Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

নিখুঁত গোলকের খোঁজে: বিবর্তনের মাঠে ছুটছে ফুটবল

সবুজ ঘাসের মাঠে গড়াগড়ি খাওয়ার অনেক আগেই একটা ফুটবলের জীবন শুরু হয় কারখানায়, ঠিক যেন একটা ধাঁধার টুকরোগুলো জোড়া লাগানোর মতো। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, পুরো বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ফুটবল তৈরি হয় পাকিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শিয়ালকোট নামের একচিলতে শহরে। সেখানে বলের চামড়া বা সিন্থেটিক প্যানেলগুলো কাটা হয়, সাজানো হয় এবং বছরের পর বছর ধরে অর্জিত নিখুঁত দক্ষতায় একে অপরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়।
নিখুঁত গোলকের খোঁজে: বিবর্তনের মাঠে ছুটছে ফুটবল

ইজেল

আমিল বতুল
08 June, 2026, 11:00 pm
Last modified: 08 June, 2026, 11:00 pm

Related News

  • যে কারণে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থন চাইল নরওয়ে
  • পাকিস্তানে তৈরি হচ্ছে বিশ্বকাপের বল ‘ট্রাইওন্ডা’, তবে রয়েছে মজুরি নিয়ে বিতর্ক
  • লন্ডনের কুয়াশা থেকে বিশ্ববাসীর পায়ের জাদু: ফুটবল যেভাবে ছড়াল বিশ্বজুড়ে
  • চাচাতো-খালাতো ভাই-বোনদের মধ্যে বিয়ে: সন্তানদের যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে
  • ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও সেখান থেকে ফিরবে বিশ্বকাপ দল: ইরান

নিখুঁত গোলকের খোঁজে: বিবর্তনের মাঠে ছুটছে ফুটবল

সবুজ ঘাসের মাঠে গড়াগড়ি খাওয়ার অনেক আগেই একটা ফুটবলের জীবন শুরু হয় কারখানায়, ঠিক যেন একটা ধাঁধার টুকরোগুলো জোড়া লাগানোর মতো। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, পুরো বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ফুটবল তৈরি হয় পাকিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শিয়ালকোট নামের একচিলতে শহরে। সেখানে বলের চামড়া বা সিন্থেটিক প্যানেলগুলো কাটা হয়, সাজানো হয় এবং বছরের পর বছর ধরে অর্জিত নিখুঁত দক্ষতায় একে অপরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়।
আমিল বতুল
08 June, 2026, 11:00 pm
Last modified: 08 June, 2026, 11:00 pm

দুর্জন উবাচের কথা কি মনে আছে? বরেণ্য কথাসাহিত্যিক খোন্দকার আলী আশরাফের সেই বিখ্যাত 'দুর্জন উবাচ' নকশার কথাই বলছি। হয়তো সে কথা  অনেকেরই মনে থাকতেও পারে। 

অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলা পত্রিকার জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রায় নিয়মিত ছাপা হতো এই অনবদ্য কলাম। তো, দুর্জন উবাচের এক পর্বে দেখা গেল, বাংলাদেশের ফুটবল দুনিয়ায় এক অভূতপূর্ব কাণ্ড ঘটে গেছে। চারদিকে শুধু বিজয় আর বিজয়, সেই জয়ধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয়ের নিশান উড়িয়ে বাংলাদেশ সরাসরি বিশ্বকাপ জয় করে নিয়েছে! বাংলাদেশের দুর্দান্ত খেলোয়াড়দের পায়ের জোর তখন এতটাই ভয়ংকর, তাদের একেকটা কিকের চোটে প্রতি ম্যাচে অন্তত পাঁচ-সাতটা তো হবেই, তারও বেশি ফুটবল ফেটে-ছিঁড়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে। 

এমন অবিশ্বাস্য দুর্ধর্ষ ফুটবল খেলা বাংলাদেশ কীভাবে রপ্ত করল? রহস্যটা উন্মোচন করলেন দলের বিজ্ঞ কোচ। বাংলাদেশের বাজারে চামড়ার ফুটবলের দাম তখন আকাশছোঁয়া। তাই কোচ প্রথমেই ওই দামি বলের মায়াই বাদ দিয়ে দিলেন। প্রশিক্ষণের সময় তিনি খেলোয়াড়দের জন্য জাম্বুরা দিয়ে কঠোর এবং নিষ্ঠুর অনুশীলনের ব্যবস্থা করলেন। 

জাম্বুরার মতো ভারী আর খসখসে জিনিস নিয়ে লাথি দিতে দিতে খেলোয়াড়দের পায়ের কিকের ধার এতই দুর্বার হয়ে উঠল, আসল ম্যাচে যখন তারা চামড়ার গোলক পেল, সেই বল প্রতিপক্ষের সব বাধা গুঁড়িয়ে, প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করে সোজা গোলপোস্টে ঢুকে যেতে লাগল। আর পায়ের সেই অমানুষিক শক্তির চোটে প্রতি ম্যাচে কমপক্ষে পাঁচ-সাতটা বল ছিঁড়েখুঁড়ে ছ্যাড়াব্যাড়া হওয়াটাই তো স্বাভাবিক! 

