কুমিল্লায় বিএনপি নেতা আটক; প্রতিবাদে থানা ঘেরাও-বাস টার্মিনাল অবরোধ
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে পুলিশ আটক করার প্রতিবাদে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা ঘেরাও করেছেন। একই কারণে শাসনগাছা বাস টার্মিনাল অবরোধ করেছেন বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও শ্রমিকেরা, যার ফলে ওই টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রোববার (৩ মে) দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। কোতোয়ালি মডেল থানা ও জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা এই অভিযানে অংশ নেন। রেজাউল কাইয়ুম কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। পুলিশের পক্ষ থেকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও ঠিক কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, তা এখনও জানানো হয়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক বলেন, 'জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেজাউলকে আটক করা হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।'
তবে একটি সূত্র জানায়, কুমিল্লার অন্যতম বৃহৎ শাসনগাছা বাস টার্মিনালের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে রেজাউল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে। তার বাসাও শাসনগাছা বাস টার্মিনালের পাশে।
এদিকে রেজাউল কাইয়ুমকে আটকের প্রতিবাদে শাসনগাছা বাস টার্মিনাল অবরোধ করেছেন বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও শ্রমিকেরা। তাকে আটকের পরপরই শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং টার্মিনাল এলাকায় অবস্থান নেন। এর ফলে ওই টার্মিনাল থেকে সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, 'জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশে রেজাউল কাইয়ুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এখনো তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।'
আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা প্রাঙ্গণে দেখা যায়, শতাধিক নেতা-কর্মী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন। তাদের মধ্যে অনেক পরিবহন শ্রমিককেও দেখা গেছে। এ সময় তাদের 'রেজাউল ভাইয়ের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে', 'জেলের তালা ভাঙব, রেজাউল ভাইকে আনব', 'অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন' ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কোতোয়ালি মডেল থানার প্রধান ফটক আটকে দিয়েছে এবং বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ারকে বাইরে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে উত্তেজিত নেতা-কর্মীদের কেউই পুলিশের কথা শুনছেন না। তারা নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। বেলা আড়াইটা পর্যন্ত সেখানে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।
