নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারত: শফিকুর রহমান
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারত উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে আমরা (নির্বাচনের) ফলাফল মেনে নিয়েছি।
রোববার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচনের ফলাফলে কারসাজির অভিযোগ এনে তিনি বলেন, আমরা সাড়ে ১৭ বছর একটা কঠিন অবস্থা অতিক্রম করেছি। সাড়ে ১৭ বছর পর এবার একটা অর্থবহ নির্বাচন জাতি আশা করেছিল। আমার ব্যক্তিগত মত, নির্বাচন সুন্দর হয়েছে। কিন্তু ফলাফল সুন্দর হয়নি। ফলাফলে অনেক কিছু করা হয়েছে। যেটা এখন অনেকে স্বীকার করছেন। আমরা দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। ফলাফল মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা ছিল। আর যেসব দেশে একবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে তারা আর এর থেকে বের হতে পারেনি।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর বলেন, বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, এটা ইন্টারপোলের কৃতিত্ব। তার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্টও বর্তমান সরকার জারি করে নাই। তবে বেনজীর আটক বাংলাদেশের একটা অর্জন। কিন্তু তিনি দুবাইয়ের কারাগারে থাকবেন, নাকি দেশে আনা হবে, তা সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।
সীমান্তে অব্যাহত উত্তেজনা চলছে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ওপার থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। আমরা দুই দুইবার স্বাধীন হলাম, কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা পেলাম কী? জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আমরা কোনো আপস করব না।
সংসদে নিজেদের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, সংসদে বিরোধী দল চরমপন্থা অবলম্বন করবে না, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। সংসদকে আর আমরা মমতাজের সংসদ বানাতে চাই না।
তিনি বলেন, আজকেও একজন দাঁড়ালেন, আল্লাহর বিধান পর্দার বিরুদ্ধে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করলেন।
সরকারি দল ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে জাতির সাথে দেওয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের রায় ব্যর্থ হলে টেকসই গণতন্ত্র বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে লড়াই চলবে। তবে সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করলে দেশ ভাল থাকবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন ভালো হলেই শাসক ভাল হবে এর প্রমাণ নেই।
গাইবান্ধায় রামমন্দির নির্মাণ কাজ স্থগিত করা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উসকানির সৃষ্টি হয় এমন কোনো কাজ আমরা মেনে নেব না। সেটা যদি মুসলমানরা করে, তাও মেনে নেব না। অন্য ধর্মের কেউ করলেও মেনে নেব না। এ দেশ আমাদের সবার। যেটা করলে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা হয় সেটা করতে হবে। সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
