এক ইঞ্চির টেবিল, হাতের তালুতে এঁটে যাওয়া গ্যারেজ: খেলনা নয়, তাহলে?
কোথাও জং ধরা ধুলোমাখা পুরোনো গ্যারেজ, পুরোনো দিনের দরজা; আবার কোথাও এক দল নারী-পুরুষ জোট বেঁধে রিমোট হাতে নিয়ে টেলিভিশন দেখছে। একটু পাশে নজর দিলে দেখতে পাবেন- ছোটখাটো পড়ার টেবিল; তাতে থরে থরে সাজানো আছে দেশী-বিদেশী বই, সংবাদপত্র ও কলমদানি।
কেমন হয় যদি এসব কিছুই মোট উচ্চতার ৬৪ ভাগের এক ভাগ আকারে আপনার সামনে আসে? গোটা পড়ার টেবিলের উচ্চতাই হয় এক ইঞ্চির একটু বেশি? শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।
নজরকাড়া বিভিন্ন সামগ্রীর ক্ষুদ্ররূপ হচ্ছে মিনিয়েচার। আর আমাদের দেশে এই মিনিয়েচার তৈরির কাজ করে 'আর্টমিস্ত্রী'।
মিনিয়েচার শব্দের বাংলা অর্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি ক্ষুদ্রকায় বা ক্ষুদ্রাকৃতি কোনো বস্তুকে নির্দেশ করে। মিনিয়েচারের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেশি থাকার মূল কারণও এর 'মিনি' আকার।
মনোবিদদের মতে, আমরা যখন ছোট, আদরণীয় কিছু দেখি তখন অক্সিটোসিন নামে একটি হরমোন নির্গত হয়। যার জন্য ছোট শিশু বা ক্ষুদ্র বস্তুর প্রতি ভালোলাগা কাজ করে।
আবার অনেকে মনে করেন, মিনিয়েচার শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। ছোটবেলার বিভিন্ন মুহূর্তকে এক নিমিষে চোখের সামনে নিয়ে আসে এটি। অনেকেই ছোট হাঁড়ি-পাতিল, পুতুলের ঘর, খেলনা দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন। ব্যক্তির মধ্যে থাকা শিশুমন ছাপিয়ে বেরিয়ে আসে। তাছাড়া সূক্ষ্ম কাজের কারণে মিনিয়েচারের প্রতি মানুষের নজরও বেশি থাকে।
বাংলাদেশে মিনিয়েচার নিয়ে কাজ করা গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম হলো আর্টমিস্ত্রী। এর কর্ণধার ইফাজ মোহাম্মদ ইসলাম জানান, গ্রাহকের চাহিদা অনুসারে ক্ষুদ্র আকৃতির বিভিন্ন সামগ্রী মানুষের দ্বারে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন তারা।
মিনিয়েচারের খ্যাতি বিশ্বজোড়া
মিনিয়েচারের সূত্রপাত আসলে কবে সে বিষয়ে বলতে গেলে একটু পেছনের দিকে যেতে হবে। অনেকের মতে, মিনিয়েচারের উৎপত্তি মিশরীয়দের হাত ধরে; তাও প্রায় ৫০০০ বছর আগে। সে সময় মিশরীয়রা তাদের পিরামিডের সমাধিতে স্থাপনের জন্য ছোট আকৃতির বিভিন্ন নৌকা, প্রাণী, চাকরদের প্রতিলিপি প্রস্তুত করতেন। এর পেছনে অবশ্য প্রাচীন মিশরীয়দের এক ধরনের বিশ্বাস কাজ করতো। তাদের ধারণা ছিল- এসব মিনিয়েচারকে মৃত ব্যক্তির সাথে পরবর্তী জীবনে যোগদান করার জন্য জীবিত করা হবে। মৃত্যুর পর ব্যক্তির যাতে কোনো কষ্ট না হয় তার জন্য মিশরীয়রা যত্নের সাথে প্রস্তুত করতেন বিভিন্ন মিনিয়েচার।
মিনিয়েচারের আরেকটি নিদর্শন হচ্ছে 'ডল হাউজ' বা পুতুলের ঘর। ডল হাউজ মিনিয়েচারের সূচনা হয়েছিলো ইউরোপে, প্রায় ৪০০ বছর আগে। সেসময় পুতুলের ঘরের মতো ছোট আকৃতির মিনিয়েচারগুলো কেবল শিশুদের জন্যই সীমাবদ্ধ ছিলো না। অতি যত্নে তৈরি করা 'ডল হাউজ' মিনিয়েচার তৎকালীন ইউরোপে স্থাপত্য শৈলীরও অংশ ছিলো। 'কেবিনেট হাউজ' হিসেবে পরিচিত এসব মিনিয়েচার সে সময়ের হল্যান্ড, ইংল্যান্ড, জার্মানির ধনীদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।
শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যেও সেসময় 'ডল হাউজ' মিনিয়েচার ব্যবহার করা হতো। ডল হাউজের মাধ্যমে ১৭ শতকে মায়েরা তাদের মেয়েদের গৃহস্থালী কাজকর্ম শেখাতেন।
জার্মানির নুরেমবার্গ শহরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত প্রচুর পরিমাণে মিনিয়েচার প্রস্তুত করা হতো। বলাইবাহুল্য, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ছাড়াও উত্তর আমেরিকাতে জার্মান মিনিয়েচারের ব্যাপক চাহিদা ছিলো। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর জার্মানির মিনিয়েচার শিল্পে ধস নামে। জার্মানিতে মিনিয়েচার তৈরি ও রপ্তানি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই সুযোগ নেয় জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ; শুরু করে মিনিয়েচার তৈরির কাজ। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উল্লেখযোগ্য মিনিয়েচার নির্মাতাদের মধ্যে রজার উইলিয়ামস টয়স, শোয়েনহাট, টুটসিটয় এবং উইসকনসিন টয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আর্টমিস্ত্রীর মিনিয়েচার
ইফাজ মোহাম্মদ ইসলামের মিনিয়েচারের প্রতি ভালোবাসা জন্মায় বনসাই থেকে। ছোট জিনিসের প্রতি ভালো লাগা থেকেই শুরু হয় মিনিয়েচারের জগতে ঢোকার হাতেখড়ি। আর এক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে করোনা মহামারির অফুরন্ত অবসর।
ইফাজ বলেন, 'করোনা যখন মাত্র আসলো, তখন একদিন বাজারে যাচ্ছিলাম। যাওয়ার পথে স্টেশনারি দোকানে চোখে পড়লো ছোট আকৃতির গাড়ি। তখন দেখে ভালো লাগার কারণে নিয়ে নেই। এমন কিছু করার পরিকল্পনা তখন ছিলো না; ঝোঁকের বশেই গাড়ি কিনে আনি।' স্টেশনারি দোকান থেকে গাড়ি বাসায় নিয়ে আসার পর শুরু হলো নতুন প্রচেষ্টা। ঘরের আনুষঙ্গিক সৌন্দর্যের সাথে ছোট গাড়িকে মিলাতে না পেরে নিজেই শুরু করেন সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য মিনিয়েচার তৈরির কাজ। প্রথম দিকে ঠিকঠাকভাবে কাজ করতে না পারলেও পরবর্তী সময়ে বিপুল অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে সফল হন তিনি।
ইফাজের মিনিয়েচার তৈরি শেখার মূল গুরু ইন্টারনেট। সেখানে শিখতে গিয়ে দেখতে পেলেন, দেশের বাইরে মিনিয়েচার নিয়ে অনেকে কাজ করেছেন। ইন্টারনেটে এমনই একসময় গ্যারেজের মিনিয়েচার চোখে পড়ে। গ্যারেজের ছোটরূপ দেখে প্রথম আগ্রহ জাগে নিজের মতন করে সৃষ্টি করার। ইফাজ জানান, 'সেসময় আমি খুঁজতে লাগলাম আমাদের দেশে কেউ এমন ধরণের কাজ করেন নাকি। এগুলোকে যে মিনিয়েচার বলে তখন এত ভালোমতো জানতামও না। তখন মনে হতো, এমন ছোট টাইপের কিছু যদি বানানো যায়। পরে আস্তে ধীরে কাজ শুরু করি। আমার প্রাথমিক ফোকাস ছিলো গাড়ির সাথে যুক্ত জিনিস বানানো। প্রথম দিকের কাজ খুবই বাজে ছিলো। এখন সেগুলো দেখে মনে হয় কী বানিয়েছিলাম সে সময়!'