এখানেই বলকে নিখুঁত গোলাকৃতি দেওয়ার কাহিনি আসছে। সুন্নিয়া আহমাদ পীরজাদা বিশ^কাপ দুয়ারে কড়া নাড়ার সময়ে কিছু গল্প শুনিয়েছেন।

এই কাজের তৎপরতা অবশ্য চলেছে যুগ যুগ ধরে। তবে সে গল্পে যাওয়ার আগে জাম্বুরা দিয়ে ফুটবল খেলার এই মজাদার অভিজ্ঞতা আজকালকার জেন-জি কিংবা জেন-আলাফাদের কয়জনের ভাগ্যে জুটেছে? কিংবা কোরবানির গরুর মূত্রথলি ফুলিয়ে যে এককালে চমৎকার বল বানিয়ে খেলা হতো, সেই খাঁটি গ্রামীণ কায়দাই বা আজকের দিনের কয়জন জানেন? মনে করতে পারেন?

দূর থেকে দেখলে একটা ফুটবলকে বড্ড সাধারণ আর অতি সাদামাটা চামড়ার একটা জিনিস গোলক বলেই মনে হয়। কিন্তু সত্যি বলতে এই গোলকটি মোটেও ততটা সরল নয়। আজকের দিনে বলের গতিবিধি ট্র্যাক করা, এর ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা কিংবা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার চল হয়েছে ঠিকই। চিরকাল এমন সুন্দর দিন কাটানো যায়নি। 

একটা সময় এই খেলার বলটি ছিল অনেক বেশি অপরিশোধিত আর অদ্ভুত। ফুটবল খেলাটার আদি শিকড় যেখানে পোঁতা মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডে। সেকালে এই বলটি ছিল পশুর চামড়ার ভেতরে শ্যাওলা বা কর্কের গুঁড়ো ঠেসে দিয়ে বানানো এক তাল চামড়ার এবড়োখেবড়ো গোলক।  কিংবা পশুর চামড়া দিয়ে শক্ত করে মোড়ানো শুকনো শূকরের মূত্রথলি। এগুলো দেখতে খুব কম সময়ই পুরোপুরি গোল হতো, আর একেকটার আকার হতো একেক রকম। ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন আধুনিক ফুটবল খেলাটি একটা নিয়মতান্ত্রিক রূপ নিতে শুরু করল, তখনো কিন্তু ফুটবলের আইনকানুন বা নিয়মে বলের আকার বা ওজন নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো কথাই লেখা ছিল না। দুই দল স্রেফ নিজেদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে একটা বল কবুল করে বেছে নিলেই হলো। তবে ধীরে ধীরে একটা স্ট্যান্ডার্ড পরিমাপ চলে আসে।  এবারে বলের পরিধি ঠিক করা হয় ৬৮ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার এবং ওজন নির্ধারণ করা হয় ৪১০ থেকে ৪৫০ গ্রাম। মজার ব্যাপার হলো, বলের এই মাপজোখ কিন্তু আজ অবধি প্রায় একই রয়ে গেছে।  

পরিমাপটা অপরিবর্তিত থাকলেও ফুটবল নিজে কিন্তু প্রতিনিয়ত বদলে গেছে এবং তার বিবর্তন থামেনি। এর ভেতরের উপাদান, তৈরির কৌশল আর বাতাসের বুকে এর আচরণ পুরো ফুটবল খেলার ধরনটাকেই নীরবে বদলে দিচ্ছে। আজকের দিনের একটা ফুটবল হলো ক্রীড়াজগতের সবচেয়ে নিখুঁত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অন্যতম এক নিদর্শন। বলটিকে আরও নিখুঁত করার লক্ষ্যে এর উপরিভাগ, খণ্ড বা প্যানেলের সেলাই, এমনকি এর চারপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া অদৃশ্য বাতাসের ঘূর্ণি পর্যন্ত ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এত কিছুর পরও এর মূল চ্যালেঞ্জটি কিন্তু আজও রয়েই গেছে। স্পোর্টস ফিজিসিস্ট বা ক্রীড়া পদার্থবিদ জন এরিক গফ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, গাণিতিক পরিভাষায় গোলক বা স্ফিয়ার কী জিনিস, তা আমরা খুব ভালো করেই জানি, কিন্তু বাস্তবে একটা বলের প্রতিটি বিন্দুকে কেন্দ্র থেকে ঠিক সমদূরত্বে রেখে একদম নিখুঁত গোলক বানানো আজও এক অধরা স্বপ্ন, বল বানানোর ক্ষেত্রে আমরা মানুষেরা আজও তা পুরোপুরি করে উঠতে পারিনি। 

