রমজানের প্রথম দিনেই চট্টগ্রামে পেঁয়াজের ‘সেঞ্চুরি’, অস্থির রসুনের বাজারও
পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দামে 'সেঞ্চুরি' হয়েছে। গত রোববার যে ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে সেই পেঁয়াজের দাম এখন ১০০ টাকায় ঠেকেছে। রমজানকে কেন্দ্র করে পেঁয়াজের পাশাপাশি রসুন, আদা ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত রোববার ১৬৫ টাকায় বিক্রি হওয়া রসুনের দাম বেড়ে বর্তমানে ১৮৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ এখন ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পুরাতন মোটা পেঁয়াজ বাজারে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
পাইকারি বাজারে চিত্রটি খুচরা বাজারের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন হলেও সেখানে সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হলেও ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে নেই বললেই চলে। যেখানে খুব অল্প পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে পাইকারি দামই পড়ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। এছাড়া অন্যান্য নিত্যপণ্যের মধ্যে চায়না রসুন ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, দেশি রসুন ৯০ টাকা এবং চায়না ও ভারতীয় আদা ১০৫ টাকায় পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাজির দেউড়ি বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. রফিক জানান, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে পণ্য কেনার কারণেই খুচরা পর্যায়ে এই চড়া মূল্য রাখতে হচ্ছে। তবে খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক দাবি করা হলেও খুচরা ও পাইকারি দামের এই বিশাল ব্যবধান নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজারেও রমজানের প্রথম দিনে উত্তাপ লক্ষ্য করা গেছে। খুচরা বাজারে বর্তমানে আদা ১২০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইফতারের প্রয়োজনীয় উপকরণের মধ্যে বেগুনের কেজি ৮০ টাকা এবং বড় লেবুর হালি ১০০ টাকায় পৌঁছেছে। এমনকি ছোট লেবু ৮০ টাকা এবং পুদিনা পাতা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের এই নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন জানান, প্রশাসনের বাজার মনিটরিংয়ে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে এবং এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।
তবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানার আওতায় আনছি। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।'