২০২০ সাল পুরোটাই ইফাজ শেখার পেছনে সময় ব্যয় করেন। ২০২১ সাল থেকে গুরুত্ব সহকারে কাজ শুরু করেন তিনি। যখন থেকে নিজের কাজের খবর ফেসবুকে 'আর্টমিস্ত্রী' গ্রুপের মাধ্যমে জানান দেওয়া শুরু করেন, তখন অনেকেই নেয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মিনিয়েচারের কাজ যখন ভালোভাবে শিখে যান, তখন ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গ্রুপে যুক্ত হন কাজ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দেশের পাশাপাশি দেশের বাইরেও মিনিয়েচার সরবরাহ করা শুরু করেন তিনি।
সম্বল যখন দেশীয় উপকরণ
ইন্টারনেট দেখে কাজ শেখা শুরু করলেও ইফাজকে কাজ করতে হয়েছে পুরোপুরি দেশীয় উপকরণ দিয়ে। কারণ দেশের বাইরে থেকে উপকরণ আনা অনেকটাই কঠিন ব্যাপার ছিল তার জন্য। তাই প্লাস্টিকের যেসব জিনিস দেশে কিনতে পাওয়া যেতো, সেগুলোকেই গুছিয়ে কাজে ব্যবহার করা শুরু করেন ইফাজ।
ইফাজের আর্টমিস্ত্রীতে বিভিন্ন ধরণের মিনিয়েচার পাওয়া গেলেও মূল আকর্ষণ গাড়ি ও তার সাথে যুক্ত আনুষঙ্গিক জিনিস। গাড়ির গ্যারেজ তৈরির মূল ভিত্তি হিসেবে তিনি ব্যবহার করেন পিভিসি বোর্ড। তবে তার কাজে যেন কোনো রকম কৃত্রিমতার ছাপ না থাকে, সেটি মাথায় রাখেন। ইফাজের ভাষ্যে, 'পিভিসি বোর্ড বেস হিসেবে ব্যবহার করলে ভালোই লাগে, কিন্তু তা দেখে আসল বলে মনে হয় না। তাই আমি পিভিসি বোর্ডের উপর সিমেন্ট ঢেলে বেস বানাই।'
পিভিসি বোর্ড ও সিমেন্ট ব্যবহারের পর আসে ওয়েদারিং এর কাজ। সাধারণত কোনো বস্তুর মধ্যে পুরাতন ভাব বা ময়লা ভাব আনার জন্য ওয়েদারিং করা হয়। সময়ের সাথে সবকিছু পুরাতন হয়ে যায়, এই ভাব আনতেই ইফাজ দ্বারস্ত হয় ওয়েদারিংয়ের। তুলির মাধ্যমে ওয়েদারিং এর পর সম্পন্ন হয় মিনিয়েচারের কাজ। মিনিয়েচার মডেল তৈরির জন্য তিনি বেছে নেন মডেলিং ক্লে অথবা পলিমার ক্লে।
গ্রাহকদের কাছ থেকে গাড়ি ছাড়াও অন্যান্য মিনিয়েচার তৈরির নিয়মিত আবেদন পান ইফাজ। হ্যারি পটারের লাইব্রেরি থেকে শুরু করে ডল হাউজ তৈরি সবকিছুর অনুরোধ আসে তার কাছে। ইফাজ বলেন, 'এখন হ্যারিপটারের লাইব্রেরির মিনিয়েচার তৈরির কাজ চলছে লাইটিং দিয়ে।'
তবে শুধু গ্যারেজই নয়- মিনিয়েচার টেলিভিশন, বইয়ের তাক, পড়ার টেবিল, বিভিন্ন ডিজাইনের গাড়ি, ঝাড়ু-বেলচা এসবও শোভা পায় ইফাজের আর্টমিস্ত্রির আঙিনায়। মিনিয়েচারের উপরে যাতে ধুলো জমে পুরাতন না হয়, তার জন্য ইফাজ এক্রিলিক গ্লস কভার ব্যবহার করেন। গ্রাহক থেকে অনুরোধ এলে তিনি গ্লাস কভার তৈরি করে দেন।
মিনিয়েচারের যত মাপজোখ
