হজযাত্রীদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ, তদন্তে ঢাকা বিমানবন্দরে চুরির প্রমাণ মেলেনি দাবি বিমানের
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর হজযাত্রীদের লাগেজ কেটে মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
আজ বুধবার (৩ জুন) এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহরিয়ার আহমদের সই করা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইট বিজি-৩১০৪-এর যাত্রীদের লাগেজে সংঘবদ্ধভাবে হস্তক্ষেপ বা চুরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে, এদিন কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়াবিজ্ঞান ও জলবায়ুবিষয়ক পিএইচডি গবেষক এবং আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, জেদ্দা থেকে ঢাকাগামী বিমানের বিশেষ হজ ফ্লাইট বিজি-৩১০৪-এর প্রায় ১৫০ জন যাত্রীর লাগেজ কেটে ভেতরের জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি লেখেন, তার বাবার লাগেজ থেকেও কিছু সামগ্রী খোয়া গেছে। তার বাবা ওই ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন।
পোস্টে পলাশ উল্লেখ করেন, তার বাবা মূল্যবান কোনো জিনিস বহন না করায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়নি। তবে অনেক হজযাত্রী পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনা উপহার ও মূল্যবান সামগ্রী হারিয়ে থাকতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে তিনি হজযাত্রীদের লাগেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
অভিযোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগ তদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তের বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
বিমানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২ জুন জেদ্দা থেকে ৪৯১ জন হজযাত্রী নিয়ে ঢাকায় পৌঁছায় ফ্লাইট বিজি-৩১০৪। রাত ২টা ৫২ মিনিটে উড়োজাহাজটি পার্কিং অবস্থানে পৌঁছায় এবং তিন মিনিট পর রাত ২টা ৫৫ মিনিটে প্রথম লাগেজ বেল্টে সরবরাহ করা হয়। মোট ৮৩৬টি চেক-ইন লাগেজ ৫৯ মিনিটের মধ্যে যাত্রীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। শেষ লাগেজটি বেল্টে আসে রাত ৩টা ৫১ মিনিটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়া বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। কনটেইনার, প্যালেট ও ট্রলি ডলির মাধ্যমে লাগেজ স্থানান্তর করা হয় এবং বেল্টে তোলার সময় এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের বডি-ক্যামেরার ভিডিও, লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়।
এতে দেখা যায়, প্রায় ১১টি লাগেজ উড়োজাহাজ থেকে গ্রহণের সময়ই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল।
বিমানের দাবি, ফুটেজ বা নথিপত্রে ঢাকায় লাগেজ কেটে ফেলা বা সেখান থেকে কোনো মালামাল চুরির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৫০ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবিরও কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী ও সরকারি নথি অনুযায়ী, মাত্র পাঁচ থেকে ছয়জন যাত্রী মৌখিকভাবে তাদের লাগেজ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়ার কথা জানান। তাদের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ডেস্কে প্রপার্টি ইরেগুলারিটি রিপোর্ট (পিআইআর) জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।
বিমান জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত কিছু লাগেজে জমজমের পানি, শ্যাম্পু, লোশনসহ বিভিন্ন তরল পদার্থ ছিল। সৌদি আরবের বিমান নিরাপত্তা বিধিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু তরল পদার্থ চেক-ইন লাগেজে বহনে বিধিনিষেধ রয়েছে। নিরাপত্তা তল্লাশির সময় নিষিদ্ধ বা অনুপযুক্তভাবে প্যাক করা তরল পদার্থ শনাক্ত হলে সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ লাগেজ খুলে বা কেটে সেগুলো সরিয়ে ফেলতে পারে।
বিমানের মতে, এ কারণেই কিছু লাগেজ বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে এক যাত্রীর লাগেজ থেকে মানিব্যাগ হারানোর মৌখিক অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তে বৃহত্তর পরিসরে চুরির অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী চেক-ইন লাগেজে নগদ অর্থ, মানিব্যাগ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী না রাখার পরামর্শ পুনর্ব্যক্ত করেছে বিমান।
