এগ্রোকেমিক্যাল কাঁচামাল আমদানির সোর্স উন্মুক্ত: বিনিয়োগ বাড়ার আশা ব্যবসায়ীদের
নতুন আমদানি নীতি আদেশের আওতায় এগ্রোকেমিক্যাল উৎপাদন শিল্পের কাঁচামাল আমদানির সোর্স উন্মুক্ত করায় এ খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে এগ্রোকেমিক্যাল পণ্যের কাঁচামাল আমদানির শুল্ক কমানোর পর কাঁচামাল আমদানির ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ায় এ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানান তারা। নতুন নীতির ফলে নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা সরবরাহকারীর কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের বাধ্যবাধকতাও দূর হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বহুজাতিক কোম্পানি ও আমদানিকারকদের সুবিধা দিতে উৎপাদনকারীদের কাঁচামাল আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এসব বিধিনিষেধের কারণে উৎপাদনকারীরা একটি নির্দিষ্ট দেশের নির্দিষ্ট কোম্পানি (সিঙ্গেল কান্ট্রি, সিঙ্গেল সোর্স) থেকে কাঁচামাল আমদানি করতে বাধ্য হতেন। এ কারণে একই দেশের অন্য কোনো কোম্পানি বা ভিন্ন দেশের কোনো কোম্পানি থেকে কম দামে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ থাকলেও তা আমদানি করতে পারতেন না উৎপাদকরা।
গত সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা আমদানি নীতি আদেশে এগ্রোকেমিক্যাল পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে সিঙ্গেল কান্ট্রি সিঙ্গেল সোর্সের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে।
আমদানি নীতি আদেশের ৩০(৮) ধারায় বলা হয়েছে, দেশে গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (গ্যাপ) প্রচলনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়, তার অধীনস্থ সংস্থা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি অনুযায়ী কোনো পণ্যের আমদানিতে এক বা একাধিক উৎস নির্দিষ্টকরণ করা যাবে না।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, নিবন্ধিত কীটনাশক ও বালাইনাশক উৎপাদনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করে বৈধ কীটনাশক ও বালাইনাশকের উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ ও কাঁচামালের তালিকা প্রণয়ন করে আমদানির জন্য প্রকাশ করবে এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ উপাদানের আমদানির অনুমতি দেবে'।
বাংলাদেশের কীটনাশকের বাজারের আকার প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বহুজাতিক কোম্পানি ও প্রস্তুতকারক পণ্য আমদানিকারকদের দখলে রয়েছে প্রায় ৯২ শতাংশ বাজার।
এর আগে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের কাঁচামাল আমদানিতে মোট করের বোঝা ছিল ৫৮ শতাংশ। সর্বশেষ বাজেটে সরকার মাত্র ৩৬টি কাঁচামাল পণ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক বহাল রেখেছে। আর বাকি কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমিয়ে শূন্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যালস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান টিবিএসকে বলেন, শুল্ক হ্রাস ও কাঁচামাল সংগ্রহের উৎস-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ফলে বিনিয়োগের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
'উৎপাদকদের জন্য কাঁচামাল আমদানির সোর্স উন্মুক্ত করায় এ খাতে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে,' বলেন তিনি।
মোস্তাফিজুর বলেন, তার কোম্পানি ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার উৎপাদন সম্প্রসারণের জন্য ইতিমধ্যে বেজা-র অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি বরাদ্দ নিয়েছে এবং উৎপাদিত এগ্রোকেমিক্যাল পণ্য এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন নীতির ফলে এখন অনুমোদনপ্রাপ্ত উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো যেমন বিনিয়োগ বাড়াবে, তেমনি বিদেশি বিনিয়োগও আসবে। তবে ঘোষিত আমদানি নীতি আদেশ কার্যকর করতে দ্রুত উৎপাদকদের নিয়ে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা প্রণয়ন করতে কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে অনুরোধ জানান তিনি।
উৎপাদনকারীদের অভিযোগ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিধিনিষেধ এতদিন বহুজাতিক কোম্পানি ও ফিনিশড পণ্যের আমদানিকারকদের সুবিধা দিচ্ছিল; অন্যদিকে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছিল। ফলে সরকার ২২টি উৎপাদনকারী কোম্পানির অনুমোদন দিলেও কোম্পানিগুলো বিকশিত হতে পারেনি। অন্যদিকে ১ হাজার ৩৪০টি প্রতিষ্ঠানকে ফিনিশড পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
