মূর্খ লোকজনকে প্রশাসনে বসিয়েছে, আশা করব বিএনপি এদের যথাযথ ট্রেনিং দেবে: আসিফ মাহমুদ
জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগের তীব্র সমালোচনা ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, যিনি এই অভিযোগ তুলেছেন, তিনি সাধারণ বরাদ্দ ও বিশেষ বরাদ্দের পার্থক্যই বোঝেন না। বিএনপি যোগ্য ও বঞ্চিতদের বাদ দিয়ে 'কোয়ালিটিলেস' ও 'থার্ড কোয়ালিটির' লোকজনকে প্রশাসক বানিয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) কুমিল্লা নগরীর একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, "আমাদের বিরুদ্ধে যিনি অভিযোগ তুলেছেন, তিনি সাধারণ বরাদ্দ আর বিশেষ বরাদ্দের পার্থক্য বোঝেন না। আমি উনাকে চিনি না। পরে খোঁজ নিয়ে জানলাম উনি কোনোমতে এসএসসি পাস করেছেন। এরকম যাদেরকে বিএনপি প্রশাসক বানিয়েছে, তাদের অধিকাংশ কোয়ালিটি লেস। যোগ্য ও বঞ্চিতদের বাদ দিয়ে এ ধরনের লোককে প্রশাসক বানানো হয়েছে। এটি খুবই দুঃখজনক। ভবিষ্যতে হয়তো এমন বক্তব্য আরও শুনতে পাব। মূর্খ, থার্ড কোয়ালিটির লোকজনকে প্রশাসকের পদে বসিয়ে রাখা হয়েছে। আমি আশা করব, বিএনপি এদের যথাযথ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করবে।"
বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, "জেলা পরিষদে তিন রকমের বরাদ্দ হয়। এগুলো কোয়ার্টার বাই কোয়ার্টার চলে যায়। এই যে সদর উপজেলায় দাঁড়িয়ে আছি, এখানেও ১১ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ এসেছে। সিটি করপোরেশনের মাধ্যমেও বরাদ্দ এসেছে। যে বরাদ্দ এসেছে, আপনারা চাইলে ওয়েবসাইটে গিয়ে সব দেখতে পারেন। কিন্তু উনি যেভাবে বক্তব্য রাখলেন, যেভাবে মিডিয়াতে ছড়াল—যেন সব আমরা নিয়ে গেছি!"
এর আগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যর্থ এবং মাত্র তিন মাসেই অজনপ্রিয় সরকারে পরিণত হয়েছে। প্রশাসন পরিচালনা, অর্থনীতি সামাল দেওয়া এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন—সব ক্ষেত্রেই বিএনপি সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর ধর্ষণ, মব জাস্টিস, ছিনতাই ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।"
দেশের অপরাধ চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "আমরা দেখছি মব জাস্টিস বেড়েছে। শুধু গত মাসেই ৮৪ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। নির্বাচিত সরকার আসার পরও এসব পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।"
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির প্রমুখ। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আসা নেতাকর্মীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগদান করেন।
