানরত অন্য একটি জাহাজ ভুয়া সিগন্যাল পাঠিয়ে নিজেদের 'ওমান প্রাইড' হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিল। পরে আসল 'ওমান প্রাইড' থেকে তেল নামিয়ে অন্য একটি জাহাজে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে তা চীনে পাঠানো হয়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হংকং এবং অন্যান্য স্থানে থাকা কাগুজে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে চীনা মুদ্রা ইউয়ানকে ডলার, ইউরো বা ইরানের প্রয়োজনীয় অন্য কোনো বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করা হয়। 

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের অর্থনৈতিক যুদ্ধ ইউনিটের সাবেক প্রধান উদি লেভির গবেষণা অনুযায়ী, 'ব্যাংক তেজারত' নামের একটি বড় ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অধীনস্থ এক এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমেই হংকং ও চীনে ৬৬টি কাগুজে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতো।

কিছু ক্ষেত্রে তেলের মূল্য পরিশোধের জন্য চীনা ক্রেতাদের নগদ অর্থ পাঠানোরও প্রয়োজন পড়ে না। এর পরিবর্তে তারা 'পণ্য বা সেবা বিনিময়' বা বার্টার ব্যবস্থার আশ্রয় নেয়। এই ব্যবস্থায় তেলের দামের বিনিময়ে ইরানে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করে দেয় চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের আগের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল , ২০২৪ সালে এই বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৮৪০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।

Related Topics

টপ নিউজ

চীন / ইরান / ইরানের তেল / মার্কিন নিষেধাজ্ঞা / ইরান যুদ্ধ

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস
    দেশে আনঅফিশিয়াল সাবস্ক্রিপশন বাজারের রমরমা ব্যবসা—কিন্তু কেন?
  • ছবি: টিবিএস
    ‘ওড়না বেঁধে ধর্ষণ, আলামত গোপনের জন্য মাথা কাটি’: আদালতে রামিসার ঘাতক সোহেলের জবানবন্দি
  • ছবি: সংগৃহীত
    বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান
  • ১ ঘণ্টা কলম বিরতি পালনের নির্দেশনা নেই, সেবা না দিলে ব্যবস্থা: ইসলামী ব্যাংকের এমডি
    ১ ঘণ্টা কলম বিরতি পালনের নির্দেশনা নেই, সেবা না দিলে ব্যবস্থা: ইসলামী ব্যাংকের এমডি
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
    ‘বাংলাদেশে কাকে খুন করিয়েছিলেন’ মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা
  • ছবি: রয়টার্স
    ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ইথিলিন সংকট, জাপানে খাবার টেবিল থেকে ‘হারিয়ে যেতে পারে’ কলা

Related News

  • এখনও মোজতবার সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য হয়নি, তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই: ট্রাম্প
  • আমি না থাকলে এখন ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প
  • ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভর্তুকির চাহিদা বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা
  • ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ভোট: কতটা কার্যকর হবে এই পদক্ষেপ?
  • ‘বাঙ্কার বাস্টার বোমার নাগালেরও বাইরে’: কোথায় আছে ইরানের অতি-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম?

Most Read

1
ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস
বাংলাদেশ

দেশে আনঅফিশিয়াল সাবস্ক্রিপশন বাজারের রমরমা ব্যবসা—কিন্তু কেন?

2
ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

‘ওড়না বেঁধে ধর্ষণ, আলামত গোপনের জন্য মাথা কাটি’: আদালতে রামিসার ঘাতক সোহেলের জবানবন্দি

3
ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান

4
১ ঘণ্টা কলম বিরতি পালনের নির্দেশনা নেই, সেবা না দিলে ব্যবস্থা: ইসলামী ব্যাংকের এমডি
বাংলাদেশ

১ ঘণ্টা কলম বিরতি পালনের নির্দেশনা নেই, সেবা না দিলে ব্যবস্থা: ইসলামী ব্যাংকের এমডি

5
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

‘বাংলাদেশে কাকে খুন করিয়েছিলেন’ মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা

6
ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ইথিলিন সংকট, জাপানে খাবার টেবিল থেকে ‘হারিয়ে যেতে পারে’ কলা

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net