শিয়ালকোটের আঙিনায় চামড়া ও সুতার জাদুকরেরা

সবুজ ঘাসের মাঠে গড়াগড়ি খাওয়ার অনেক আগেই একটা ফুটবলের জীবন শুরু হয় কারখানায়, ঠিক যেন একটা ধাঁধার টুকরোগুলো জোড়া লাগানোর মতো। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, পুরো বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ফুটবল তৈরি হয় পাকিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শিয়ালকোট নামের একচিলতে শহরে। সেখানে বলের চামড়া বা সিন্থেটিক প্যানেলগুলো কাটা হয়, সাজানো হয় এবং বছরের পর বছর ধরে অর্জিত নিখুঁত দক্ষতায় একে অপরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। এই কাজটা একঘেয়ে এবং ভীষণ সূক্ষ্ম, যা কেবল মুখস্থ নির্দেশ দিয়ে হয় না, কারিগরদের হাতের পেশি-স্মৃতির ওপর ভর করে টিকে থাকে। শিয়ালকোটের একজন প্রবীণ কর্মী সুঘরান বিবি নিজের কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমরা বলটাকে ভেতরের দিক থেকে উল্টো করে সেলাই করি, যাতে ভেতরের সুতোর জোড়গুলো মজবুত হয় এবং বাইরে থেকে কোনো সেলাই দেখা না যায়। 

সেই ১৯০০ সালের শুরুর দিক থেকে বল বানানোর উপাদান বদলে গেলেও সেলাইয়ের এই সনাতন টেকনিক কিন্তু একটুও বদলায়নি। কারিগরেরা মোম মাখানো সুতো দিয়ে সিন্থেটিক উপাদানের একটার পর একটা স্তর টেনে টেনে হাতের শক্তিতে সেলাই করেন। এ কাজ চলতে থাকে, যতক্ষণ না বলের আসল রূপটা ফুটে ওঠে। এই কাজে অভিজ্ঞতার দাম অনেক বেশি, তাই কিছু কিছু কারখানায় বলের শেষ খণ্ডগুলো জোড়া দেওয়ার চূড়ান্ত কাজটি ফেলে রাখা হয় সবচেয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কারিগরদের জন্য। আয়েশা নামের আরেকজন নারী সেলাইকর্মী নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে বলেন, বলের একদম শেষ অংশটুকু জোড়া দিতে অনেক বেশি গায়ের জোরের প্রয়োজন হয়। ম্যানুফ্যাকচারিং বা বল তৈরির পদ্ধতি এখন অনেক আধুনিক হয়ে গেলেও এই ঐতিহ্যবাহী হাতের কাজগুলো আজও শিয়ালকোটের শ্রমিকদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে। বহু পরিবারের কাছে এই শিল্পটা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই কেবল চোখের দেখা আর বছরের পর বছর অনুশীলনের মাধ্যমে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয়ে আসছে। 

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে শুরু করে ১৯৬০-এর দশক পর্যন্ত পাকিস্তানের এই কারিগরেরা স্থানীয় খাঁটি চামড়ার মোটা খণ্ড দিয়ে ফুটবল তৈরি করতেন, যার ভেতরে থাকত একটা রাবারের ব্লাডার। কিন্তু সমস্যা হতো যখন বৃষ্টি নামত বা পানি লাগত। ভেজা মাঠে ওই চামড়ার বলগুলো স্পঞ্জের মতো পানি শুষে নিত, ফলে বল হয়ে যেত ভারী পাথরের মতো আর খেলোয়াড়দের পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ত। হয়তো জাম্বুরাতে লাথি মারার অভিজ্ঞতাই হতো! 

এদিকে, নাইকি, পুমা, মাইটার কিংবা অ্যাডিডাসের মতো বড় বড় কোম্পানিগুলো যখন আধুনিক বলের গণ-উৎপাদন শুরু করল, তখন দৃশ্যপট দ্রুত বদলে যেতে লাগল। এর মধ্যে অ্যাডিডাস তো ১৯৭০ সাল থেকে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল তৈরি করে আসছে। বলের উপাদানের মান যতই উন্নত হতে লাগল এবং আসল চামড়ার জায়গা যখন কৃত্রিম বা সিন্থেটিক কোটিং দখল করল, তখন বলের ভেতরে এক অদৃশ্য পরিবর্তন শুরু হলো। বল প্রস্তুতকারকেরা চাইলেন বল যেন সব পরিস্থিতিতে একই রকম আচরণ করে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়, আর তাই তাদের পুরো নজর গিয়ে পড়ল বলের খণ্ডগুলো জোড়া দেওয়ার পদ্ধতির ওপর। 

এই ভাবনা থেকেই জন্ম নিল 'থার্মো-বন্ডিং' প্রযুক্তির, যেখানে কোনো সুতো বা সেলাইয়ের বালাই নেই; তীব্র তাপ বা হিট ব্যবহার করে খণ্ডগুলোকে একে অপরের সঙ্গে গলিয়ে জুড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বলের উপাদানের উপরিভাগ হয় একদম মসৃণ আর বলের গঠনটা হয় সম্পূর্ণ সুষম। 

পদার্থবিদ গফ বিষয়টি বুঝিয়ে বললেন, থার্মো-বন্ডিং প্রযুক্তি বলকে শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে এবং এর ভারসাম্য বজায় রাখে; কারণ, বলের ভেতর সামান্যতম আর্দ্রতা বা পানি ঢুকলেও বাতাসের বুকে বলের ওড়ার গতি আর খেলোয়াড়ের পায়ের স্পর্শের অনুভূতি বদলে যায়। 

