সীমান্তে ‘পুশ ইন’ করে ভারত নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে: মুক্তিযোদ্ধা দল
বাংলাদেশের সীমান্তে বিভিন্ন কৌশলে 'পুশ ইন'-এর নামে নিজ দেশের নাগরিকদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে ভারত নজিরবিহীন নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ।
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে 'ভারতীয় পুশ ইন-এর নামে জঘন্য ন্যাক্কারজনক কার্যক্রমের' বিরুদ্ধে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সংগঠনের নেতারা এসব কথা বলেন। এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করতে এসে ৭৮ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান। এ সময় তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।
ভারতকে সতর্ক করে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, "'সবার আগে বাংলাদেশ'—জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে। দেশের সম্মান ও জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে। সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলছে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।"
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা বাংলাদেশের মানুষ স্বীকার করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "কেউ যদি দীর্ঘদিন থাকতে চায়, তাহলে তাকে বিদায় করার উপায়ও এ দেশের মানুষ জানে।" ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানের উদাহরণ টেনে আলাল বলেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়া টিকে থাকতে পারেনি।
ভারতের উদ্দেশে সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন, "হতদরিদ্র নিরীহ ভারতীয়দের 'পুশ ইন' বন্ধ করুন। খুনি হাসিনাসহ ভারতে পলাতক আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দুষ্কৃতিকারীদের 'পুশ আউট' করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান। তাদের বিচারের সম্মুখীন করার জন্য সহযোগিতা করুন। জাতীয় হীন কর্মকাণ্ড পরিহার করে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সুসম্পর্ক রক্ষার পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।"
সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
