এআই প্রযুক্তির প্রসার ও ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্রে চীনের ‘সবুজ জ্বালানি’ পণ্য রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন
যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বর্ধনশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের অব্যাহত চাহিদা এবং ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জ্বালানি নিরাপত্তার উদ্বেগের মধ্যে দেশটিতে চীনের গ্রিন এনার্জি ও ব্যাটারি পণ্যের রপ্তানি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি যন্ত্রপাতির বৈশ্বিক চাহিদা বেড়ে যাওয়াও এই রপ্তানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
চীনের সাম্প্রতিক কাস্টমস তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এর মধ্যে আন-অ্যাসেম্বলড বা খুচরা ফটোভোলটাইক সেলের (সৌরবিদ্যুতের উপাদান) রপ্তানি—আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪৬ শতাংশ বেড়ে—৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার (৩৯.৯৬ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে এই পণ্যটির চালানের পরিমাণ বেড়েছে ৩৫৭ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে চীনের শীর্ষ পাঁচটি রপ্তানি পণ্যের অন্যতম লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রেও একটি দৃঢ় প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এই খাতের রপ্তানি মূল্য আগের বছরের চেয়ে ২০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৭৮ কোটি (৭৮০ মিলিয়ন) ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং পণ্য চালানের পরিমাণও প্রায় একই হারে বেড়েছে।
এছাড়াও লিড-অ্যাসিড ব্যাটারির রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর রপ্তানি মূল্য বার্ষিক ভিত্তিতে ১৫১ শতাংশ বেড়ে ৬৭ লাখ ২০ হাজার (৬.৭২ মিলিয়ন) ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে চালানের পরিমাণ বেড়েছে ২৫৩ শতাংশ।
গত শনিবার প্রকাশিত এই উপাত্ত এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন গত মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ প্রায় নয় বছরের মধ্যে কোনো দায়িত্বরত মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই ছিল প্রথম চীন সফর, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং নতুন করে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তি তৈরিতে সাহায্য করেছে। এর পাশাপাশি গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর—কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে কয়েক মাস ধরে চলা অচলাবস্থার কারণে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটও—এই রপ্তানি বাড়াতে কাজ করেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হতো।
সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (সিআরইএ)-এর সিনিয়র উপদেষ্টা শিনিয়ি শেন বলেন, মে মাসের এই রপ্তানি চিত্র একদিকে যেমন বাণিজ্য উত্তেজনা হ্রাসের স্বল্পমেয়াদী প্রভাবকে প্রতিফলিত করে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব জ্বালানি ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ চাহিদার বিষয়টিও ফুটিয়ে তোলে।
তিনি আরও বলেন, "একদিকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি নিয়ে এখনো এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। আর এই অনিশ্চয়তার কারণেই মূলত কিছু কোম্পানি ও ক্রেতা ভবিষ্যৎ ঝুঁকির কথা চিন্তা করে— আগেভাগেই পণ্য আমদানি করে নিচ্ছে কিংবা তাদের মজুত (ইনভেন্টরি) বাড়িয়ে রাখছে।"