অবশ্য, হাতের সেলাই ছেড়ে এই আধুনিক প্রযুক্তির দিকে যাওয়ার রূপান্তরটা মোটেও সহজ বা মসৃণ ছিল না। শিয়ালকোটের শীর্ষস্থানীয় ফুটবল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 'ফরওয়ার্ড স্পোর্টস'-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খাজা মাসুদ আখতার সেই কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল হাতের সেলাইয়ের চেনা জগৎ থেকে বেরিয়ে আসা। এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বলসহ প্রতিবছর প্রায় ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি ফুটবল তৈরি করে। খাজা মাসুদ সাহেব বলেন, শুরুর দিকে আমাদের তৈরি করা প্রচুর বল রিজেক্ট বা বাতিল হয়ে যাচ্ছিল। কারণ, সেগুলোর মান ঠিকঠাক ছিল না; ওটাই ছিল আমাদের ব্যবসার ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময়। তবে সেই কঠিন সময় পেরিয়ে আজ তিনি বুক ফুলিয়ে গর্ব করেন, তাদের কারখানার অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মান দুনিয়ার যেকোনো আধুনিক কারখানার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। তিনি বলেন, আমরা এখন নিখুঁত কাটিংয়ের জন্য লেজার-কাটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছি, আমাদের কারখানায় এখন রোবট কাজ করছে। এমনকি বলের গায়ের প্রিন্টিংয়ের কাজটাও এখন স্বয়ংক্রিয় মেশিনের সাহায্যে করা হচ্ছে। এখন মানুষের কাজ শুধু মেশিনের কম্পিউটারে নকশা বা ডিজাইনটা প্রাথমিকভাবে ফিড করে দেওয়া বা ঢুকিয়ে দেওয়া, ব্যস! এরপর মানুষ একপা পিছিয়ে দাঁড়িয়ে শুধু মেশিনের জাদু দেখে! 

খাজা মাসুদ আখতার সাহেব আরও বুঝিয়ে বললেন, নতুন নতুন সব উপাদান যখন আসতে শুরু করল, সেগুলোর চরিত্র আর আচরণও ছিল একদম ভিন্ন রকমের। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বল তৈরির পুরো প্রক্রিয়া আর কারিগরদের দক্ষতায় বড় ধরনের বদল আনার প্রয়োজন হয়ে পড়ল। যে শ্রমিকেরা বছরের পর বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কাজ করে নিজেদের আঙুলগুলোকে একদম নিখুঁত করে তুলেছিলেন, নতুন যুগের সাথে তাল মেলাতে তাদের নিজেদের পুরো কৌশলটাই পাল্টে ফেলতে হলো। সময়ের সাথে সাথে কারখানার এই আধুনিক মেশিনগুলো বলের গঠনে একটা চমৎকার ধারাবাহিকতা আর সুষম ভাব নিয়ে এসেছে সত্যি, তবে মানুষের হাতের ছোঁয়া আর খাঁটি অভিজ্ঞতা কিন্তু আজও বল তৈরির আসল প্রাণ হিসেবে রয়ে গেছে।

পাকিস্তানের শিয়ালকোটের ফরওয়ার্ড স্পোর্টস কারখানায় একজন কর্মী থার্মোবন্ডিং ছাঁচনির্মাণ মেশিনে অ্যাডিডাসের ‘ব্রাজুকা’ ফুটবল নিয়ে কাজ করছেন।

বিংশ শতাব্দীর একটা বড় সময় জুড়ে ফুটবলের নকশা বা ডিজাইন বলতে মানুষ চেনা একটা রূপই দেখে এসেছে; পেন্টাগন আর হেক্সাগন, মানে পাঁচ কোনা আর ছয় কোনাকৃতির বত্রিশটি খণ্ড বা টুকরো একসঙ্গে সেলাই করে বানানো হতো একেকটি বল। 

১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে যখন 'টেলস্টার' নামের বলটি মাঠে নামানো হলো, তখন থেকে এই ডিজাইনটি বিশ্বজুড়ে আইকনিক বা ফুটবলের আসল প্রতীক হয়ে উঠল। সেই আমলের সাদাকালো টেলিভিশন সেটে যেন খেলা দেখার সময় বলটাকে পরিষ্কারভাবে চেনা যায়, সেই ভাবনা থেকেই বল তৈরির উপাদানের খণ্ড বা প্যানেলগুলোতে ওই রকম সাদাকালো রঙের ছোঁয়া দেওয়া হয়েছিল। 

