পূর্বানুমোদন ছাড়াই ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধন ফেরত নিতে পারবেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা
বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মূলধন নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ প্রত্যাবর্তন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হবে না।
আগে এই সীমা ছিল মাত্র ১০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংগতি রেখে এবং অর্থ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ (এফডিআইডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি মাস্টার সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগের নিয়ন্ত্রক কাঠামো সহজ করা এবং দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও উদার করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো শেয়ার হস্তান্তর ও অর্থ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে। ১ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো স্বাধীন মূল্যায়নের প্রয়োজন হবে না; কেবল ক্রেতা ও বিক্রেতার যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতেই লেনদেন করা যাবে।
এছাড়া নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করে এডি ব্যাংকগুলো এখন ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন সরাসরি প্রক্রিয়া করতে পারবে।
তদারকিতে অভ্যন্তরীণ কমিটি
ব্যাংক পর্যায়ে এই অনুমোদনের স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সার্কুলারে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি এডি ব্যাংককে একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করতে হবে। ছোট লেনদেনের ক্ষেত্রে এই কমিটির প্রধান হবেন ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) এবং ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।
এই কমিটিতে সিএফএ-এর মতো প্রয়োজনীয় পেশাদার সনদধারী সদস্য থাকতে হবে, যারা মূল্যায়ন প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করে অর্থ প্রত্যাবর্তনের অনুমোদন দেবেন। এছাড়া, এই কমিটি মূল্যায়নের কাজের জন্য গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে যৌক্তিক ফি গ্রহণ করতে পারবে।
প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা
লেনদেনের সময় কমিয়ে আনা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে বেশ কিছু পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। সার্কুলার অনুযায়ী, মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত অডিট রিপোর্ট সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তারিখ থেকে ৬ মাসের বেশি পুরনো হতে পারবে না। যদি পুরনো হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ওই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য নতুন অডিট রিপোর্ট তৈরি করতে হবে।
সব নথিপত্র ঠিক থাকলে এডি ব্যাংকগুলোকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে অর্থ প্রত্যাবর্তন কার্যকর করতে হবে। যেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, সেসব আবেদন ৩ কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। সম্পূর্ণ শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর বা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের ৪৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। ব্যাংক পর্যায়ে সম্পন্ন হওয়া প্রতিটি লেনদেনের বিষয়ে ১৪ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট করতে হবে।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের লক্ষ্য
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই মাস্টার সার্কুলারটি একটি বিনিয়োগবান্ধব নিয়ন্ত্রক পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। সার্কুলারে বলা হয়েছে, 'অনুমোদনের সীমা বাড়িয়ে, ব্যাংকগুলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিয়ে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে মিল রেখে মূল্যায়ন নির্দেশিকা সহজ করার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সময় ও খরচ কমিয়ে আনা।'
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও উল্লেখ করেছে, এই সংস্কারগুলো বাংলাদেশের মূলধন প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়াকে সহজ করার একটি অংশ। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট করে বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে।
