শিক্ষক বদলিতে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করছে সরকার
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন ব্যবস্থায় উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে পৃথক কমিটি বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির দায়িত্ব পালন করবে।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই) ও ইউনিসেফ আয়োজিত 'ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ অন দ্য বাংলাদেশ এডুকেশন সেক্টর অ্যানালাইসিস (ইএসএ) ২০২৬' শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'অতীতে শিক্ষক বদলি একটি বড় ধরনের সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এর ফলে শিক্ষকদের ভোগান্তির পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার বদলি প্রক্রিয়াকে বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে।'
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে পৃথক কমিটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর বৈঠক করে বদলির আবেদন পর্যালোচনা করবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদলির আদেশ জারি করবেন।
এ ছাড়া জেলা, বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে পাঁচ থেকে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি সংশ্লিষ্ট আবেদন যাচাই-বাছাই করে বদলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কমিটিতে যথাক্রমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি সরকারের মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা খাতে চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন অধিদপ্তর এবং ইউনিসেফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