তবে ফুটবলের আসল রোমাঞ্চকর গল্পটা কিন্তু বলের বাহ্যিক রূপ বা সৌন্দর্যের মধ্যে লুকিয়ে নেই, বরং লুকিয়ে আছে বাতাসের বুক চিরে এর ছুটে চলার অবিশ্বাস্য ক্ষমতার মধ্যে। ক্রীড়া পদার্থবিদ জন এরিক গফ নিজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে বলেন, আমার ক্যরিয়ার বা গবেষণার জগৎটাকে সত্যি বলতে যে বলটি তুমুল জনপ্রিয় করে তুলেছিল, সেটি হলো 'জাবুলানি'। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বল ছিল এটি, জুলু ভাষায় যার অর্থ হলো 'উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা'। প্রথাগত বত্রিশটি খণ্ডের চেনা রূপ ভেঙে মাত্র আটটি খণ্ড দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এই জাবুলানি। এটি ছিল ফুটবল ডিজাইনের ইতিহাসে এক মস্ত বড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন। প্যানেল বা টুকরো সংখ্যা কমে যাওয়ার সোজা অর্থ হলো বলের গায়ের সেলাইয়ের দাগ কমে যাওয়া এবং উপরিভাগ অনেক বেশি মসৃণ হয়ে ওঠা। আর বলের এই অতিরিক্ত মসৃণতাই চারপাশের বাতাসের সাথে এর ঘর্ষণের পুরো চেনা সমীকরণটা ওলটপালট করে দিল। মাঠে নির্দিষ্ট কিছু গতিতে ওড়ার সময় বলের চারপাশের বাতাসের প্রবাহ হঠাৎ করেই সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় 'ড্র্যাগ ক্রাইসিস'। এমনটা যখন ঘটে, তখন বলের গতি আচমকা কমে যায় এবং সেটি সবার ধারণার চেয়ে অনেক বেশি খাড়াভাবে নিচের দিকে ডাইভ দেয় বা ড্রপ করে। 

গফ বিষয়টি খোলসা করে বললেন, জাবুলানি বলের ক্ষেত্রে বাতাসের এই খামখেয়ালি পরিবর্তনটা ঠিক তখনই ঘটত, যখন খেলোয়াড়েরা মাঠে লম্বা করে কিক বা দূরপাল্লার শট নিতেন। ফলে বলটি মাঝ আকাশে এমনভাবে হঠাৎ নিজের গতি কমিয়ে দিকবদল করত, যা সামলানোর কোনো অভ্যাসই খেলোয়াড়দের আগে ছিল না।

মাঠের খেলোয়াড়দের ওপর, বিশেষ করে গোলকিপারদের ওপর এর প্রভাব পড়েছিল একদম হাতেনাতে। ইউরোপ আর আফ্রিকার ফুটবলে দীর্ঘদিন গোলকিপিং স্কাউট হিসেবে কাজ করা মার্ক ওভারঅল নিজের চোখে দেখা অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, জাবুলানি বলে শট মারলে মনে হতো যেন কোনো হালকা বিচ বল বা প্লাস্টিকের হাওয়াই বলে লাথি মারা হয়েছে, বল বাতাসে কেবল কাঁপতে কাঁপতে ভাসতেই থাকত। ওভারঅল খুব কাছ থেকে দেখেছেন কীভাবে বলের এই বিবর্তন ফুটবল মাঠে একজন গোলকিপারের চিরাচরিত ভূমিকাটাই বদলে দিয়েছে। তিনি স্মৃতিচারণা করে বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন আমাদের শেখানো হতো গোলপোস্টে আসা প্রতিটি বল যেন আমরা দুই হাত দিয়ে শক্ত করে ক্যাচ ধরে বুকের সাথে লেপ্টে নিই। কিন্তু আজকালকার গোলকিপারদের আপনি প্রায়ই দেখবেন, তারা বল লুফে নেওয়ার চেয়ে হাত দিয়ে ঘুষি মেরে বা পাঞ্চ করে বল দূরে সরিয়ে দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন; কারণ, আধুনিক বলগুলো বাতাসে এত বেশি সাপের মতো দোলে আর দিকবদল করে, লুফে নিতে গেলে যেকোনো মুহূর্তে ফসকে যাওয়ার একটা মস্ত বড় ঝুঁকি থাকে। তিনি আরও বলেন, আজকের দিনের বলগুলোর অ্যারোডাইনামিক বা বাতাস কাটার ক্ষমতা অনেক বেশি উন্নত আর পরিমার্জিত। বলের উপরিভাগের খসখসে টেক্সচার বা বুনট এবং আধুনিক গঠনের কারণে খেলোয়াড়েরা এখন অনেক কম পরিশ্রমে বলে মারাত্মক গতি তুলতে পারেন এবং শটের ওপর চমৎকার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেন। 