মিনিয়েচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এর আকার। ইফাজ মূলত মূল সাইজের ৬৪ ভাগের এক ভাগ হিসেবে কাজ করেন। অর্থাৎ যে বস্তুরই মিনিয়েচার তৈরি করা হোক না কেন, তার মূল আকারকে ৬৪ স্কেলে ভাগ করে তারপর এক ভাগের আকারানুসারে তৈরি করা হয়।
ইফাজ জানান, 'ছোট স্কেলে কাজ করা ভীষণ কঠিন। স্কেল যত বড় হয়, কাজ করা তত সহজ হয়। মিনিয়েচার গাড়ি যারা সংগ্রহ করেন, তারা মূলত তিনটি স্কেল অনুসরণ করেন। একটা হলো ৬৪ স্কেল, একটা ৪৩ স্কেল আরেকটা ১৮ স্কেল। ৬৪ স্কেলে ভাগ করলে গাড়ির উচ্চতা আড়াই থেকে তিন ইঞ্চি হয়।'
সব ধরণের মাপজোখ শেষে অনেকসময় একেকটি মিনিয়েচার সামগ্রী তৈরি করতে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন মাস। তবে বেসিক রেঞ্জের মিনিয়েচার অর্থাৎ যারা একটু কম দামে মিনিয়েচার সংগ্রহ করবেন, তাদের জন্য সময় নেন ৭ থেকে ১০ দিন। যারা একটু প্রিমিয়াম গ্রাহক থাকেন, তাদের জন্য ছোট একটি গাড়ির মিনিয়েচার তৈরি করতেই অনেকসময় আড়াই মাস লেগে যায়।
সবসময় গ্রাহকের মনস্তত্ব বুঝে কাজ করেন ইফাজের আর্টমিস্ত্রী। তাই পছন্দ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ধরণের মিনিয়েচার থাকে তার ভাণ্ডারে। ইফাজ বলেন, 'অনেকে মনে করেন এত ছোট একটা জিনিস এত টাকা দিয়ে কেন কিনবো? তাই তাদের জন্য বেসিক লেভেলের জন্য আমরা স্টার্টার কিট রেখেছি। এরপর চাইলে প্রিমিয়াম নেয়ারও সুযোগ থাকে।'
ছোট বা বেসিক রেঞ্জের মিনিয়েচারের দাম শুরু হয় ৫০০ টাকা থেকে। যাদের মিনিয়েচারের প্রতি সদ্য আগ্রহ জন্মাচ্ছে, তাদের জন্যই আসলে এই দামের মিনিয়েচার প্রস্তুত করা হয়। সর্বোচ্চ ৭৫০০ টাকা পর্যন্ত মিনিয়েচার পাওয়া যায় আর্টমিস্ত্রিতে। দাম যত বেশি থাকে, কাজের মানও ততোই সূক্ষ্ম হতে থাকে।
রাজধানীর মিরপুরে নিজের বাসাতেই ইফাজ তৈরি করেন মিনিয়েচার। বাসার মধ্যেই আলাদা একটি ঘরকে বানিয়ে নিয়েছেন কারখানা হিসেবে। এলাকার কিছু ছোট ভাইকে হাতে ধরে শিখিয়েছেন কাজ। তাই অনেক সময় তারাও অবসর সময়ে বা কাজের চাপ থাকলে সাহায্য করতে আসেন ইফাজকে। ছবি তোলা থেকে শুরু করে এডিটিং সব কাজই ইফাজ নিজের হাতে করেন; ডেলিভারির কাজও বেশিরভাগ সময়ে নিজেই করে থাকেন।
মিনিয়েচার শিল্পের বর্তমান অবস্থা
মিনিয়েচারের জগতে প্রবেশের পর ইফাজ বুঝতে পারেন যে আমাদের দেশে মিনিয়েচার সংগ্রহ করার বড় জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের থেকেই নিয়মিত নতুন কাজ করার উদ্দীপনা পান।
