চিঠির দিন শেষ, ডাক বিভাগেই এখন স্বল্প খরচে পাঠানো যাচ্ছে ঘরের আসবাব: ৩ মাসে পরিবহন করেছে ৬০০ টন পণ্য
ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন জিহান চৌধুরী। সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে ভাড়া বাসার সব জিনিসপত্রও। উপায় খুঁজতে একদিন তিনি হাজির হলেন একটি পোস্ট অফিসে। জানতে চাইলেন, ঘরের পুরো জিনিসপত্র কি আলাদা আলাদা করে অন্য জেলায় পাঠানো সম্ভব?
শুধু কাপড়চোপড় কিংবা কাগজপত্রের পার্সেলই নয়; সোফা, ফ্রিজের মতো ঘর সাজানোর সবকিছুই যদি চিঠির মতো ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া যেত! কাউন্টারের ওপাশে বসা কর্মী তার কথা শুনে কিন্তু হেসে উড়িয়ে দেননি, বরং মনোযোগ দিয়ে অনুরোধটি লিখে রেখেছেন। কারণ, দেশের অন্যতম প্রাচীন যোগাযোগব্যবস্থা বাংলাদেশ ডাক বিভাগের কাছে এখন আর খুব ভারী বা অদ্ভুত কোনো কিছুই বহনের অযোগ্য নয়।
গত তিন মাসেই ডাক বিভাগের 'স্পিড পোস্ট' সেবার মাধ্যমে পরিবহন করা হয়েছে প্রায় ৬০০ টন পণ্য। এই তালিকায় রয়েছে ফ্রিজ, পরীক্ষামূলকভাবে পাঠানো মোটরসাইকেল, আলমারি, ওয়ার্ডরোব ও বড় আকারের নানা আসবাবপত্র। এমনকি বাড়ি ফেরার সময় শিক্ষার্থীরা এই সেবায় পাঠিয়েছেন লেপ-তোশক ও বালিশও।
পণ্য পরিবহনের এই তালিকায় আরও রয়েছে রান্নাঘরের ছুরি, প্রেসার কুকার, ইন্ডাকশন চুলা, এলইডি টেলিভিশন, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, সাইকেল থেকে শুরু করে কীটনাশক ছিটানোর যন্ত্র পর্যন্ত। যন্ত্রপাতির পাশাপাশি এখন একই ভ্যানে মৌসুমি ফলও পরিবহন করা হচ্ছে। এর ভাড়াও বেশ সাশ্রয়ী—প্রথম এক কেজির জন্য মাত্র ১০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কেজির জন্য নেওয়া হচ্ছে ৫ টাকা করে।
চিঠি বিলির ধীরগতির প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ডাক বিভাগের ক্ষেত্রে পণ্যের এমন তালিকা বেশ চমকপ্রদই বটে। একই ভ্যানে প্রেসার কুকার ও মোটরসাইকেল পরিবহন করা হচ্ছে এবং সেটির ভাড়াও এত কম—সাধারণত এমন চিত্র সচরাচর দেখা যায় না। তবে কোন ধরনের পণ্য পাঠানো যাবে না, সে বিষয়ে ডাক বিভাগ সুনির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ, বিপজ্জনক রাসায়নিক, মাদকদ্রব্য, জীবন্ত প্রাণী, আগ্নেয়াস্ত্র এবং খালি কিংবা ভর্তি গ্যাস সিলিন্ডার।
এসব নির্দিষ্ট পণ্য বাদে নীতিগতভাবে প্রায় সব ধরনের সামগ্রীই এখন ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো সম্ভব।
ডাক বিভাগ নিয়ে মানুষের এত দিনের প্রচলিত ধারণা অবশ্য এমন ছিল না। ডাকসেবার অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জাকির হাসান নূরের স্মৃতিচারণে উঠে আসে, একসময় এই প্রতিষ্ঠানের মূল শক্তি ছিল ধৈর্য, কোনোভাবেই গতি নয়।
তিনি বলেন, 'কোনো কিছু পৌঁছাতে দেরি হলেও মানুষ জানত, অন্তত সেটি পৌঁছাবে। আগে ডাক ছিল ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যম; এখন এটি ব্যবসায়িক যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।'
২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে 'স্পিড পোস্ট' সেবা চালু হলেও এতদিন তা চলেছে অনেকটা নীরবেই—বড় কোনো প্রচার কিংবা বাড়তি উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়াই।
জাকিরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই রূপান্তরটি ডাক বিভাগের নেটওয়ার্ক, যানবাহন কিংবা ভাড়ার কারণে আসেনি; এসেছে কাজের মানসিকতায় পরিবর্তনের হাত ধরে। আর এই পরিবর্তনের সূচনা তার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, 'এখন আমরা উদ্যম নিয়ে কাজ করি। এখানে যোগ দেওয়ার পর সবার মধ্যে এই মানসিকতা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। এ ছাড়া ডাক বিভাগ আগের মতোই কাজ করছে। শুধু আগের চেয়ে অনেক বেশি উদ্যমী হয়েছি আমরা।'
বেসরকারি কুরিয়ারগুলোর সঙ্গে তুলনা করলেই সরকারি এই ব্যবস্থার পরিবর্তনের সুফল সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাকির নিজেই আগ্রহ নিয়ে দুই ব্যবস্থার খরচের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।
দারাজের কোনো পণ্য কাছের পোস্ট অফিসে পৌঁছে দিতে ডাক বিভাগের মাধ্যমে খরচ পড়ে প্রায় ৩০ টাকা। অথচ একই পণ্য বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠাতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত। জাকির এই পার্থক্যের ওপরই জোর দিতে চান। তার মতে, বাজারের প্রচলিত খরচের চেয়ে অনেক কম খরচে সাধারণ মানুষকে সেবা দেওয়াই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।
