চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের মামলায় ২ প্রবাসী ও সাংবাদিককে আসামি করার অভিযোগ
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই কাতারপ্রবাসী, একজন ফটোসাংবাদিক ও সদ্য এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এক শিক্ষার্থীকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই পুলিশ এই মামলায় এসকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার।
গত ৩ জুন ভোরে হাটহাজারী উপজেলার কুয়াইশ রোড এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। এ ঘটনায় পরদিন ৪ জুন রাতে হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ৬৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৫৪ নম্বর আসামি মোহাম্মদ অভি (২৪) এবং ৬৮ নম্বর আসামি আব্দুল্লাহ ইব্রাহীম আবির (৩০) বর্তমানে কর্মসূত্রে কাতারে অবস্থান করছেন। অভির পরিবারের দাবি, তিনি দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রবাসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিওবার্তায় অভি বলেন, 'আমি গত তিন বছর ধরে কাতারে আছি। দেশে না থেকেও আমাকে মামলার ৫৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।'
একইভাবে আব্দুল্লাহ ইব্রাহীম আবিরের বাবা মো. আবু আলম বলেন, 'আমার ছেলে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর কর্মসূত্রে কাতারে যায় এবং বর্তমানে সেখানেই কর্মরত। তার কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। ঘটনার সময় সে দেশে ছিল না।'
মামলায় ৫১ নম্বর আসামি করা হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদীর ফটোসাংবাদিক আমিন মুন্নাকে। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আমিন মুন্না বলেন, 'অহেতুক আমাকে আসামি করা হয়েছে। আমি পেশাগত ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত ছিলাম, মিছিলে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। সাংবাদিকদের এভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে। পুলিশের উচিত ছিল অধিকতর সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা।'
এছাড়া ৬৬ নম্বর আসামি জুবায়ের প্রকাশ গুল্লু কুয়াইশ বুড়িশ্চর সম্মিলনী উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী, যিনি সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষা শেষ করেছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
মামলার এজাহারে উত্তর জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি হাসান মুরাদ, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হোছাইন অভি ও এম তাহাসিন মুমিন সিয়ামসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বিষয়ে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'মামলা গ্রহণের সময় পর্যাপ্ত সময় ও তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে এমনটি ঘটে থাকতে পারে। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যদি কেউ ঘটনার সময় বিদেশে থাকেন বা নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে আইনগত প্রক্রিয়ায় তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।'
