খাগড়াছড়ির লোকালয় থেকে উদ্ধার আহত লজ্জাবতী বানর
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় লোকালয় থেকে আহত অবস্থায় একটি বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের শান্তিপুর এলাকা থেকে প্রাণীটি উদ্ধার করা হয়।
বন বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, উদ্ধারকৃত বানরটির চোখ ও শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে প্রাণীটি প্রাথমিক চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মাটিরাঙ্গা বন বিভাগের বনপ্রহরী মো. হাসান বলেন, "শান্তিপুর এলাকায় স্থানীয়রা আহত অবস্থায় লজ্জাবতী বানরটিকে পড়ে থাকতে দেখে আমাদের খবর দেন। পরে আমরা ঘটনাস্থল থেকে সেটিকে উদ্ধার করি। তার শরীর ও চোখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।"
তিনি আরও জানান, বুধবার সকালে বানরটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে বন কার্যালয়ে পর্যাপ্ত আশ্রয়স্থল না থাকায় নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সেটিকে পিটাছড়া এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী সময়ে আবারও চিকিৎসার জন্য আনা হবে।
খাগড়াছড়ি বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ফরিদ মিঞা বলেন, "বানরটির চিকিৎসা চলছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এটিকে সুস্থ করে তুলতে। সুস্থ হলে উপযুক্ত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে।"
পিটাছড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেল টিবিএসকে বলেন, উদ্ধার করা আহত বন্যপ্রাণীদের প্রথমে ভেটেরিনারি ক্লিনিকে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রাণীগুলো সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে ভেটেরিনারি চিকিৎসক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের প্রাকৃতিক আবাসে অবমুক্ত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, যেসব প্রাণীকে সরাসরি বনে অবমুক্ত করা সম্ভব হয় না, সেগুলোকে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে রেখে ধীরে ধীরে বনের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর উপযোগী করে তোলা হয়। পিটাছড়ায় বন্যপ্রাণীদের জন্য একটি চিকিৎসা কেন্দ্র ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার রয়েছে, যেখানে আহত প্রাণীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার সব ব্যবস্থা রয়েছে।
বন কর্মকর্তারা জানান, লজ্জাবতী বানর একটি সংরক্ষিত প্রজাতি। এটি আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ-এর লাল তালিকায় 'বিপন্ন' হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নিশাচর এই প্রাণী সাধারণত চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বনাঞ্চলে দেখা যায়।
