রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা: শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অধিকতর অভিযোগ গঠন শুনানি ১৪ জুলাই
জয় বাংলা ব্রিগেড'র জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অধিকতর অভিযোগগঠন শুনানির জন্য আগামী ১৪ জুলাই দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালত এই দিন ধার্য করেন।
আইনজীবীদের পক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় কারাগারে আটক ২৬ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে পুরুষ ২১ জন এবং মহিলা পাঁচজন ছিলেন। শুনানির সময়ে তাদের পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী মধ্যে দিয়ে কাঠগড়ায় নেওয়া হয়। তাদের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন শুনানি শুরু হয়।
আসামি সাবিনা আক্তার তুহিনসহ কয়েকজনের পক্ষে আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে শুনানি শেষ করেন। অন্যান্য কয়েকজন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা চার্জগঠন পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করলেন আদালত তা মঞ্জুর করেন।
গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন সিআইডির সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক।
তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।
১৪ অগাস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ১৪ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ পলাতক ২৬১ জনকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেন।
পরবর্তী ১১ নভেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।
এই মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক আব্দুস সালামের আদালতে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির পর্যায়ে ছিল। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিচার দ্রুত ও নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে পাঠানো হয়।
ওই আদেশে বলা হয়, দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩ এ বদলি করা হল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে 'জয় বাংলা ব্রিগেড'-এর জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শেখ হাসিনা তার নেতাকর্মীদের কাছে দেশবিরোধী বক্তব্য দেন।
তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। এ বক্তব্য সারা দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
