অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ: ২ ঘণ্টা পর প্রত্যাহার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় অবরোধ শুরু করেন তারা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দুপুর ১টার দিকে পৌনে দুই ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিয়ে ক্যাম্পাসের দিকে ফিরে যান আন্দোলনকারীরা।
অবরোধের কারণে মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এ সময় কিছু অ্যাম্বুলেন্সকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করতে দেখা যায়।
চট্টগ্রামগামী যাত্রী ফাহিমা আক্তার বলেন, 'সকালে ঢাকা থেকে বাসে উঠেছি। খুব আরামেই যাচ্ছিলাম। কিন্তু এখানে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বসে আছি। গরম আর সহ্য হচ্ছে না।'
বাসচালক আবদুল মতিন বলেন, 'আমরাও চাই এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক। তারা রাস্তা দখল না করে আন্দোলন করতে পারত। আমাদের এভাবে কষ্ট দেওয়ার মানে হয় না।'
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। অবরোধ শেষে তারা মিছিল করতে করতে ক্যাম্পাসের দিকে ফিরে যান।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুল হক বলেন, 'আমরা যানজট নিরসনে কাজ করছি। দ্রুতই মহাসড়ক ক্লিয়ার হয়ে যাবে।'
১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। শনিবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশে সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এর আগে রোববার সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কোটবাড়ির গন্ধমতীতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে, অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে তুহিন নামে এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া আনাস ও ফাহিম নামে আরও দুজনকে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাদের আটকের বিষয়টি এবং অপ্রতিমের মৃত্যুর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