রংপুরে বসে তেলজাত পণ্যের ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ডাক বিভাগের এমন কম খরচে পণ্য পাঠানোর সুযোগ তার মতো উদ্যোক্তাদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।
মাত্র দুই মাস আগেও তিনি পুরোপুরি বেসরকারি কুরিয়ারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তখন দূরত্বের ব্যবধান ও ওজনের ভিত্তিতে তার গ্রাহকদের গুণতে হতো ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে স্পিড পোস্টে যুক্ত হওয়ার পর সেই চিত্র একেবারেই পাল্টে গেছে। এখন তার গ্রাহকদের একই পণ্য পাঠাতে খরচ হচ্ছে সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা।
ইব্রাহিম বলেন, 'রংপুর থেকে খুলনায় একটি পণ্য পাঠিয়েছিলাম। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহক সেটি অক্ষত অবস্থায় পেয়েছেন। খরচও অনেক অনেক কম। আমি খুশি, আমার গ্রাহকেরা আরও বেশি খুশি।'
তিনি আরও জানান, ঢাকার ভেতরে এখন ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে। মূলত এই সাশ্রয়ী ভাড়ার কারণেই গ্রাহকেরা নতুন করে ডাক বিভাগের দিকে ঝুঁকছেন।
পণ্য পরিবহনের বর্তমান সক্ষমতা তুলে ধরে ডাক বিভাগের পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক খান হাসান মোহাম্মদ ইকবাল মাসুদ বলেন, 'পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৫০টি বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল আনা হয়েছে। এগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতে চলে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের কাছ থেকে ৪৩টি ডেলিভারি ভ্যান পেয়েছি। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ডাকযোগে পাঠানো ভোটের ব্যালট সরবরাহে এসব ভ্যান ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানগুলো বণ্টন করা হয়েছে।'
এই সক্ষমতা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ডাকসেবার একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করেছি। ভবিষ্যতে আমাদের যানবাহনের বহর আরও উন্নত করা হবে। সব যানবাহন কেনা সম্ভব না হলেও ভাড়া নিয়ে সেবা চালু রাখা হবে।'
স্পিড পোস্টের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের এই পরিসংখ্যানের পেছনে ডাক বিভাগের প্রতি মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনার আরেকটি প্রেক্ষাপট জড়িয়ে আছে। বিষয়টি শুধু দেরিতে পার্সেল পৌঁছানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে মানুষের ভোটাধিকারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ও জড়িত ছিল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছিলেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার। তাদের একটি বড় অংশই ছিলেন প্রবাসী, যারা নিজেদের পবিত্র আমানত দেশে পৌঁছে দেওয়ার ভার তুলে দিয়েছিলেন ডাক বিভাগের হাতে। পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে ভোটারদের সর্বশেষ অগ্রগতি জানানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ব্যালট পেপার নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।
স্পিড পোস্ট সেবা বর্তমানে দেশের প্রতিটি উপজেলায় বিস্তৃত হলেও প্রশাসনিক কাঠামোর একেবারে প্রান্তিক স্তর ইউনিয়ন পর্যায়ে এখনো পৌঁছাতে পারেনি।
জাকির জানান, ডাক বিভাগের এই নির্ভরযোগ্যতার কথা ছড়িয়েছে নিজস্ব গতিতেই। কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞাপন ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মানুষের মুখে মুখেই এর পরিচিতি বেড়েছে। কোনো প্রকার আর্থিক সুবিধা ছাড়াই মূলত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতারাই হয়ে উঠেছেন এই সেবার সবচেয়ে বড় প্রচারক।
তবে সেবার আওতা বাড়ার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতাও যে রয়ে গেছে, সে বিষয়ে খোলামেলা কথা বলতে দ্বিধা করেননি জাকির।
স্পিড পোস্ট এখন দেশের প্রতিটি উপজেলায় পৌঁছালেও ইউনিয়ন পর্যায়ে তা এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক কাঠামোর এই ক্ষুদ্রতম স্তরে সড়কের অবকাঠামো এখনো বেশ নাজুক। পাশাপাশি সেখানে গ্রাহকের চাহিদাও এত কম যে নিয়মিত সেবা চালু রাখা আর্থিকভাবে লাভজনক নয়।
ডাক বিভাগ অবশ্য পণ্য পৌঁছানোর একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ঢাকার ভেতরে ২৪ ঘণ্টা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ৪৮ ঘণ্টা এবং দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে তাদের।
