ওয়ার্নার-মার্শের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার রান পাহাড়
বিশ্বকাপে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩৬৮ রানের বড় লক্ষ্য দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার এবং মিচেল মার্শ তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। ওয়ার্নার ও মার্শের সেঞ্চুরির সঙ্গে রেকর্ড জুটিতে অস্ট্রেলিয়া চড়েছে রানপাহাড়ে। জিততে হলে পাকিস্তানকে নিজেদের গড়া রেকর্ড ভাঙতে হবে।
বেঙ্গালুরুতে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে হয়তো এখন মাথার চুল ছিঁড়ছেন বাবর আজম। যে উদ্দেশ্যে তার এই সিদ্ধান্ত, সেটি বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে তার দলের দিকেই।
দুই অজি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শ বেধড়ক পিটিয়েছেন পাকিস্তানি বোলারদের। সকালের সূর্য যদি দিনের পূর্বাভাস দেয়, তাহলে পাকিস্তানের কপালে যে এমন হতাশা লেখা ছিল তা ইনিংসের প্রথম বলেই বোঝা গেছে।
ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাট হয়ে বল লাগে প্যাডে, স্পষ্ট শব্দ শোনা যাওয়া সত্ত্বেও বোলার শাহিন আফ্রিদি অনেকটা জোর করেই বাবরকে দিয়ে রিভিউ নেয়ান। প্রথম বলেই এমন ছন্নছাড়া অবস্থার সুযোগই নিয়েছেন দুই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। এরপর ওয়ার্নারের ব্যক্তিগত ১০ রানে মুখে তুলে দেওয়া ক্যাচ ছেড়েছেন ওসামা মির। আর পেছন ফিরে তাকাননি বিধ্বংসী এই ব্যাটসম্যান। মার্শকে নিয়ে কচুকাটা করেছেন পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপকে।
দুজনে মিলে গড়েন ২৫৯ রানের জুটি। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটি এটিই। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় বড় উদ্বোধনী জুটি এটি। ওয়ার্নার তুলে নেন ক্যারিয়ারের ২১ তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। এরপরেই মার্শও ওয়ানডেতে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
এই জুটি ভাঙে শাহিন আফ্রিদির বলে মার্শ উসামা মিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হলে। ১০৮ বলে ১০ চার ও নয় ছয়ে ১২১ রান করেন মার্শ। অপরপ্রান্তে চালিয়ে যেতে থাকেন ওয়ার্নার। অবশ্য আরেক দিক থেকে খুব বেশি সহায়তা পাননি এই বাঁহাতি ওপেনার।
১২৪ বলে ১৪ চার ও নয় ছয়ে ১৬৩ রান করে হারিস রউফের বলে শাদাবকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওয়ার্নার। অজিদের বাকি ব্যাটসম্যানরা খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। যে কারণে একটা সময় ৪০০ রান করা সম্ভব বলে মনে হলেও অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থেমে যায় ৩৬৭ রানে। শেষ পর্যন্ত নয়টি উইকেট হারায় প্যাট কামিন্সের দল।
এমন মার খাওয়ার দিনেও নিজেকে ভাগ্যবান দাবি করতেই পারেন শাহিন আফ্রিদি। এই পাকিস্তানি বাঁহাতি পেসার নিয়েছেন পাঁচটি উইকেট। ১০ ওভার বল করে মাত্র ৫৪ রান দিয়েছেন তিনি। আরেক পেসার হারিস রউফ শুরুর স্পেলে দিশেহারা হলেও পরে ফিরে এসে তিনটি উইকেট তুলে নেন। আট ওভার বল করে ৮২ রান খরচা করেছেন তিনি।