তবে বিশ্ববাজারের মতো আমাদের দেশের মিনিয়েচারের বাজার এখনো সেভাবে সমৃদ্ধ হয়নি বলে মনে করেন ইফাজ। এমনকি দেশের গ্রাহক থেকে দেশের বাইরের গ্রাহকেরা ইফাজের কাছে বেশি আসে।তিনি বলেন, 'বাইরের দেশে মানুষের শখ থাকে ভালো একটি কিছু নিজেদের সংগ্রহে রাখার। তবে এমন নয় যে দেশের মানুষ সংগ্রহ করেন না, তারাও নেন। দেশীয় গ্রাহকেরাও বলেন, নতুন কিছু বানালে তাদেরকে আগে দেখানোর জন্য।'
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আর্টমিস্ত্রী পেজের মাধ্যমে মিনিয়েচার নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়ার পর মানুষের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ইফাজ। অনেকে তার কাছে শেখার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। আর্টমিস্ত্রীর কর্ণধার জানান, 'আমাদের দেশে চায়নার ক্রিস্টালের শোপিস বেশি পাওয়া যায়। বিশেষ করে ওয়ান টু নাইন্টি নাইন শপে, ছোট ছোট গিফট শপে এগুলো অনেক ভালো চলে। যেহেতু আমি আমার প্রোডাক্টকে সেসব দোকানে নিতে পারছি না, তাই মিনিয়েচার সম্পর্কে তেমন কেউ জানতেও পারছে না।'
ভবিষ্যত পরিকল্পনা
মিনিয়েচার বানানোর শুরু থেকেই ইফাজকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। মিনিয়েচার বানানোর প্রয়োজনীয় উপাদানের স্বল্পতা সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মনে করেন তিনি।
'বাইরের দেশে মিনিয়েচারের জন্য আলাদা সামগ্রী কিনতে পারা যায় আর আমাদের দেশে এর স্বল্পতা আছে বলে আক্ষেপ রয়েছে তার। মিনিয়েচার সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গভাবে জানেন এমন লোকের সংকট আমাদের দেশে রয়েছে, যা আসলে এই শিল্প সম্প্রসারণে অন্যতম বড় একটি সমস্যা।'
ইফাজের মতে, 'এখনো অনেকে মিনিয়েচারকে খেলনা মনে করেন, যেটি একটি ভুল ধারণা। মিনিয়েচার হলো বড় রূপের ছোট অংশ।'
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ইফাজের স্বপ্ন মিনিয়েচারকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার। যারা মিনিয়েচার নিয়ে কাজ করে তাদেরকে একত্রীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
নতুন কেউ মিনিয়েচারের জগতে আসতে চাইলে তার প্রতি কী বার্তা রয়েছে জানতে চাইলে ইফাজ বলেন, 'এখানে ধৈর্য অনেক বেশি প্রয়োজন হয়। ধৈর্য যদি কম থাকে, এক্ষেত্রে বরং হতাশা বেশি জন্মে। কারণ এখানে পদে পদে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। যদি নিজের আকাঙ্ক্ষা থেকে নতুন কিছু সৃষ্টি করার আগ্রহ জন্মে, তাহলে আমি বলবো এ জগতে আপনাকে স্বাগতম।'
