নির্বাচন পিছিয়ে গেলে দেশের সর্বনাশ হয়ে যাবে: মির্জা ফখরুল
নির্বাচন পিছিয়ে গেলে দেশের সর্বনাশ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এমনটা বলেন তিনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'আজকে যে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচনকে বানচাল করে দেওয়ার, নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার; সেই নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়া মানে আমাদের সর্বনাশ হওয়া, এদেশের সর্বনাশ হওয়া। কারণ এখন একটা নির্বাচিত সরকার খুব দরকার।'
তিনি বলেন, 'আমরা চাই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার—যাকে আমরা সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি—তিনি যেন অতি দ্রুত আর কোনো কালবিলম্ব না করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যবস্থা করেন এবং দেশে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের এটাই হচ্ছে আমাদের চাওয়া।'
'একাত্তরের পরাজিত শক্তি দেশটাকে গিলে খেতে চায়'
মির্জা ফখরুল বলেন, 'একটি চক্র, একটি মহল যারা একাত্তর সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করে এদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল, তাদের মেয়েদের খান বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল, তারা আজকেও দেশটাকে গিলে খাওয়ার জন্য মেতে উঠেছে।'
তিনি বলেন, 'এই চক্রটি আমাদের ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইদের ধর্মীয় অনুভূতিকে বিক্রি করে তাদের কাজগুলো করতে চাচ্ছে। আমরা তাদের শিকার হতে দিতে পারি না। আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।'
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, 'এই হিন্দু-মুসলমান ভাগ হতে দেবেন না। আমরা হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই। একসাথে আছি, ঠিক না? সারা জীবন ধরে আছি। যুদ্ধ করেছি একসাথে। এটাকে যেন কেউ ভাগ করতে না পারে।'
মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমাদের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তারেক রহমান। উনিও তো জেল খাটছেন একাত্তর সালে। ১৯৭১ সালে বেগম খালেদা জিয়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দ্বারা গ্রেপ্তার হয়ে জেলে ছিলেন। তার সঙ্গে দুই পুত্র আজকের তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোও ছিলেন।'
বিএনপি সরকারের সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। আর বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় তৈরি করেছিলেন এবং তিনিই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভাতা চালু করেছিলেন।