পাশাপাশি মাঠের আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের জন্য এই বলের অনুভূতি আবার অন্য রকম সূক্ষ্ম। ইংলিশ মেয়েদের একটি ফুটবল ক্লাবের অধিনায়ক মনিকা বাউলি নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, বলগুলো ওজনে হালকা হওয়ায় মাঠে লাথি মারলে যেকোনো দিকে বোঁ বোঁ করে ছুটে যেতে পারে। বিশেষ করে মাঠ যখন বৃষ্টিতে ভেজা থাকে, তখন এগুলোকে একটু বেশি প্লাস্টিকের মতো মনে হয়; বল মাটিতে পড়ে বড্ড বেশি পিছলে যায় এবং ঘাসের ওপর দিয়ে এর গড়িয়ে যাওয়ার গতিও অনেক গুণ বেড়ে যায়। ঠিক এর বিপরীতে, বলের গায়ে যখন একটু খসখসে টেক্সচার বা খাঁজকাটা দাগ থাকে, তখন তার আচরণ সম্পূর্ণ বদলে যায়। বাউলি  বুঝিয়ে বললেন, ওই খাঁজকাটা বলগুলোর গ্রিপ বা মাটির সাথে কামড়ে ধরার ক্ষমতা ভালো থাকে। শট মারার পর এগুলো মাঠের ঘাসের সাথে ঘষা খেয়ে গতি কিছুটা কমিয়ে দেয়, ফলে সতীর্থের দেওয়া পাসটি রিসিভ বা গ্রহণ করার সময় পায়ের স্পর্শে বলের আসল অনুভূতিটা খুব সুন্দরভাবে টের পাওয়া যায়। তিনি মনে করেন, এগুলো আপাতদৃষ্টিতে খুব ছোটখাটো তফাত মনে হতে পারে, কিন্তু পুরো নব্বই মিনিটের খেলায় এর একটা বিশাল সম্মিলিত প্রভাব পড়ে। 

বলের উপরিভাগের টেক্সচার, ভেতরের উপাদান, এমনকি খেলাটি কোন মাঠে হচ্ছে—তার ওপর নির্ভর করে বলের গতিবিধি কেমন হবে এবং খেলোয়াড়েরা তার সাথে কেমন আচরণ করবেন। বাউলি আরও বলেন, খেলাটি কেমন মাঠে হচ্ছে, সেটা একটা মস্ত বড় বিষয়। থার্ড জেনারেশন বা আধুনিক কৃত্রিম ঘাসের কৃত্রিম মাঠে এই বলগুলো স্রেফ বাতাসের মতো ভেসে মসৃণভাবে চলে যায়, কিন্তু আসল প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠে খেলতে গেলে বল প্রায়ই অসমান মাটিতে ড্রপ খেয়ে লাফাতে থাকে কিংবা ঘাসের ঘষায় তার গতি কমতে থাকে। সহজ কথায়, ফুটবল সব সময়ই তার চারপাশের পরিবেশের সাথে একটা নীরব কথোপকথন চালিয়ে যায়।

ডারহাম, ইংল্যান্ডের বিমিশ ওপেন এয়ার মিউজিয়ামে প্রদর্শিত সাধারণ চামড়ার হাতে সেলাই বল এবং ভিন্টেজ বুট।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বলের ডিজাইনাররা প্যানেল বা টুকরোর সংখ্যা কমিয়ে আনার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। বত্রিশটি প্যানেল বা খণ্ড থেকে কমে বলের টুকরো দাঁড়াল আটে, তারপর ছয়ে এবং এই বছরের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল 'ট্রিওন্ডা'র ক্ষেত্রে তা নেমে এসেছে মাত্র চারটিতে! প্রথম দেখায় যে কারও মনে হতে পারে, চার টুকরোর এই বল তো তবে আরও বেশি মসৃণ হবে এবং বাতাসে জাবুলানির মতোই গোলকিপারদের নাকানিচুবানি খাওয়াবে। কিন্তু না, বলের উপরিভাগের ইঞ্জিনিয়ারিং বা সারফেস ইঞ্জিনিয়ারিং এখন এতটাই উন্নত হয়েছে, তারা সেই খামখেয়ালিপনা চমৎকারভাবে সামাল দিয়ে দিয়েছে। এখন বলের গায়ে কতটি প্যানেল বা জোড়াতালি আছে, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলের গায়ের সূক্ষ্ম খাঁজকাটা দাগ বা গ্রুভস, টেক্সচার এবং সেলাইয়ের অবস্থান। 

বিজ্ঞানী গফ বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্যই হলো বলের আচরণে একটা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। খেলোয়াড়েরা সব সময় চান, তারা বলে যেভাবে লাথি মারবেন, বল যেন ঠিক সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করে, কোনো রকম ভেলকি না দেখায়। বলের এই আচরণগত স্থিরতা কেবল কোনো কারিগরি লক্ষ্য নয়, বরং খেলোয়াড়দের অতীত অভিজ্ঞতার একটি বড়সড় প্রতিফলন। মাঠে বল যদি হঠাৎ করে খামখেয়ালি বা অপ্রত্যাশিত আচরণ শুরু করে, তবে তা পুরো ফুটবল খেলার ছন্দটাই নষ্ট করে দেয়। আধুনিক বলের নিখুঁত নকশাগুলো সেই ছন্দপতন এড়ানোর জন্যই তৈরি। জাবুলানি বলের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর, পরবর্তী সব কটি বলের উপরিভাগেই একটু খসখসে টেক্সচার যোগ করা হয়েছে, যাতে বলের চারপাশের বাতাসের প্রবাহ স্থির থাকে এবং মাঝ আকাশে বলের কাঁপাকাঁপি বন্ধ হয়। এই পরিবর্তনগুলো সাধারণ মানুষের চোখে বড্ড সূক্ষ্ম আর ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু ফুটবলের সর্বোচ্চ পেশাদার স্তরে এই সামান্যতম সূক্ষ্ম দাম কোটি টাকার। 

