আর কোনো ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার যেন পুলিশকে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী
'আর কোনো ফ্যাসিবাদ যেন পুলিশকে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে'— এ আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ সদস্যদের নতুন শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক প্যারেডের মধ্য দিয়ে 'আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একটি খোলা জিপে চড়ে তিনি প্যারেড পরিদর্শন করেন।
এবারের বার্ষিক প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি সরকারের আমলে এটিই প্রথম পুলিশ সপ্তাহ।
প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম আওলাদ হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রাজারবাগে হামলার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই সেই ঐতিহাসিক রাজারবাগ পুলিশ লাইন, যেখানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে বর্বর হামলা চালিয়ে শত শত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল। আমি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহিদ সব পুলিশ সদস্যকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।'
তিনি বলেন, 'শুধু স্মরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় আমাদের সবাইকে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে।'
তারেক রহমান বলেন, '২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পায়। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজকের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।'
নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'গত ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ সদস্যরা একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিয়েছে। আগামী দিনেও দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।'
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশেও তাদের একইভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
