নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক: সীমান্তে ভারতের ড্রোন ব্যবহারের ইস্যু তুলতে পারে বাংলাদেশ
আগামী সোমবার (৮ জুন) ভারতের নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের ৫৭তম বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে। চার দিনব্যাপী এই বৈঠকে সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য ভারতের ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি বাংলাদেশ তুলে ধরতে পারে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের 'অবৈধ অভিবাসী' বিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নর্থ ইস্ট নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএসএফ আসামের ধুবড়ি সেক্টরের নদীবেষ্টিত এলাকা এবং দুর্গম ও ঘন জঙ্গলে নজরদারির জন্য ইসরায়েলি প্রযুক্তির 'টেথারড ড্রোন' এবং রাডারযুক্ত চালকবিহীন আকাশযান (ইউএভভি) ব্যবহার করছে।
এছাড়া, বিএসএফ পুরো সীমান্তজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত নজরদারি গ্রিড স্থাপনের কাজ করছে। এই সমন্বিত প্ল্যাটফর্মটি ড্রোন, সিসিটিভি এবং গ্রাউন্ড সেন্সর থেকে পাওয়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে অবৈধ অনুপ্রবেশের স্থানগুলো শনাক্ত করতে সক্ষম।
বৈঠকের আগে বিএসএফ জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশি নাগরিকদের হাতে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয়দের ওপর কথিত হামলা এবং সীমান্ত বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয়গুলো উত্থাপন করবে। ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত দিল্লির লোধি রোডে বিএসএফ সদর দপ্তরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
বিএসএফের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিজিবি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বিএসএফ প্রধান প্রবীণ কুমার।
বিবৃতিতে বলা হয়, 'সম্মেলনে বাংলাদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা প্রতিরোধ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, ভারতে অপরাধীদের প্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত বেড়া নির্মাণ ও সংস্কার-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।'
এতে আরও বলা হয়, 'আলোচনার তালিকায় বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন, দুই বাহিনীর মধ্যে আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপ এবং অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকবে।'
চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর মধ্যে এটিই প্রথম বৈঠক। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে বিতাড়নের যে কৌশল ঘোষণা করেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪,০৯৬ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার এলাকায় এখনো কোনো বেড়া নেই।
এর আগে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যকার সর্বশেষ বৈঠকটি ২০২৫ সালের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
মহাপরিচালক পর্যায়ের এই আলোচনা ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বার্ষিক ভিত্তিতে হলেও ১৯৯৩ সাল থেকে এটি বছরে দুইবার অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দুই দেশ পর্যায়ক্রমে ঢাকা ও দিল্লিতে এই বৈঠকের আয়োজন করে।