তবে দেশের সব অঞ্চলে এই সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলা বেশ কঠিন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের ডাকঘরগুলোর কর্মীরা এখনো নিয়মিত বেতনকাঠামোর অন্তর্ভুক্ত নন; নামমাত্র ভাতার বিনিময়ে তারা দিনে মাত্র চার ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন। ফলে কর্মীদের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান কাঠামোর মধ্যে সব জায়গায় সময়মতো পার্সেল পৌঁছানোর শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
জাকির বলেন, 'এ কারণে চাইলেও ওই এলাকাগুলোতে আমরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেবা দিতে পারব না।'
এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে নতুন করে স্থায়ী সরকারি কর্মী নিয়োগের পথে হাঁটছে না ডাক বিভাগ। বরং তারা ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল চালুর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। জাকির জানান, বাইরের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার মাধ্যমেই সেবার এই বড় দুর্বলতাটি কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান সমস্যা হলো গ্রাহকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ ও তাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া। পরিবহন নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।'
ডাক বিভাগের প্রত্যাশা, ফ্র্যাঞ্চাইজি অংশীদারেরা পণ্য সংগ্রহ ও বিতরণের এই দুই প্রান্তের দায়িত্ব নিলে সরাসরি গ্রাহকের বাড়ি থেকে পার্সেল সংগ্রহের পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে বিকল্প সুবিধার অভাবে গ্রাহকদের বেসরকারি কুরিয়ারে যাওয়ার যে প্রবণতা রয়েছে, তাও কমে আসবে।
তবে এই প্রক্রিয়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে স্পিড পোস্টের স্বল্প খরচের সুবিধাটি ধরে রাখা যাবে কি না—এমন প্রশ্ন থেকেই যায়। জাকিরের বিশ্বাস, সেবার পরিধি বড় হলে সেই সুবিধা অক্ষুণ্ণ রাখা কঠিন হবে না।
তিনি বলেন, 'খরচ বাড়লেও বর্তমানে চালু থাকা বেসরকারি কুরিয়ার সেবাগুলোর তুলনায় আমাদের খরচ অনেক অনেক কম থাকবে। এমনও হতে পারে, তাদের খরচের মাত্র ৩০ শতাংশে আমাদের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।'
এর নেপথ্যে মূল সমীকরণটি হলো যানবাহনের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার সদ্ব্যবহার।
জাকির এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, 'একটি খালি গাড়ি পাঠালেও যে খরচ হবে, পণ্যভর্তি গাড়ি পাঠালেও সেই দূরত্বের জন্য একই খরচ হবে। কারণ, দূরত্ব কমে বা বাড়ে না। জ্বালানি ও অন্যান্য লজিস্টিক খরচও একই থাকে। তবে গাড়ি পণ্যভর্তি থাকলে ভর্তুকি দিতে হয় কম।'
এত বড় পরিসরে কার্যক্রম বাড়াতে গিয়ে ডাক বিভাগকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোও ঢেলে সাজাতে হচ্ছে। কারণ কেবল বাহ্যিক ভাবমূর্তি বদলালেই চলবে না, ভেতরের কার্যক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।
সম্প্রতি এক কর্মশালায় তেজগাঁওয়ের সেন্ট্রাল মেইল প্রসেসিং সেন্টারকে পুরোপুরি সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর ফলে ঢাকায় আসা ডাক, ঢাকা থেকে বাইরে পাঠানো ডাক এবং রাজধানীর অভ্যন্তরীণ ডাক আদান-প্রদানসহ সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে একটি সমন্বিত ছাদের নিচ থেকে। পূর্বে এসব কার্যক্রম চলত পৃথক রুটে ও ভিন্ন ব্যবস্থায়। ইতোমধ্যে তিন ধরনের ডাক ও পার্সেল পরিবহনকে একটি একক নেটওয়ার্কে নিয়ে আসা হয়েছে।
এদিকে ডাক বিভাগের পুরোনো কেন্দ্র কমলাপুরের রেলওয়ে মেইল সার্ভিস এখন অতিরিক্ত কাজের চাপে রয়েছে। সীমিত পরিসরের এই কেন্দ্রে পরীক্ষার খাতা থেকে শুরু করে গাছের চারা পর্যন্ত বিচিত্র ধরনের পণ্য ও ডাকসামগ্রী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, যদিও এত বহুমুখী কাজের উপযোগী করে কেন্দ্রটি তৈরি করা হয়নি।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পার্সেল আমদানি ও রপ্তানির সুবিধার্থে ঢাকা জেনারেল পোস্ট অফিসের (জিপিও) কার্যপরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকায় একটিমাত্র অতিরিক্ত চাপযুক্ত কেন্দ্রের বদলে গড়ে উঠবে তিনটি সমন্বিত হাব। প্রতিটি হাবের কাজের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট থাকায় এক কাউন্টারের ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ পড়ার প্রবণতা দূর হবে।
তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকের দোরগোড়ায় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার পূরণ করতে হলে ডাক বিভাগের নিজস্ব পুরো পরিবহনব্যবস্থাকে আরও বেশি গতিশীল ও দক্ষ করে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
