এপস্টিন ফাইলে বিকিনি পরা নারীদের সঙ্গে স্টিফেন হকিংয়ের ককটেল পানের ছবি
প্রয়াত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংকে বিকিনি পরা দুই নারীর পাশে একটি সান লাউঞ্জারে বিশ্রাম নিতে দেখা যাচ্ছে—এমন একটি আলোকচিত্র 'এপস্টিন ফাইলস'-এ প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্ববিখ্যাত এই ব্রিটিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীকে তারিখবিহীন ছবিটিতে হেলান দিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়, তার হাতে একটি ককটেল গ্লাস রাখা রয়েছে।
দুই নারীর একজন সেই পানীয়টি ধরে স্থির রাখতে সহায়তা করছেন। জানা গেছে, ওই দুই নারীই ছিলেন তার দীর্ঘদিনের সেবিকা, কারণ হকিংয়ের সার্বক্ষণিক পরিচর্যার প্রয়োজন ছিল।
ব্ল্যাক হোল ও মহাবিশ্বে সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব নিয়ে তার পথপ্রদর্শক গবেষণা আধুনিক মহাকাশতত্ত্বে বিপ্লব ঘটায়। ৫৫ বছরেরও বেশি সময় মোটর নিউরোন রোগে ভোগার পর ২০১৮ সালে ৭৬ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে তদন্তের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যে নথিপত্র প্রকাশ করেছে, সেই নথির মধ্যেই ছবিটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ছবিটি ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের সেন্ট থমাসে অবস্থিত রিটজ কার্লটন হোটেলে আয়োজিত একটি বিজ্ঞান সম্মেলনের সময় তোলা হয় বলে জানা গেছে। সেখানে হকিং কোয়ান্টাম কসমোলজি বিষয়ে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন।
এপস্টিন ফাইলস-এ স্টিফেন হকিংয়ের নাম শত শতবার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নথিতে কারও নাম থাকা মানেই কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধে জড়িত থাকা বোঝায় না—এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে হকিংকে এপস্টিনের ক্যারিবীয় দ্বীপে তোলা কয়েকটি ছবিতে দেখা গিয়েছিল। তবে তার সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত পেডোফাইল জেফ্রি এপস্টিনের একসঙ্গে থাকা কোনো ছবি পাওয়া যায়নি।
তিনি ছিলেন সেই ২১ জন বিজ্ঞানীর একজন, যারা সেন্ট থমাস এবং এপস্টিনের ৭৫ একর আয়তনের ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমসে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন।
জেফ্রি এপস্টিন ভিআই ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অতিথিরা 'আলোচনা, সমুদ্রসৈকতে বিশ্রাম এবং কাছের ব্যক্তিগত দ্বীপে ভ্রমণ'-এ অংশ নেন। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল 'মহাকর্ষের সংজ্ঞা নির্ধারণে কোনো ঐকমত্য আছে কি না, তা নিরূপণ করা'।
দুই বছর আগে প্রকাশিত আদালতের নথিতে জানা যায়, এপস্টিন তার সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলকে বলেছিলেন, তার অভিযোগকারী ভার্জিনিয়া জিউফ্রের বন্ধুদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব করা যেতে পারে—যদি তারা প্রমাণ করতে পারেন যে হকিং একটি 'অপ্রাপ্তবয়স্কদের অর্গি'-তে জড়িত ছিলেন—এমন অভিযোগটি মিথ্যা।
২০১৫ সালে প্রকাশিত একটি ছবিতে হকিংকে তার হুইলচেয়ারে বসা অবস্থায় লিটল সেন্ট জেমসে একটি উন্মুক্ত নৈশভোজে অন্য কয়েকজনের সঙ্গে দেখা যায়।
আরেকটি ছবিতে এই মহাকাশতাত্ত্বিককে একটি সাবমেরিনে করে দ্বীপের সমুদ্রতল ভ্রমণ করতে দেখা যায়।
খবরে বলা হয়, হকিং যাতে সাবমেরিনটিতে উঠতে পারেন, সে জন্য এপস্টিন নৌযানটিতে বিশেষ পরিবর্তন এনেছিলেন।
হকিং পরিবারের একজন মুখপাত্র বলেন, 'প্রফেসর হকিং বিশ শতকে পদার্থবিজ্ঞানে কিছু সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান রেখেছেন। একই সঙ্গে তিনি মোটর নিউরোন রোগে আক্রান্তদের মধ্যে সর্বাধিক দীর্ঘকাল বেঁচে থাকা ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই দুর্বলতাজনিত রোগের কারণে তিনি ভেন্টিলেটর, ভয়েস সিন্থেসাইজার, হুইলচেয়ার এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তার পক্ষ থেকে অনুপযুক্ত আচরণের কোনো ইঙ্গিতই সম্পূর্ণ ভুল এবং অত্যন্ত অযৌক্তিক।'