বিজ্ঞানী গফ বলেন, বিশ্বসেরা এলিট বা অভিজাত খেলোয়াড়েরা পায়ে বল ছোঁয়া মাত্রই এই সামান্যতম তফাতটুকু ধরে ফেলতে পারেন। আমরা এখন বলের প্যানেল বা টুকরো সংখ্যা কমিয়ে আনার একদম শেষ সীমানায় পৌঁছে গেছি; কারণ, আপনি চাইলেও তো আর একটা প্যানেলের নিচে নামতে পারবেন না; একটা টুকরো দিয়েই তো আস্ত বল বানাতে হবে! তবে প্যানেল কমানো না গেলেও বলের উপরিভাগের নিখুঁত ডিজাইনের মাধ্যমে এর বাতাস কাটার ক্ষমতা বা অ্যারোডাইনামিকসকে আরও কতটা বাগে আনা যায়, সেই গবেষণার সুযোগ কিন্তু এখনো প্রচুর রয়ে গেছে। 

শেষমেষ বা দিন শেষে অবশ্য যে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন গ্রহণ করার বিষয়টি নির্ভর করে মাঠের খেলোয়াড়, গ্যালারির দর্শক আর ফুটবলের নীতিনির্ধারক সংস্থাগুলোর মর্জির ওপর। স্কাউট মার্ক ওভারঅল এ প্রসঙ্গে মনে করিয়ে দিলেন, বল প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো আসলে নিজেদের ইচ্ছেমতো খুব বেশি দূর এগোতে পারে না। আপনি তো আর বলকে চিরকাল ধরে শুধু হালকা আর হালকা করতে পারবেন না। একটা পর্যায়ে গিয়ে ফুটবল খেলাটাই নিজে ঠিক করে দেয় বলের রূপ এবং ওজন আসলে কতটা হওয়া উচিত। 
এ কথা ঠিক,  বিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের হাত ধরে ফুটবলের ভেতরে যে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে, তা বলের শুধু বাতাসে ওড়া বা গতিবিধিই নিয়ন্ত্রণ করবে না, বরং তার চেয়েও অনেক বড় কিছু করতে যাচ্ছে। এবারের বিশ্বকাপের বল 'ট্রিওন্ডা'র প্যানেলের ঠিক ভেতরে, মানে চামড়ার স্তরের নিচে একটি বিশেষ সেন্সর বসানো হয়েছে; বলের একদম মাঝখানে ঝুলিয়ে না রেখে প্যানেলের ভেতরে এই চিপটি বসানোর কারণে এটি বলের প্রতি মুহূর্তের গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারে এবং রিয়েল টাইমে বা লাইভ সমস্ত ডেটা বা তথ্য বাইরে পাঠিয়ে দেয়া যাবে। কোনো খেলোয়াড়ের পা ঠিক কোন মুহূর্তে বল স্পর্শ করল, এই প্রযুক্তি তা একদম নিখুঁতভাবে ধরে ফেলতে পারে। ফলে অফসাইডের মতো মাঠের অত্যন্ত কঠিন আর বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার ক্ষেত্রে রেফারি ও ম্যাচ অফিশিয়ালরা এখন নিখুঁত ও অকাট্য তথ্য পেয়ে যাচ্ছেন। 

গফ সাহেব এখানে অবাক করা তথ্য দিয়ে বললেন, এই বলটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার সিগন্যাল বা সংকেত পাঠাতে পারে! মাত্র দুই-এক গ্রাম ওজনের এই অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোচিপটি বলের ভেতরে এমনভাবে লুকিয়ে থাকে যে বাইরে থেকে হাত দিয়ে ছুঁয়েও বোঝার কোনো উপায় নেই। বলটি দেখতে আগের মতোই সাধারণ ফুটবল, কিন্তু এটি এখন মাঠের বুকে শুধু লাথি খেয়ে গড়াগড়ি খায় না, সাথে করে কোটি কোটি নিখুঁত তথ্যও বয়ে বেড়ায়। বা পাঠিয়ে দেয়। 

২০১০ বিশ্বকাপের বল ‘জাবুলানি’।

ছোট্ট কর্মশালা আর ধোঁয়া ওঠা কারখানা থেকে রওনা দিয়ে এই ফুটবলটি এরপর পাড়ি দেয় সাত সমুদ্র তেরো নদী, মহাদেশ থেকে মহাদেশে। কখনো পাড়ার চ্যাংড়া ছেলেদের ধুলোমাখা স্থানীয় মাঠে, কখনো ক্লাবের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে, আবার কখনো বা বিশ্বমঞ্চের কোটি কোটি দর্শকের উপচে পড়া আলোঝলমলে স্টেডিয়ামে লাথি খায় এই গোলক। কিন্তু ততক্ষণে এই বলটির গায়ে লেগে গেছে কত শত মানুষের হাত আর কত সহস্র মানুষের চিন্তাভাবনা; কারিগরের হাতের পরম যত্ন, ইঞ্জিনিয়ারের নিখুঁত কারিগরি, বিজ্ঞানের চুলচেরা ল্যাব টেস্ট আর মাঠের বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের পায়ের জাদু—সবকিছু মিশে তৈরি হয় একেকটি ফুটবল।  

