আইডা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডসে বাংলাদেশের গৌরব: বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল শুভ্র ও রিমন
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ '১৮তম আইডা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডস' (AYDA International Awards)-এ অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্থাপত্য অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন দুই তরুণ স্থপতি শুভ্র ও রিমন।
নিপ্পন পেইন্ট-এর গ্লোবাল সিএসআর কর্মসূচির অধীনে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ১৭টি দেশের হাজারো প্রতিযোগীর মধ্যে তারা এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।
এবারের প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য ছিল 'CONVERGE: Crafting Cultural Legacies'। সমসাময়িক আধুনিক স্থাপত্যে নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার এই কঠিন চ্যালেঞ্জে বিশ্বের ১৭টি দেশ থেকে ৯,০০০-এরও বেশি প্রজেক্ট জমা পড়ে। বিপুল সংখ্যক এই প্রজেক্টের ভিড়ে বাংলাদেশের দুই শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনী ভাবনা বিচারকদের বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
প্রতিযোগিতায় ইন্টেরিয়র ডিজাইন ক্যাটাগরিতে সম্মানজনক 'অনারারি মেনশন' অর্জন করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থী শুভ্র কুমার ঘোষ। অন্যদিকে, স্থাপত্য ক্যাটাগরিতে গ্লোবাল ফাইনালিস্ট হিসেবে শীর্ষ তালিকায় স্থান করে নিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর রবিউল ইসলাম রিমন।
বিজয়ীদের প্রজেক্টে বৈশ্বিক থিমের মূল চেতনার পাশাপাশি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকগুলো চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
শুভ্র কুমার ঘোষ ও 'থ্রেডস অফ হোপ':
শুভ্র কুমার ঘোষ তার প্রজেক্ট 'থ্রেডস অফ হোপ'-এর মাধ্যমে জামালপুরের কুটির শিল্পীদের আবাসন ও কর্মসংস্থানের সংকট নিরসনে একটি বিকেন্দ্রীকৃত উঠানভিত্তিক কর্মক্ষেত্রের (নকশীপল্লী) ডিজাইন তুলে ধরেন। স্থানীয় মাটি, বাঁশ এবং টেক্সটাইল বর্জ্য (ঝুট কাপড়) ব্যবহার করে তৈরি এই টেকসই ডিজাইনটির মাধ্যমে গ্রামীণ নারী কারিগররা সরাসরি তাদের ঐতিহ্যবাহী 'নকশী কাঁথা' উৎপাদন ও বিক্রি করতে পারবেন। এটি তাদের অর্থনৈতিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রবিউল ইসলাম রিমন ও '[HERI]-TRADE':
রবিউল ইসলাম রিমন বাংলাদেশের প্রাচীনতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর একটি 'নগর কসবা'-কে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছেন। তার প্রজেক্ট '[HERI]-TRADE'-এ তিনি এমন একটি স্বনির্ভর অর্থনৈতিক হাব-এর ডিজাইন করেছেন, যেখানে স্থানীয় মানুষ সরাসরি তাদের সাংস্কৃতিক পণ্য বাণিজ্য করতে পারবে। এই বাণিজ্য থেকে অর্জিত রাজস্ব মডুলার ও ফ্লেক্সিবল স্থাপত্যের মাধ্যমে সেই প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণের ফান্ড হিসেবে সরাসরি ব্যবহৃত হবে।
এবারের গ্র্যান্ড ফিনালেতে ফিলিপাইনের ইজে ডুরিয়াস (Ejhey Durias) এবং চীনের জ্যাকি জিয়াং হাওরান (Jackie Jiang Haoran) 'ডিজাইনার অফ দ্য ইয়ার' নির্বাচিত হয়েছেন। পুরস্কার হিসেবে তারা হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট স্কুল অফ ডিজাইন-এ ১০,০০০ মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পূর্ণ অর্থায়িত একটি লার্নিং প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে সকল প্রতিযোগীর প্রশংসা করে নিপসিয়া গ্রুপের গ্রুপ সিইও এবং নিপ্পন পেইন্ট হোল্ডিংসের কো-প্রেসিডেন্ট মিস্টার উই সিউ কিম বলেন, 'তরুণ ডিজাইনাররা যেভাবে নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে আধুনিক পরিবেশগত ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের সমাধান খুঁজছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও আশাব্যঞ্জক।'
নিপ্পন পেইন্টের ১৪৫তম বার্ষিকী উদযাপনের এই বিশেষ মুহূর্তে প্রতিযোগিতাটির পরবর্তী সংস্করণেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের নতুন থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—'CONVERGE: Embracing Hyperlocal'।
