বার্সা শিবিরে ৭৪ বছরের পুরনো যন্ত্রণা
লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ, অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যানদের মতো ফুটবলার থাকা একটা দলের কতটা খারাপ অবস্থা হতে পারে? যেসব ফুটবল ভক্তের মনে এমন প্রশ্ন ছিল, শুক্রবার রাতে নিশ্চয়ই তারা উত্তর পেয়ে গেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মান স্রোতে নিমেষেই গুঁড়িয়ে গেছে বার্সেলোনার সব প্রতিরোধ।
বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৮-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেছে বার্সেলোনা। এই হারে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে গেছে কাতালানরা। করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে দ্রুততার সঙ্গে লিগ শেষ করার তাড়া থেকে এবার নকআউট পর্ব এক লেগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শেষ চারে ওঠার মিশনে বায়ার্নের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেনি স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ইচ্ছে হলেই বার্সার জালে বল পাঠিয়েছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। এতোগুলো গোল হজম করার অভিজ্ঞতা মেসি-সুয়ারেজদের ছিল না। এমনকি ক্রুইফ, রোমারিও, রোনালদো, পুয়োল, রোনালদিনহো, রিকেলমে, রিভালদোদেরও হয়নি এই অভিজ্ঞতা।
এই হারটি বার্সাকে নিয়ে গেছে ৭৪ বছর আগে। সেই ১৯৪৬ সালে 'দুই হালি' গোল হজম করেছিল কাতালানরা। এরপর আর এমন অভিজ্ঞতা হয়নি তাদের। পাওয়ার ফুটবলের আগুনে বার্সা শিবিরকে ঝলসে দিয়ে বহু পুরনো সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছেন থমাস মুলার-ফিলিপে কোটিনহোরা।
লা লিগা বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নয়, ১৯৪৬ সালের সেই ম্যাচটি ছিল কোপা দেলরের। সেভিয়ার বিপক্ষে খেলতে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বার্সার রক্ষণভাগ। মুলার-কোটিনহোর মতো করে বার্সার জালে গোল উৎসব করেছিলেন সেভিয়ার ফুটবলাররা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক লেগের কোয়ার্টার ফাইনাল জিতে শেষ চারে উঠে গেছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। বার্সার জালে গোল উৎসব করার ম্যাচে বায়ার্নের হয়ে দুটি করে গোল করেন থমাস মুলার ও ফিলিপে কোটিনহো। এ ছাড়া একটি করে গোল করেন ইভান পেরিসিক, সার্গে জিনাব্রি, জুসয়া কিমিচ ও রবার্ট লেভানোডোভস্কি।
