চীনকে ‘ইতিবাচকভাবে’ উপস্থাপনের পর সরকারের সবুজ সংকেত পেল সালমানের আটকে থাকা সিনেমা
ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নির্মাতাদের জমা দেওয়া সিনেমা 'মাতৃভূমি'র নতুন সংস্করণে সন্তুষ্ট হয়েছেন। তাই গত সপ্তাহে তারা এই যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রটিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিয়েছেন। এর অর্থ হলো, সিনেমাটি এখন সাধারণ দর্শকের জন্য প্রদর্শনের উপযোগী হয়েছে। সংবাদমাধ্যম 'বলিউড হাঙ্গামা'- এক সূত্রের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রের বরাতে আরও জানা যায়, সালমান খান ১৩ নভেম্বর মুক্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করছেন। তিনি মনে করেন, দিওয়ালি-পরবর্তী সময়ে মানুষ যখন উৎসবের মেজাজে থাকবে, তখন সিনেমাটি মুক্তির জন্য উপযুক্ত সময় হবে।
তিনি আরও বলেন, 'তবে সেন্সর বোর্ডের প্রক্রিয়াটি এখনো বাকি রয়েছে। নির্মাতারা শীঘ্রই ছবিটি সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনে (সিবিএফসি) জমা দেবেন। সিবিএফসি যদি ছবিটিকে ছাড়পত্র দেয় এবং এই মাসের মধ্যে প্রক্রিয়াটি শেষ হয়, তবে সালমান ও তার দলের আগামী ১৩ নভেম্বরই 'মাতৃভূমি' প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।'
সরকারি নির্দেশনার কারণে চলচ্চিত্রে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে এ সম্পর্কে তিনি জানান, 'মাতৃভূমির নতুন সংস্করণটি মূল সংস্করণের তুলনায় অনেকটাই পরিবর্তিত। এছাড়া, বর্তমানে এতে ভারত ও চীনের সম্পর্ককে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকেও তুলে ধরা হয়েছে।'
সালমান খান ছাড়াও 'মাতৃভূমি' চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রাঙ্গদা সিং। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন অপূর্ব লাখিয়া।
'মাতৃভূমি'র মুক্তি আটকে থাকার কারণ
বিষয়বস্তুর স্পর্শকাতরতার কারণে 'মাতৃভূমি' চলচ্চিত্রটি বেশ কয়েক মাস ধরে অনিশ্চয়তায় আটকে ছিল। সিনেমাটি যখন 'ব্যাটল অব গলওয়ান' নামে পরিচিত ছিল, তখন প্রকাশিত এর টিজারে দেখা যায়—১৬ বিহার রেজিমেন্টের আরও ১৯ জন সেনার সাথে গলওয়ান সংঘর্ষে নিহত কর্নেল বিক্কুমল্লা সন্তোষ বাবুর চরিত্রে অভিনয় করছেন সালমান খান।
টিজারটি চীনা রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট মিডিয়ার সমালোচনার মুখে পড়ে। 'গ্লোবাল টাইমস' সিনেমাটির বিরুদ্ধে সত্য বিকৃতি এবং চীন-বিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলে। পরবর্তীতে জানুয়ারিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ ধরনের উদ্যাগে তাদের কোনো ভূমিকা নেই।
পরবর্তীতে মার্চ মাসে সিনেমাটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় 'মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস'। পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া 'হিন্দুস্তান টাইমস'-কে জানান, শিরোনাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি হুট করে নেওয়া হয়নি এবং 'ব্যাটল অব গলওয়ান' ও 'মাতৃভূমি' দুটি নামই শুরু থেকে নিবন্ধিত ছিল। তিনি ব্যাখ্যা করেন, নির্মাতারা একপর্যায়ে অনুভব করেন সিনেমাটি কেবল একটি যুদ্ধের গল্প নয়, বরং এটি "মানবতা, সহানুভূতি এবং আমাদের সৈনিকদের লড়া নীরব যুদ্ধগুলোরও গল্প"।
পরবর্তী প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, নির্মাতারা মুম্বাইতে পুনর্দৃশ্যগ্রহণ এবং প্যাচওয়ার্কের মাধ্যমে সিনেমার যুদ্ধক্ষেত্র ও চীন-বিরোধী অংশগুলোর তীব্রতা অনেকটাই কমিয়ে এনেছেন। বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে কারণ সিবিএফসি-র নতুন জারি করা সেন্সরশিপ নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে—চলচ্চিত্রগুলো যেন "বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক" ক্ষুণ্ন না করে।
'মাতৃভূমি' শুরুতেই এপ্রিলে মুক্তির জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তা অনিশ্চিতকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়। নির্মাতারা পরে স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহান্তসহ অন্যান্য সম্ভাব্য তারিখ বিবেচনা করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে সিনেমাটি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্রজনিত জটিলতায় পড়েছে বলে খবর ছড়ায়।
জুলাই মাসে 'সালমান খান ফিল্মস' সিনেমাটি সেন্সর বোর্ডের সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার প্রতিবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ছবিটি তখনও প্রত্যয়নপত্রের জন্য বোর্ডের কাছে জমাই দেওয়া হয়নি।
এখন সংশোধিত সংস্করণের জন্য সরকারি ছাড়পত্র পাওয়ার পর পরবর্তী বড় ধাপ হলো সিবিএফসি-র সেন্সর ছাড়পত্র প্রক্রিয়া। তবে আগামী ১৩ নভেম্বর মুক্তির জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে 'মাতৃভূমি' প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র ও সেন্সর ছাড়পত্র সম্পন্ন করতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