এত কিছুর পরেও দিন শেষে ফুটবলটি এখনো কিন্তু গণিতের নিয়মে একদম এক শ ভাগ নিখুঁত বা সুষম কোনো গোলক নয়। হয়তো মানুষের তৈরি কোনো জড়বস্তু কোনো দিন তেমনটা হতেও পারবে না। কিন্তু যারা দিনরাত এক করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এই বলগুলো তৈরি করেন, তাদের কাছে বলের এই বিশ্বভ্রমণের যাত্রাটি একই সাথে অনেক দূরের, আবার বড্ড নিজের আর আবেগের। শিয়ালকোটের সেই প্রবীণ নারী শ্রমিক সুঘরান বিবির কথাই ধরুন না, টিভির পর্দায় যখন বিশ্বসেরা তারকাদের পায়ের জাদুতে বলটিকে গোলপোস্টে ঢুকতে দেখেন, তার চোখ দুটো আনন্দে চকচক করে ওঠে। তিনি পরম তৃপ্তি নিয়ে বলেন, টেলিভিশনে যখন এই বলটাকে দেখি, আমাদের বুকটা এক অদ্ভুত ভালো লাগায় ভরে যায়। আমরা মনে মনে গর্ব করে বলি—আহা! দুনিয়া কাঁপানো এই বলটার জীবন তো শুরু হয়েছিল আমাদের এই দুই হাতের ছোঁয়া দিয়েই!

দুর্জন উবাচের কোচ সাহেবের সেই জাম্বুরার কিকের চোটে বল ছিঁড়ে যাওয়ার দিন শেষ হয়েছে সত্যি, কিন্তু চামড়ার গোলককে নিখুঁত করার মানুষের এই যে আদিম ও চিরন্তন লড়াই—তা আজও প্রযুক্তির হাতে হাত রেখে প্রতিনিয়ত মাঠের বুকে নতুন নতুন গোলপোস্টের দিকেই ছুটে চলেছে।

 

Related Topics

টপ নিউজ

ইজেল / ফুটবল / ফুটবল বিশ্বকাপ / ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ / পাকিস্তান

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ফাইল ছবি: সংগৃহীত
    ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের টাকা তোলার হিড়িক; ৫ দিনে তুলে নিয়েছেন ৩,৫০০ কোটি টাকা
  • নাসের এজাজ বিজয়। ছবি: সৌজন্যে
    স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন নাসের এজাজ বিজয়
  • বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে টহল দিচ্ছেন বিএসএফ সদস্যরা। ছবি: রয়টার্স
    বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের প্রতিবাদে মেঘালয়ে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ
  • মো. মোস্তাকুর রহমান । ছবি: সংগৃহীত
    যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলারের ‘স্টোলেন অ্যাসেট’ জব্দ, শিগগিরই দেশে আনা হবে: গভর্নর
  • ছবি:সংগৃহীত
    ইরানে ব্যর্থ অভিযানের জেরে মোসাদের উপ-প্রধান বরখাস্ত
  • নিহত সোহাগী জাহান (তনু)। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
    তনু হত্যা: সাবেক ২ সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ

Related News

  • যে কারণে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থন চাইল নরওয়ে
  • পাকিস্তানে তৈরি হচ্ছে বিশ্বকাপের বল ‘ট্রাইওন্ডা’, তবে রয়েছে মজুরি নিয়ে বিতর্ক
  • লন্ডনের কুয়াশা থেকে বিশ্ববাসীর পায়ের জাদু: ফুটবল যেভাবে ছড়াল বিশ্বজুড়ে
  • চাচাতো-খালাতো ভাই-বোনদের মধ্যে বিয়ে: সন্তানদের যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে
  • ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও সেখান থেকে ফিরবে বিশ্বকাপ দল: ইরান

Most Read

1
ফাইল ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের টাকা তোলার হিড়িক; ৫ দিনে তুলে নিয়েছেন ৩,৫০০ কোটি টাকা

2
নাসের এজাজ বিজয়। ছবি: সৌজন্যে
বাংলাদেশ

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন নাসের এজাজ বিজয়

3
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে টহল দিচ্ছেন বিএসএফ সদস্যরা। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের প্রতিবাদে মেঘালয়ে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ

4
মো. মোস্তাকুর রহমান । ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলারের ‘স্টোলেন অ্যাসেট’ জব্দ, শিগগিরই দেশে আনা হবে: গভর্নর

5
ছবি:সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

ইরানে ব্যর্থ অভিযানের জেরে মোসাদের উপ-প্রধান বরখাস্ত

6
নিহত সোহাগী জাহান (তনু)। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

তনু হত্যা: সাবেক ২ সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ

The Business Standard
Top

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net

Copyright © 2022 THE BUSINESS STANDARD All rights reserved. Technical Partner: RSI Lab