ইরান সংঘাতের মধ্যেই প্রেসিডেন্টের ‘যুদ্ধ ক্ষমতা’ নিয়ে ভোটাভুটিতে যাচ্ছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং যেকোনো সংঘাতের আগে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে বুধবার মার্কিন সেনেটে একটি দ্বিদলীয় যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার সেনা মোতায়েনের ক্ষমতাকে সীমিত করতে ডেমোক্র্যাট এবং কয়েকজন রিপাবলিকান মিলে এই সর্বশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রস্তাবের উদ্যোক্তারা বলছেন, মার্কিন সংবিধানে উল্লেখিত যুদ্ধ ঘোষণার বিষয়ে কংগ্রেসের যে নিজস্ব এখতিয়ার রয়েছে, তা পুনরায় নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকালের ভোটাভুটির আগে এক টেলিফোন সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা, ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সেনেটর টিম কেইন বলেন, 'এই বিষয়ে কংগ্রেসের প্রতিটি সদস্যের আনুষ্ঠানিক অবস্থান থাকাটা অত্যন্ত জরুরি বলে আমি মনে করি।'
তিনি আরও বলেন, 'যদি যুদ্ধ নিয়ে 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোট দেওয়ার সৎসাহস আপনার না থাকে, তবে আমাদের তরুণ সমাজকে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে পাঠানোর অধিকার আপনি কীভাবে পান?'
মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় জায়গাতেই ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এর আগেও প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা খর্ব করার এ ধরনের প্রস্তাব তারা আটকে দিয়েছে।
রিপাবলিকানদের অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটরা জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করছে। তাদের দাবি, ট্রাম্প কেবল সীমিত আকারের সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা। এ জাতীয় অভিযানকে কোনোভাবেই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বলা যায় না।
তবে পাঁচ দিন আগে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান এরই মধ্যে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ইরান, ইসরায়েলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এর প্রভাব পড়েছে এবং প্রথম মার্কিন হতাহতের খবরও সামনে এসেছে।
নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে বৃহস্পতিবার এই প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার লুইজিয়ানার রিপাবলিকান হাউজ স্পিকার মাইক জনসন জানান, তার ধারণা এই প্রস্তাবটি বাতিল করার মতো যথেষ্ট ভোট তাদের হাতে রয়েছে। তিনি এই প্রস্তাবটিকে মার্কিন সেনাদের বিপদে ফেলার এবং ইরানি বাহিনীকে উৎসাহিত করার অপচেষ্টা বলে বর্ণনা করেন।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'ভাবুন তো এমন একটা অবস্থা, যেখানে কংগ্রেস ভোট দিয়ে কমান্ডার-ইন-চিফ বা সেনাপ্রধানকে বলছে যে তিনি আর এই মিশন সম্পন্ন করতে পারবেন না। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি ব্যাপার।'
ইরান সংঘাত নিয়ে শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটি গোপন ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়ার পরই তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রস্তাবটি সেনেটে পাস হলেও, প্রতিনিধি পরিষদেও এটি পাস হতে হবে। আর ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভেটো আটকাতে দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ কঠিন।
তবে সেনেটর কেইন জানিয়েছেন, ইরান সংঘাত যদি অব্যাহত থাকে, তবে তিনি এবং এই প্রস্তাবের অন্য সমর্থকরা আবারও চেষ্টা করবেন।
তিনি বলেন, 'কখনো কখনো মানুষ চিন্তিত হয়ে 'না' ভোট দেয়, কিন্তু পরিস্থিতি এগোতে থাকলে পরে হয়তো তারা 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে।'
